ছেঁড়া শাড়ির কান্না ও ঝড়ের রাতে সমর্পণ

6 মিনিট পড়া 864 শব্দ
ছেঁড়া শাড়ির কান্না ও ঝড়ের রাতে সমর্পণ

না,না!হবে না।

এভাবে চোখ বন্ধ করে রাখলে হবে না।

চোখ খুলো…..(সিয়াম)

__ মায়া চুপ….

কি হলো? চোখ’তো খুলবা নাকি???(সিয়াম)

__ মায়া তখনো চুপ।

মায়া…..

এবার কিন্তু বেশী হয়ে যাচ্ছে..?!!!??(সিয়াম)

_ মায়া ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো। সিয়াম মায়ার হাতে আঁচল’টা ধরিয়ে দিয়ে বলল নাও। এবার পরো। আমি আবার এসব শাড়ি-টাড়ি পরাতে পারি না। মায়া সিয়ামের হাত থেকে আঁচল’টা এনে শরীর ঢেকে নিয়ে বলল_

” রাত তো অনেক হয়েছে। আপনি বরং ঘুমিয়ে পরেন।”

সিয়াম মায়ার দিকে একনজর তাকিয়ে বলল,

ঠিক আছে, ঘুমাও।

তবে শাড়ি’টা পরলে ভালো হতো। দরকার হলে আমি বাহিরে চলে যেতাম কিছুক্ষণের জন্য। আর তাছাড়া খারাপ হলেও আমি এতটা খারাপ না যত’টা তুমি ভাবছ। আমি তো জাস্ট বধুরূপে তোমাকে একনজর দেখতে চেয়েছিলাম, এর বেশী আর কিছু নয়।??

আর তুমি কি না একটু বেশী’ই ভেবেছ…??

যাক, ব্যাপার না।✌✌ ঘুমিয়ে পরো।??

গুড নাইট….???

_ এই শুনোন…..(মায়া)

~কিছু’ই শুনতে চাই না এখন আর। ঘুমিয়ে পরো তাড়াতাড়ি।ঘুমের সময় যে চলে যাচ্ছে। যাও ঘুমাও। বাই।(সিয়াম)

_ আপনি নিচে কেন এখানে ঘুমান…(মায়া)

_ না।

খাট নয়, ফ্লোর’ই আমার জন্য উপযুক্ত স্থান।(সিয়াম)

__ আপনি এভাবে রাগ দেখাচ্ছেন কেন? আমি কি কোনো ভুল করেছি???(মায়া)

__ না,

তুমি কিসের ভুল করবা?

ভুল তো আমি করেছি।

আসলে আমার মনে’ই ছিল না তোমার-আমার সম্পর্ক অন্য ৮/১০টা সম্পর্কের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার তো মনে’ই ছিল না আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম তোমায় ছুঁবো না, স্পর্শ করব না। মাত্র’ই কথা’টা মনে হলো। তাই আর কি….(সিয়াম)

_ পুরনো কথা তুলছেন কেন আজ? ঐগুলো তো অতীত। যা গত হয়ে গেছে। আর যা গত হয়ে গেছে তা কেন টেনে আনছেন এভাবে? কেন নষ্ট হতে দিবেন সুন্দর মুহূর্তগুলোকে? (মায়া)

_ মায়া!

ঘুমাও তুমি। ???আমার ঘুম পাচ্ছে খুব….(সিয়াম)

__ আচ্ছা….??(মায়া)

সিয়াম বালিশ নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পরে। মায়া একহাতে ভর দিয়ে শুয়ে তাকিয়ে আছে সিয়ামের দিকে। মাঝ রাত্রে দমকা হাওয়ার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় সিয়ামের। জানালার দিকে তাকিয়ে দেখে জানালা’টা খুলা, আর বাইরের দমকা হাওয়ায় জানালা’টা বার বার এদিক-ওদিক যাচ্ছে আর জোরে আওয়াজ হচ্ছে। সিয়াম খাটে উঠে জানালা গুলো বন্ধ করে দিলো। জানালা গুলো বন্ধ করে দেওয়ার সময় সিয়াম লক্ষ্য করে খাটে কেউ নেই। সিয়াম যেন ভয় পেয়ে যায়।ঝড়-বৃষ্টির এই রাত্রে লাইট না জ্বালিয়ে অন্ধকারে কোথায় গেছে মায়া..???

আচ্ছা, বাথরুমে গেল না তো???

হয় তো….

সিয়াম দরজা’টা মেলে বসে রইল সোফায়। কখন মায়া আসবে সেই আশায় বসে আছে সিয়াম।

– কিন্তু একি???

৫মিনিট থেকে ১০মিনিট,

১০মিনিট থেকে ১৫মিনিট হয়ে গেল, মায়া আর আসছে না।

বাথরুমে গেলেও তো এতক্ষণ থাকার কথা না…

যায় দেখে আসি গিয়ে কোথায় গেছে মায়া…

কথা’টা বলে’ই সিয়াম রুমের বাইরে বের হয়ে গেল। বাথরুমসহ এ রুম ও রুম সব রুমে সিয়াম মায়া’কে খুঁজল। কিন্তু মায়াকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। তাহলে কি ছাদে গেছে?

এই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের রাত্রে ও কি ছাদে যাবে???

দেখে’ই আসি….

সিয়াম আর একমুহূর্তও দেরী না করে দৌঁড়ে গেল ছাদে। ছাদের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে একবার দেখে চলে আসছিল সিয়াম, তখন’ই সিয়ামের চোখ যায় ছাদের এককোণে। যেখানে জড়োসড়ো হয়ে একজন বসে কাঁপছে। সিয়ামের বুঝতে বেগ পেতে হলো না কে এটা? খুব শিগ্রয় সিয়াম বুঝে যায় এ হলো মায়া। ওর মায়াপরি। সিয়াম আর একমুহূর্তও দাঁড়াতে পারল না। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে’ই ছুটে চলল মায়াপরিটার দিকে। মায়ার সামনে গিয়ে__

” এত রাত্রে এখানে কি করছ এসব?!!!”….

মায়া একনজর সিয়ামের দিকে মুখ উঠিয়ে তাকালো, তারপর আবারো নিচের দিকে তাকালো।

__ কি বলছি শুনতে পাচ্ছো? নাকি কথা কানে যাচ্ছে না? ??(সিয়াম)

_ হু……???(মায়া)

_ হু কি? কথা বলতে পারো না?????(সিয়াম)

_ মায়া বেশ চুপচাপ…..

সিয়াম যেন এবার যেন বহুগুনে রেগে গেল। মায়ার দিকে রাগান্বিত মোডে তাকিয়ে বলল__

” এবার কিন্তু বেশী হয়ে যাচ্ছে…”

_ মায়া তখনো চুপচাপ বসে ঠান্ডায় কাঁপছে। সিয়াম এবার রাগে মায়াকে হ্যাচকা টানে বসা থেকে দাঁড় করিয়ে ফেলল। দু’জন দু’জনের দিকে তাকিয়ে আছে…..

এভাবে কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকার পর মায়া সিয়ামের হাতের দিকে তাকালো।

সিয়াম মায়ার দৃষ্টি লক্ষ করে মায়ার শরীর থেকে দু’হাত সরিয়ে নিল। তারপর__

” Sorry….”

মায়া:- স্যরি, কেন???

সিয়াম:- এই যে ছুঁয়ে দিলাম…

মায়া:- ওহ…

সিয়াম:- আবারো স্যরি। ভুল হয়ে গেছে।আর এমনটি হবে না কখনো…

মায়া সিয়ামের থেকে একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে__

” আপনি আমার হাজবেন্ড।আমায় ছুঁতে’ই পারেন। এর জন্য স্যরি বলার কোনো প্রশ্ন’ই উঠে না। আর তাছাড়া আমার কিন্তু মন্দ লাগেনি, ভালো’ই লেগেছে আমার পরশে। আর….(…)….

যাক….

আমি কিছু মনে করিনি।(একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) আপনি রুমে যান, আমি আসছি।”

__ আচ্ছা, তুমি আসো। আমি গেলাম।(সিয়াম)

সিয়াম চলে গেলে মায়া ছাদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালো। মনে মনে সিয়ামকে হাজার’টা বকা দিয়ে বুকে একরাশ অভিমান চেপে দাঁড়িয়ে রইল দুর অজানার দিকে তাকিয়ে…..

মনে মনে সিয়ামকে হাজার’টা বকা দিয়ে মায়া যখন ক্লান্ত ঠিক তখন’ই মায়া ওর পেটে একটা দারুণ পরশ অনুভব করে। মনে হচ্ছে কেউ যেন পিছন দিক দিয়ে কোমর’টা জড়িয়ে পেট ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

মায়ার ভিতর’টা অজানা এক শিহরণে শিহরিত হয়ে উঠল। ঠিক আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে’ই মায়া ইষৎ কেঁপে উঠে। এদিকে মায়ার কোমড় জড়িয়ে রাখা সিয়াম কোমড়ের দিক দিয়ে হাতটা মায়ার পেটের দিকে নিয়ে গিয়ে, মায়ার ঘাড়ে নাক ঘসতে থাকে। মায়া মুখ না দেখে’ই বুঝে গিয়েছিল এ সিয়াম। আর তাই তো মুখ না দেখে’ই বলে উঠে__

” কি করছেন?”

সিয়াম পিছন দিক থেকে মায়াকে আরো নিবিড় ভাবে জরিয়ে ধরে বলে উঠে__

” আমার বউ’টাকে আদর করছি…”

সিয়াম মায়াকে নিবিড় থেকে আরো নিবিড়তর করে জড়িয়ে ধরে। মায়া দু’চোখের পাতা আলতো করে বন্ধ করে সিয়ামের নিবিড় আলিঙ্গনে সাড়া দেয়। সিয়াম মায়াকে একটানে ওর দিকে ফিরিয়ে নেয়। তারপর একটু একটু করে মায়ার দিকে এগিয়ে যায়। সিয়াম প্রথমে দু’হাত দিয়ে মায়ার গলার পিছন দিক দিয়ে জড়িয়ে ধরে, তারপর নাকের সাথে নাক লাগালো, তারপর মায়ার ঠোঁটের খুব কাছে ঠোঁটগুলো নিয়ে যায়। অতঃপর….

অধ্যায় 31 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!