সিঁদুরশুদ্ধি
বংশ রক্ষার মিথ্যা দোহাইয়ে অপুর সাথে সাতপাঁকে বাঁধা পড়েছিল ছয় বছরের বালিকা বিদ্যা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক অমাবস্যার কালরাতে অপুর রক্তক্ষয়ী মৃত্যুর পর শুরু হয় দীর্ঘ পঁচিশ বছরের অপেক্ষা। এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনায় অভি নামের অচেনা যুবকের মাঝে কি বিদ্যা সত্যিই ফিরে পাবে তার হারানো অপুকে, নাকি রক্তের অভিশাপ তাদের আবার ঠেলে দেবে অন্ধকারের অতলে?
সিজন ১ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে (মোট ৫০ পর্ব)। উপন্যাসটির সকল পর্ব এখন কোনো সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই বিনামূল্যে পড়ার জন্য উন্মুক্ত।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
পুনর্জন্ম ও অবিনাশী প্রেম
পঁচিশ বছরের ব্যবধান ভেঙে শৈশবের না-বলা ভালোবাসা অলৌকিক বন্ধনে পূর্ণতা পাওয়ার রোমাঞ্চকর উপাখ্যান।
পিশাচলোক বনাম আধ্যাত্মিক লড়াই
কালো জাদু, সর্পজাতি ও শুভ্র আলোর পবিত্র শক্তির এক শ্বাসরুদ্ধকর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।
সম্পূর্ণ পর্ব বিনামূল্যে পড়ার সুবিধা
কোনো প্রকার পিডিএফ খোঁজাখুঁজির ঝামেলা ছাড়াই সূচিপত্র ধরে ব্রাউজারে সম্পূর্ণ ৫০টি পর্ব পড়ার সুবর্ণ সুযোগ।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5বিদ্যা ত্রিবেদী
নায়িকা (Protagonist)পিশাচ জননী বৃন্দার গর্ভজাত কিন্তু মানব পরিবারে লালিতকন্যা। বাল্যবিধবা ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্থপতি, যে পঁচিশ বছর ধরে অপু চ্যাটার্জীর স্মৃতিকে সিঁথির পবিত্রতায় আঁকড়ে রেখেছে।
অপু চ্যাটার্জী / অভিন্দ্র ভৌমিক (অভি)
নায়ক (Male Lead)বিলেতফেরত ডাক্তার অপু, যে শিশু বিদ্যার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক পরী-বংশের শক্তিশালী উত্তরাধিকারী ও আন্তর্জাতিক বাইক রেসার 'অভি' রূপে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে বিদ্যার অধিকার রক্ষায় অবতীর্ণ হয়।
বৃন্দা
বিদ্যার জন্মদাত্রী মাএক ক্ষমতাধর পিশাচ দেবী। কন্যার আত্মরক্ষার স্বার্থে নিজের শক্তি ও সত্ত্বাকে বিসর্জন দিয়ে আজীবন অশুভ অপশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছে।
দেবকী দেবী
অপুর জন্মদাত্রী মাতা ও মহাশক্তিসাধিকাহিমালয়ে সাধনাপ্রাপ্ত সন্ন্যাসিনী যোগিনী। ত্যাগ ও মাতৃস্নেহের এক অনন্য প্রতীক, যিনি বিদ্যা ও অপুর সুরক্ষায় নিজের সর্বস্ব সমর্পণ করেন।
লালপ্রভা ও ঋষি
মূল প্রতিপক্ষ (Antagonists)রক্তপিপাসু সর্প ও পিশাচ বংশের অধিপতি, যারা বংশপরম্পরায় বিদ্যার গুপ্ত মহাশক্তি হরণ করার আদিম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
50 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: সিঁদুরের দায় ও পুনর্জন্ম
বালিকা বধূ বিদ্যার জীবনে নেমে আসা অপুর অকাল প্রয়াণ, পঁচিশ বছরের একাকীত্ব এবং অভি ভৌমিকের আগমন ঘিরে অতিপ্রাকৃত রহস্যের সূচনা ও পরিসমাপ্তি।
অসময়ের রক্তিম বন্ধন
তীর্থের ঘাটে বাবার দেওয়া জীবনপণ অঙ্গীকারে মাত্র ছয় বছরের বালিকা বিদ্যাকে স্ত্রীর মর্যাদায় ঘরে তোলে পঁচিশ বছরের অপু। কিন্তু পরিবারের কলঙ্ক মোচনের নামে রাঘব যখন উদ্যত বটি হাতে ঘুমন্ত বিদ্যার গলায় কোপ বসায়, তখন কি বিদ্যার নিথর দেহ আসলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ল?
অলৌকিক আলোর আর্তনাদ
রাঘবের ধারালো বটি চিবিয়ে খেয়ে বাতাসে মিলিয়ে যায় এক অদ্ভুত ছায়ামূর্তি। এদিকে পরিবারের চরম লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হয়ে যখন গভীর রাতে চেনা ডাক শুনে উঠোন পেরিয়ে বিদ্যা একাকী গাছতলায় ছুটে যায়, তখন অন্ধকারের আড়ালে কার হিংস্র কণ্ঠ তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকল?
অমাবস্যার নাগিনী সংকেত
বৌদির ছদ্মবেশে এক বিশাল বিষাক্ত সাপের আক্রমণ থেকে রক্তিম নারী অবয়ব বিদ্যাকে রক্ষা করলেও শ্যামল দম্পতির উপর নেমে আসে অভিশপ্ত সর্পদংশনের দুঃস্বপ্ন। শেষ রাতে জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলোয় ভাসমান ডিম ও ডানাওয়ালা বামনের ধ্বংসলীলা দেখে বিদ্যা কি পারবে নিজেকে ধরে রাখতে?
অগ্নিবলয়ের রুদ্র পাহারা
শিমুল গাছের ঘুমন্ত প্রাচীন হিংস্রতাকে শিকলবন্দী করে পাঁচটি সোনালী ডিম আঁচলে তুলে নেয় বিদ্যা। কিন্তু অপুর অনুপস্থিতিতে রক্তপ্রভা শয়তান নারী যখন বিদ্যার প্রাণ সংহারে উন্মুক্ত ঘরে হানা দেয়, তখন ভাসমান খাটের কোণে অগ্নিবলয় রচনা করে কারা লড়তে নামল সেই পিশাচের বিরুদ্ধে?
কালসাপের রক্তঋণ
অপুর ছেলেবেলার এক ভুলের কারণে সাড়ে তিনশত বছরের জ্বীন সাপের বাচ্চা হত্যার বদলা নিতে অমাবস্যায় বিদ্যাকে বলিদানের চক্রান্ত ফাঁস করে রঘুনাথ। নিজের পরিবারের এমন পৈশাচিক ষড়যন্ত্রের মাঝে দাঁড়িয়ে প্রিয় বালিকাবধূকে বাঁচাতে গিয়ে অপুর শরীরে রক্তবমি শুরু হলে বিদ্যা কি করবে?
চৌষট্টি তন্ত্রের কুহেলিকা
১১ জন মহাশক্তিধর অঘোরী তান্ত্রিকের হাত থেকে বিদ্যাকে বাঁচাতে সুধারামের দেওয়া দুটি ভয়াবহ শর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় অপু। এদিকে রাতের আঁধারে যজ্ঞের আগুনে বিদ্যার ছায়ামূর্তি দেখে আতঙ্কিত মালতীর চোখের সামনে কোন অশরীরী শক্তির আগমন ঘটতে চলেছে?
মায়াবিনীর গুপ্ত পরিচয়
অপুর ঘরের কদমগাছের ডালে বসে থাকা চুরেল বৃন্দা প্রকাশ করে বিদ্যার জন্মরহস্য ও তার দ্বিতীয় মানবীয় সত্ত্বার অলৌকিক বিভাজন। তান্ত্রিকের রক্তপান ও লালপ্রভার পা কেটে নেওয়ার পর বৃন্দা কি পারবে আসন্ন অঘোরীদের সর্বনাশা আক্রমণ থেকে তার নাড়িছেঁড়া ধনকে রক্ষা করতে?
মহাশ্মশানের বলিদান ও শুভ্র আজান
যজ্ঞের অনলে বৃন্দার দেহ ভস্মীভূত হওয়ার পর লালপ্রভার বিষাক্ত ছোবলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অপু। ঠিক তখনই জুব্বাপরিহিত মুমিন জ্বীন গালিবের কণ্ঠে প্রকম্পিত পবিত্র আজানের ধ্বনিতে কি পিশাচের কবল থেকে মুক্ত হতে পারবে ছয় বছরের শিশুবিধবা বিদ্যা?
পঁচিশ বছরের নির্জন কান্না
দীর্ঘ পঁচিশ বছর অপুর ডায়েরি আর স্মৃতির চিতা বুকে চেপে রেখে একত্রিশ বছর বয়সে পা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরে সফল স্থপতি বিদ্যা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সহযাত্রী গাঢ় নীল চোখের রাশভারী তরুণ অভিকে দেখে কেন বিদ্যার বুকের ভেতর পুরোনো ঝড়ের প্রতিধ্বনি বেজে উঠল?
গিটারের সুরে নিষিদ্ধ নেশা
বাসার পারিবারিক আড্ডায় গিটারের তারে সুর তুলে ইংরেজী প্রেমের গানে সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে অভি। কিন্তু সবার সামনে ডাইনিং টেবিলে বিদ্যার পাশে বসে নিজেকে 'অভির রসগোল্লা' দাবি করে যে প্রচ্ছন্ন অধিকারবোধ সে দেখাল, তার আড়ালে কি শুধুই ছদ্মবেশ নাকি অন্য কোনো আদিম সত্য?
ছয় বছরের বালিকাবধূর সন্ধানে
ভেঙে যাওয়া ফোনের বদলে বিদ্যার বিছানায় দামি উপহার রেখে আড্ডার ছলে অভি ঘোষণা দেয়—সে বিবাহিত এবং নিজের হারিয়ে যাওয়া ছয় বছরের বালিকাবধূর খোঁজেই বাংলাদেশে এসেছে। গভীর রাতে ঘুমন্ত বিদ্যার কপালে আলতো স্পর্শ রেখে অভির দীর্ঘশ্বাস কি সত্যিই অতীতে সেতু বাঁধছে?
বুকে আঁকা গোপন মোহর
অভির খালি বুকের বামপাশে 'অভির বিদ্যা' লেখা উল্কি দেখে নিজের অজান্তেই আঙুল ছোঁয়ায় বিদ্যা, আর অমনি বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো গলার নিচে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে রক্তিম চক্র। নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে বিদ্যার সেই অসহ্য দহনযন্ত্রণা শুষে নেওয়ার পর কাবিরের সামনে অভি কেন প্রতিজ্ঞা করল বিদ্যাকে পাওয়ার?
রক্তাক্ত কাচ ও নিষিদ্ধ স্পর্শ
রান্নাঘরের নির্জনতায় বিদ্যার ঘাড়ে অভির গভীর স্পর্শে ক্ষুব্ধ হয়ে গরম খুন্তি ও কাঁচ দিয়ে অভির পায়ে রক্তাক্ত আঘাত হানে বিদ্যা। কিন্তু পা থেকে অঝোরে রক্ত ঝরা সত্ত্বেও যন্ত্রণাকাতর মুখে অভির এক অদ্ভুত উচ্চারণ—'তুমিই আমার সবকিছু' শুনে কেন শিউরে উঠল বিদ্যা?
কালরাতের অন্ধ শ্বাপদ
অফিসের নিচে দীর্ঘ সাত ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর বিদ্যার সহকর্মীর ওপর অভির হিংস্র রুদ্রমূর্তি দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় সবাই। কিন্তু রাতের নির্জন অন্ধকার রাজপথে শাস্তিস্বরূপ হাঁটার সময় চোখ-নাকবিহীন বুকের ওপর ভর দিয়ে আসা বীভৎস অশরীরী ছায়া দেখে বিদ্যার আর্তচিৎকারে কে তাকে টেনে তুলল বুকে?
নরবলির আসরে পৈশাচিক কুকুর
বিদ্যার জীবন্ত রক্তে পাতাল ভৈরবের নরবলি সাজাতে আসা সিদ্ধিকাপালির বিরুদ্ধে অগ্নিনেত্রা একদল প্রেত-কুকুর লেলিয়ে দেয় অভি। কিন্তু রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞের পর ব্যথায় টনটন করা ক্ষতবিক্ষত পায়ের ওপর প্রিয় অপুর ছায়া দেখে বিদ্যার মনে কোন সন্দেহের বীজ রোপিত হল?
স্কেচবুকে বন্দি শৈশব
ল্যাপটপের জটিল স্থাপত্য নকশা চোখের পলকে নিখুঁত করে দেওয়ার পর অভি যখন বিদ্যার নিজের আঁকা ছয় বছরের শৈশবের স্কেচ বের করে দেখায়, তখন বিদ্যার পায়ের নিচের মাটি কেন কেঁপে উঠল? ঠিক তখনই অভির ফোনে অচেনা বিকিনি পরিহিতা তরুণী ইনার সতর্কবার্তা কি কোনো নতুন বিপদের ইঙ্গিত দিল?
ধুতরা ফুলের অভিশাপ
লাখো ভক্তের চঞ্চল সুপারবাইক রাইডার অভির রুমে যখন তিন অতিথি সতর্ক করতে আসে, তখন বিদ্যার ঘরে শুভ্র চুলের পিশাচ রূপের ওপর চড়াও হওয়া রক্তমুখো ডাকিনীকে কীভাবে এক নিমিষে তাজা ধুতরা ফুলে রূপান্তরিত করল অভি? ভোরের বর্ষণমুখর বেদিতে বিদ্যার নুপুরের ছন্দ কার হৃদয় উথালপাথাল করে দিল?
বৃষ্টিভেজা উঠোনে সুরের শিকল
কাদার উঠোনে প্রাণবন্ত বৌ-চি খেলায় মেতে ওঠে সবাই, কিন্তু কাবিরের সাথে রিয়ার শব্দের লড়াই এবং শেষ মুহূর্তে কাবিরের পায়ে কাঁচ গেঁথে যাওয়ার পর ভেজা শার্ট বদলে রুমে ঢোকা অনাবৃত অভির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিদ্যার অবাধ্য দৃষ্টি কেন থমকে দাঁড়াল?
বোতামের সুতো ও বিষম ধাক্কা
অভির শার্টের বোতাম পরাতে গিয়ে বিদ্যার বুকের ভেতর যে তুফান উঠেছিল, টেবিলের নিচে শক্ত করে হাত চেপে ধরে সেই অধিকার আরও স্পষ্ট করে দেয় অভি। কিন্তু রাতে হাইওয়েতে বিদ্যার প্রত্যাখ্যানের পর হঠাৎই অভির তীব্র বাইক দুর্ঘটনার শব্দে বিদ্যার হৃৎপিণ্ড কি স্তব্ধ হয়ে গেল?
ঝাল ফুচকা ও অবাধ্য চুম্বন
দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে বিদ্যার গভীরতম ভালোবাসার স্বীকারোক্তি আদায় করে অভি। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে ঝাল ফুচকা খাওয়ার তীব্র জ্বালায় ছটফট করতে থাকা বিদ্যার লাল ঠোঁটে অভির অবাধ্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত গভীর চুম্বন কি তাদের মাঝে চিরদিনের মতো দেয়াল তুলে দিল?
বাপের ঘরের গোপন নালিশ
সাজিত যখন অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে সাধনার কাছে নিজের রক্ত বিদ্যার সত্যতা দাবি করে, তখন অভিমান ভাঙাতে কাবিরের বাড়ি পৌঁছে যায় বিদ্যা। কিন্তু বিছানায় অভির গালে একের পর এক মিষ্টি চুম্বনের মাঝে হঠাৎ ভিডিও কলে বাবার কাছে অভি যখন বিদ্যার থাপ্পড়ের বিচার চাইল, তখন বিদ্যার অবস্থা কী দাঁড়াল?
বৃষ্টির রিকশায় আধফোটা গোলাপ
কনকের ঈর্ষান্বিত চোখকে অগ্রাহ্য করে রিকশায় চেপে শহরের বুকে হারিয়ে যায় অভি ও বিদ্যা। পথশিশুদের কাছ থেকে ফুল কেনার পর বিদ্যার বাড়িয়ে দেওয়া আধফোটা লাল গোলাপটি হাতে নিয়ে অভি যখন বুঝতে পারল বিদ্যা তার মনের কথা আড়াল করছে, তখন কোন রহস্য দানা বাঁধল?
সাত লাখের গুপ্ত চুক্তি
অঞ্জনা ও মিতার বিষাক্ত বাক্যবাণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে সুধারাম তান্ত্রিকের কাছে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে অপুর ব্যবহৃত বস্তু দিয়ে মহাপূজার চুক্তি করে বিদ্যা। গভীর রাতে ফোনে অভির কাছে পুরোনো স্মৃতিমাখা সিঁদুরদানিটি পাঠানো কি অভির জন্য মহাবিপদের ফাঁদ হয়ে উঠল?
কর্ণপিশাচীর রক্তক্ষরণ
আয়নায় অভিকে আগুনে জ্বলতে দেখে নিজের মারাত্মক ভুল বুঝতে পেরে কাঁচ দিয়ে হাত কেটে রক্তের শেষ বিন্দু উৎসর্গ করে কর্ণপিশাচী দেবীকে তাড়িয়ে দেয় বিদ্যা। কিন্তু হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন বিদ্যার জীবনের বিনিময়ে টুইংকেল যখন সিঁদুরদানীর স্পর্শে অপুর আসল পরিচয় জানতে চাইল, তখন কী বের হয়ে এল?
ছাদনাতলায় অবাধ্য সিঁদুরদান
রক্তাক্ত পাথর ছোঁয়ায় অভির শক্তি ফিরে আসার পর ছায়ামূর্তি ভস্ম করে সোজা মণ্ডপে নিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যার সিঁথিতে সিঁদুর লেপে দেয় অভি। কিন্তু বাসরসজ্জার গোলাপের পাপড়িতে গা ছেড়ে দেওয়া নববধূর ক্রন্দনরত মুখে কার চোখের নোনা জল ঝরে পড়ল?
শশ্মানঘাটের নগ্ন বিভীষিকা
সিঁথির সিঁদুর ধুয়ে ফেলে অভিকে ব্ল্যাকলিস্টে রাখার শপথ নেয় বিদ্যা, কিন্তু অপুর কবরে সুধারামের পাঠানো দুই নগ্ন তান্ত্রিকের সামনে যখন জ্যান্ত লাশ উঠে দাঁড়িয়ে গলা চেপে ধরে, তখন সেই শ্মশানের বুকে কোন অলৌকিক রক্ষাকবচের ইঙ্গিত মিলল?
কাঁচের পাত্রে বন্দি আত্মা
অফিসে নতুন পদার্পণকারী হ্যান্ডসাম বস ঋষি সান্যাল ভেতরে ভেতরে লালপ্রভার সর্পপুত্র জেনে সতর্ক হয়ে ওঠে বিদ্যা। কিন্তু রাতের হাইওয়েতে অভির রোমাঞ্চকর রেসিংয়ের ঠিক পরেই ঘটা মারাত্মক দুর্ঘটনায় অভির নিথর দেহ দেখে বিদ্যার বুকে কি বজ্রাঘাত নেমে এল?
ডানামেলা রক্তের লড়াই
পিশাচ নাগরানী বিদ্যার অপবিত্রতার অপবাদ দিয়ে বিদ্যার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ঋষি। কিন্তু ক্ষুব্ধ অভির বিশাল পাখা আর চোখের নীল আলোর ঝলকানিতে লালপ্রভার হবু রাজা ঋষির রক্তাক্ত পরাজয়ের পর চ্যাটার্জী বাড়ির দরজায় কে পা রাখল বিদ্যার রূপ ধরে?
হিমশীতল জলের নাগপাশ
বিদ্যার ঘরে আগুন জ্বালানো ঘোড়ার খুরওয়ালা অশরীরীকে জলে পরিণত হয়ে ধ্বংস করে টুইংকেল। ওদিকে সংজ্ঞাহীন বিদ্যাকে নিজের বাংলোতে এনে গাঢ় সিঁদুর লেপে দিয়ে অভির আদরঘন আলিঙ্গনের মাঝেই মধ্যরাতে আগুনের শিকল হাতে কারা হানা দিল ঘরে?
কপালের রাজতিলক ও চিতার ভয়
অভির কপালের প্রাচীন রাজতিলক দেখে আতঙ্কে পালিয়ে যায় লালপ্রভা। সকালে বিদায় নেওয়ার আগে অঞ্জনা দেবীকে ভিডিও কলে অভি নিজের পরিচয় দিতেই ওপার থেকে শাশুড়ির আহাজারি—তাহলে কি এবার অপুর মাকেও নিজের কাছে টেনে নেবে অভি?
স্মৃতির অগ্নিকুণ্ড ও সাধিকার হুঙ্কার
সিঁদুরদানীর ছোঁয়ায় অতীতে গিয়ে নিজের বাল্যবিবাহ ও অপুর মৃত্যুকালীন স্মৃতি প্রত্যক্ষ করে অভি। ওদিকে অপুর কবরে সুধারামের অপকর্ম রুখতে বাঘের ছাল পরা এক ভয়ঙ্করী সাধিকার আবির্ভাব সুধারামকে কোন পরিণতির দিকে ঠেলে দিল?
গর্ভধারিণীর অশ্রু ও শ্মশান চিতায় মুক্তি
দেবকীর প্রেতসেনার আগুনে ভস্ম হয়ে যায় সুধারাম ও পাপন। পঞ্চাশ বছর পর নিজের গর্ভজাত মৃত পুত্র অপুর কবরে বসে সন্ন্যাসিনী দেবকী যখন বিলাপ করে নিজের অতীত পাপের কথা স্বীকার করল, তখন অপুর প্রকৃত পিতৃপরিচয়ের কোন রহস্য উন্মোচিত হল?
সাদা লেহেঙ্গায় ছাদের মাতলামি
রিয়ার বিয়ের আনন্দঘন আসরে বিধবা অপবাদে জর্জরিত হয়ে সাদা পোশাকে ছাদে গিয়ে ওয়াইনের বোতলে মাতাল হয় বিদ্যা। কিন্তু রেলিং থেকে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিয়ে অভির মুখে শ্যাম্পেন ছুড়ে মেরে বিদ্যা যখন তাকে বুকে টেনে নিল, তখন অভির প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
শুভদৃষ্টির আগুনে খইপোড়া
মাতাল অবস্থায় ছাদনাতলায় গিয়ে শর্মিষ্ঠাকে ধুয়ে দিয়ে শুভদৃষ্টির সময়ে অভির গায়েই ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেয় বিদ্যা। ঘরে নিয়ে বিছানায় জড়িয়ে ধরে ঘুমানোর পর মণ্ডপে কাবির-রিয়ার সিঁদুরদান পর্ব চলাকালে কনকের ঈর্ষাকাতর চোখে কার ছায়া ধরা পড়ল?
হাড়িকাঠের খেলা ও রাতের চিকেন
বাসর জাগার খেলায় প্রভাষের দাদুর চালাকি ফাঁস করে দেওয়ার পর রেগে যাওয়া অভিকে গভীর রাতে চিকেন রোস্ট খাইয়ে মানিয়ে নেয় বিদ্যা। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ কার আর্তনাদের অশরীরী সুর অভির কানে এসে আঘাত করল, যার জন্য বিদ্যার আলিঙ্গন ছেড়ে স্তব্ধ হতে হল তাকে?
রক্তপিপাসু ছায়ামূর্তির খাঁচা
শর্মিষ্ঠার আশ্রয়ে আসা বৃদ্ধা তান্ত্রিক বিদ্যার রূপ ধরে শ্যামল বাবু ও আয়ানের রক্ত চুষে নিয়ে কাজের মেয়ে আলতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরিবার যখন খুনি অপবাদে বিদ্যাকে শিকলবন্দী করে সকালের বলিদানের অপেক্ষা করছিল, তখন বারান্দায় শাড়ির রশি বেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিদ্যা কার সামনে পড়ল?
নদীর গভীরে সর্পসখা
শহরের ব্রিজ থেকে নিজেকে শেষ করতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া বিদ্যাকে পেঁচিয়ে ডাঙ্গায় তোলে এক মায়াবী শিশু-সাপ। ওদিকে রক্তখেকো বুড়ির ডানা ভেঙে আগুনে ভস্ম করে দেওয়া অভি যখন আপেল খাইয়ে সর্পশিশুর কাছ থেকে বিদ্যাকে উদ্ধার করল, তখন বিদ্যা কাকে দেখতে পেল শিয়রে?
সমুদ্রবালির বিষাক্ত তরল
কক্সবাজারের সমুদ্রতীরে অভির কেনা বিলাসবহুল উপহারে খালি সিঁথি রাঙালেও অভির অবহেলায় ক্ষোভে বিষাক্ত সবুজ তরল এক ঢোকে গিলে ফেলে বিদ্যা। কিন্তু নেশাগ্রস্ত চোখে ব্যালকনির কাঁচে কিস চাইতে গিয়ে আগুনের ঝলকানিতে অভি ছিটকে পড়তেই ঘরে কার আগমন ঘটল?
দেহখণ্ডের রুদ্র প্রতিশোধ
অভির রূপ ধরে অচেতন বিদ্যার ওপর চড়াও হতে যাওয়া ঋষিকে নিজ হাতে ধরে দুই টুকরো করে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে ক্ষিপ্ত অভি। বরফশীতল জলে বানমুক্ত করে বিদ্যাকে বিছানায় এনে অভির গভীর আদরের রাতে হঠাৎ কার পদধ্বনি ঘরে কাঁপন ধরাল?
রক্তক্ষয়ী বানের অভিশাপ
কক্সবাজারের বাসায় শাশুড়ী অঞ্জনা দেবীর সামনে উপস্থিত দেবকীর রক্ষা বাণ আর অশরীরীর আগুনের সংঘাত সরাসরি বিদ্যার বুক ভেদ করে চলে যায়। মুখ দিয়ে রক্তের ফোয়ারা নিয়ে নিথর হয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়া বিদ্যা কি আসলেই এই পৃথিবীতে নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল?
মায়ের চড় ও স্তব্ধ পুত্র
বিদ্যাকে বাঁচাতে কোনো তন্ত্র কাজ না করায় দেবকীকে আক্রমণ করতে যাওয়া অভিকে ঠাস করে চড় মেরে সত্য জানিয়ে দেয় দেবকী। দীর্ঘ তেইশ বছর পর জন্মদাত্রী মায়ের কোমর জড়িয়ে অভির ক্রন্দন আর ওদিকে ঢাকায় বসে রনকের দীর্ঘশ্বাসের মাঝে কোন অদৃষ্টের খেলা চলছিল?
দুই মায়ের মায়াযুদ্ধ
সমুদ্রসৈকতে অভির পরী-মা জুলিয়ার সাথে সন্ন্যাসিনী দেবকীর সন্তানকে ঘিরে এক রক্তক্ষয়ী মায়াযুদ্ধ বাঁধে। ওদিকে বিছানায় পড়ে থাকা বিদ্যার শরীরে পঞ্চমুখী সর্পের প্রজ্জ্বলিত আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা দেহটিকে কি কেউ বাঁচাতে পারবে?
পাঁচ সর্পের রুদ্র শপথ
চেনাবতী ডাকিনী পূজার যজ্ঞে বলি দিতে আনা বিদ্যাকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের সীমানায় রক্ষা করে সেই পঞ্চ সর্পভ্রাতা। নিজেদের মাকে চিনতে পেরে কনিষ্ঠ সর্পের ঘোষণায় তিনমাথা সাপের আসনে বসানো বিদ্যার ভেতর কোন অদম্য মহাশক্তি জাগ্রত হলো?
সর্পাসনে দেবীর মহিমা
সর্পাসনে বসে লালপ্রভাকে চিরতরে ভস্ম করে নিজের সমস্ত স্মৃতি আর অপুর ভালোবাসার স্পর্শ ফিরে পায় বিদ্যা। দেবকী মায়ের কাছ থেকে অপুর বর্তমান সংকট জেনে টুইংকেলের হাত ধরে অচেনা দূরদেশের বিলাসবহুল প্রাসাদে কেন পাড়ি দিল বিদ্যা?
পর্দার আড়ালে নিষিদ্ধ শ্বাসনালী
লন্ডনের প্রাসাদে ঘুমন্ত অভির ব্যালকনিতে হাজির হতেই জুলিয়ার উপস্থিতিতে পর্দার আড়ালে বিদ্যার মুখ চেপে ধরে নিষিদ্ধ নিঃশ্বাসে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় অভি। কিন্তু মায়ার সীমারেখা পার হতে গিয়ে শরীরে আগুন ধরে ছিটকে পড়া বিদ্যাকে কোন কঠিন বিপদের মুখে ঠেলে দিল অভি?
তুষারপাতের বুকে ভ্রূণহানি
বরফশীতল রাতে তুষারের ওপর বিদ্যাকে রক্ষা করতে আসা অভির সামনেই জুলিয়ার প্রচণ্ড ধাক্কায় পেটে আঘাত পেয়ে রক্তে ভেসে যায় বিদ্যা। চোখের সামনে নিজের প্রথম সন্তানের অকালমৃত্যু দেখে অভির আর্তচিৎকারে কি কেঁপে উঠল না সমগ্র মহাবিশ্ব?
কাঁচের জারে বন্দি জীবন
সন্তান হারানোর প্রতিশোধে উন্মত্ত বিদ্যাকে শেষ পর্যন্ত কাঁচের জারে বন্দী করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেয় অশ্রুসজল অভি। কিন্তু বনে কাঠের প্রাসাদে রাজহাঁসের পাহারা ভেঙে পাঁচ সর্পভাই যখন তাদের মাকে উদ্ধার করল, তখন ব্রিটিশ ডাক্তারের ছদ্মবেশে কার সামনে দাঁড়াল বিদ্যা?
শার্টের বোতাম ও চেনা গন্ধ
অভির অসাড় বাবাকে সুস্থ করার নামে প্রাসাদে ঢুকে অচেনা সাজার নাটক করলেও রুমে একা পেয়ে বিদ্যার পরনের পোশাক খুলে তাকে নিজের চেনা রূপ মনে করিয়ে দেয় অভি। দিদার সামনে অভি যখন বিদ্যাকে নিজের স্ত্রী দাবি করল, তখন বিদ্যা কেন বলল—সে তাদের চিতায় তুলতে এসেছে?
হিম সরোবরের অগ্নিশিখা
শাশুড়ি জুলিয়ার চরম অপমানে শশুর আশিষকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে বরফের জঙ্গলে নিজের সর্পসন্তানদের বাঁচাতে ছুটে যায় বিদ্যা। কিন্তু বরফ-অশরীরীর মায়াজালে জমে যাওয়া সর্পশিশুর জন্য কেঁদে ওঠা বিদ্যার ডাকে হলুদ স্ফটিকের মুকুট মাথায় পরে কোন অবতারে হাজির হল অভি?
সিঁদুরশুদ্ধির অনন্ত পূর্ণতা
হেমক লতার বিষপানে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছানো বিদ্যাকে বাঁচাতে পাহাড়ে বৃন্দার হাত থেকে নিজের বুকে ছিনিয়ে আনে অপুর অবিনাশী আত্মা। জন্মদিনের রাতে সবার সামনে বিদ্যাকে স্ত্রীর অধিকার দিয়ে অতীতের সব ক্ষত ধুয়ে ফেলে অভি ও বিদ্যার এই এক সমুদ্র প্রেম কি চিরন্তন শান্তিতে পূর্ণতা পেল?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
সিঁদুরশুদ্ধি (Sindurshuddhi) উপন্যাসটির মূল পটভূমি কী?
সিঁদুরশুদ্ধি উপন্যাসে মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
সিঁদুরশুদ্ধি উপন্যাসের লেখিকা কে?
সিঁদুরশুদ্ধি কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায় নাকি PDF ডাউনলোড করতে হবে?
অপু এবং অভি কি একই ব্যক্তি?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ