সিজন 1 অধ্যায় 4 ড্রামা আবেগঘন মুহূর্ত #ষড়যন্ত্র #মন ভাঙা #ভুল বোঝাবুঝি আনহা নাহিদ জান্নাত শাম্মি জাহিদ

অন্ধকারের বিষাক্ত ফাঁদ

লেখক: আভন্তিকা আনহা 11 মিনিট পড়া 1,732 শব্দ
অন্ধকারের বিষাক্ত ফাঁদ

নাহিদ ঢাকায় গেলো আর ভাবতে লাগলো কে এই মেয়ে আনহা নাকি তার পাশের বাড়ির মেয়েটা ।

.

নাহিদ এসব ভাবতে ভাবতে সময় পার করতে লাগলো ।

.

এদিকে শাম্মি আর জাহিদের প্রেম গভীর হতে লাগলো ।

.

১ মাস পর….

কোনো এক ছুটিতে আবার নাহিদের ফিরে আসা ।

.

নাহিদ আবার ওই পাড়ার ওদিক যায় । এবার নাহিদ খুঁজে পায় একজনকে কিন্তু সেই মানুষটা যে ভুল মানুষ সে বুঝতে পারে না ।

.

সেদিন জান্নাত দের বাড়িতে আনহা গিয়েছিলো কোনো এক কাজে । জান্নাতের বন্ধুরা ছিলো । তারা রিকোয়েস্ট করেছিলো আনহার গান শুনতে তাই আনহা গান গেয়েছিল । সেই সময়ই নাহিদ এসেছিলো ।

পরে সে জানালা দিয়ে জান্নাত কে দেখতে পায় আর ভাবে এটাই হয়তো তার এলোকেশী ।

.

.

দিন যেতে থাকে আর নাহিদ জান্নাতের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলে । জান্নাত মেয়েটা ওতোটা ভালো না । কিছুটা পাগল টাইপ । সাইকো ও বলা যায় । কিন্তু অন্য সময় ভালো থাকে ।

.

পরের দিন….

কলেজে

আমি আর শাম্মি বসে আছি । এমন সময় জাহিদ আসলো ।

আমি : কি রে রোমিও লেট কেন জানিস না তোর জুলিয়েট অপেক্ষা করছে

জাহিদ : না রে ঢংগি জানতাম না

আমি : দোস্ত একটা কাম কইরা দে না

জাহিদ : পারুম না

আমি : শাম্মি তোর বফ রে বল কইরা দিতে

জাহিদ : আইছে মেডাম নিজে কর

আমি : কিটক্যাট আইনা দে না শেষ হইয়া গেছে

জাহিদ : পারুম না

আমি : শাম্মি দেখ

শাম্মি : ওই আনহা যা বলছে করো নইলে ব্রেক আপ

আমি : হিহি থেংকু দোস্ত

জাহিদ : দুই বান্ধবী আম্রে শেষ কইরা দিবে আল্লাহ তুইলা নাও

আমি : আগে কিটক্যাট আইনা দে ।

.

.

জাহিদ কিটক্যাট আনতে গেল । এমন সময় নাহিদ আসলো জাহিদ কে কি জানি দিতে । আমি সেই টাইমে নাহিদ কে দেখলাম আর জাহিদ ভেবে টানতে টানতে শাম্মির কাছে নিয়ে আসলাম ।

.

আমি : হারামি আমার কিটক্যাট কই?

নাহিদ : মানে ?

শাম্মি : ওই তুমি না ওর কিটক্যাট আনতে গেলা কই কিটক্যাট ?

আমি : দ্বারা দেখাচ্ছি মজা ।

.

কিল ঘুসি মারতে লাগলাম নাহিদের গায়ে । আমি ভেবেছিলাম ওটা জাহিদ ।

এমন সময় জাহিদ আসলো আর বললো : কি রে কাকে মারিস ?

আমি : জাহিদ রে

জাহিদ : আমি তো এখানে

আমি : মানে ?

.

তাকায় দেখি ওটা জাহিদ

আমি ভুউউউউউউউত বইলা অজ্ঞান ।

.

জাহিদ : ওই নাহিদ তুই এখানে কেন ?

নাহিদ : তোকে এটা দিতে আসছিলাম আর এই মেয়ে আমাকে মারতে লাগলো ।

শাম্মি : এটা কে ?

জাহিদ : আমার যমজ ভাই নাহিদ তোমার ভাসুর হবে সালাম দাও

শাম্মি : আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া

নাহিদ : ওয়ালাইকুমআসসালাম

.

কিন্তু এই মেয়ে তো ভয়ে অজ্ঞান কি করবি ?

জাহিদ : তোর জন্য হইছে তুই দেখ

নাহিদ : ওকে উঠা

জাহিদ : আমার হাত ব্যাথা শাম্মি আসো আমি গাড়ি বের করি ।

নাহিদ : ওই ওই জাহিদ

.

হুর আমাকেই কোলে উঠাতে হবে ।

নাহিদ আমাকে কোলে তুলে নিলো ।

নাহিদ : বাহ পাতলু মেয়েরো ওজন আছে ভালোই ।

.

.

উঠাতে গিয়ে আমার চুল খুলে গেলো । নাহিদ দেখলো লম্বা চুল মেয়েটার একদম আমার এলোকেশির মতো । কিন্তু ও কেনো জানি চুল কেটে ফেলছে ।‌ ওকে বলবো চুল আর জেনো না কাটে । কিন্তু মেয়েটা বড্ড মায়াবি ।

.

এসব ভাবতে ভাবতে গাড়িতে নিলো আমাকে ।

বাড়িতে আনলো । তারপর আমার মুখে পানির ছিটা দিলো ।

আমার জ্ঞান ফিরলো ।

আমি : আমার কি হইছে ।

.

মনে পড়লো সব পাশে তাকায় দেখি জাহিদ আর নাহিদ । ভয়ে চিল্লায় উঠলাম ।

আমি : আম্মু ভুত

জাহিদ : আর জ্ঞান হারাইস না । এটা ভুত না আমার যমজ ভাই ।

আমি : কি?

শাম্মি : হুম

আমি : তো আগে বলিস নাই কেনো ?

এতোদিন ধরে আমি আন্দাজি ভয় পাইতাম ।

শাম্মি : হুম

.

.

সেদিন বিকেলে…..

আমি , শাম্মি , নাহিদ আর জাহিদ গেলাম বেড়াতে ।

আমি : ওই‌ জাহিদ যা তো কিছু কিনে আন ।

জাহিদ : ওকে নাহিদ চল ।

নাহিদ : হুম চল

আমি : না শাম্মি কে নিয়ে যা

জাহিদ : ওকে

নাহিদ : কেন আমিই তো যাইতে পারবো তোমরা থাকো

আমি : না না ওই‌ তোরা যা আমার নাহিদের সাথে জরুরী কথা আছে ।

নাহিদ : ও বলো

.

জাহিদ আর শাম্মি গেলো ।

.

নাহিদ : বলো কি বলবে ?

আমি : ওই গাধা নাকি আপনি ?

নাহিদ : কেনো ?

আমি : ওরা সময় কাটাবে একটু । তাই আমি ওদের পাঠালাম‌ আর আপনি সাথে যাচ্ছিলেন ।

নাহিদ : ও সরি আমি না বুঝি নি

.

বলেই হাসে দিলো ।

আমি : কিউট হাসি, মায়াবি চোখ সেই তো ( আস্তে বললাম )

নাহিদ : কিছু বললেন

আমি : না ও কিছু না ।

নাহিদ : হেহে তা কি করতে ভালোবাসেন

আমি : কিটক্যাট খাইতে , গান গাইতে আর বকবক করতে আপনি ?

নাহিদ : গান গাইতে একটু ।

আমি : তাহলে তো শুনাতেই হবে ।

নাহিদ : ওকে পরে

আমি : না না এখন নইলে কিন্তু কথা কমু না

নাহিদ : ওকে‌

.

“আমি তোমাকে আরও কাছে থেকে

তুমি আমাকে আরও কাছে থেকে ।

যদি জানতে চাও তবে ভালোবাসা দাও

ভালোবাসা নাও । ভালোবাসা দাও

ভালোবাসা নাও । “

.

আমি : বাহ সেই তো

নাহিদ : আপনাকেও গান গাইতে হবে তাহলে ।

.

এমন সময় জান্নাত এলো ।

জান্নাত : আরে নাহিদ তুমি

আর আনহা তুমিও আছো দেখছি ।

আমি : হুম তুমি একে চিনো ?

জান্নাত : হুম

.

নাহিদ , আমি আর জান্নাত অনেক সময় ধরে গল্প করলাম ।

.

জান্নাত আসলে নাহিদ কে পছন্দ করে । নাহিদও তাই চায় কারণ নাহিদ জানে তার এলোকেশি জান্নাত ।

.

দিন যেতে লাগলো আমি আর নাহিদ ভালো বন্ধু হলাম ।

আমি ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়লাম । কিন্তু নাহিদের অজানা সে তো জানে তার ভালোবাসার মানুষটি জান্নাত ।

আমার ডায়রির পাতা ভরতে থাকলো নাহিদের নামে ।

.

একদিন আমার ব্যাগ নাহিদ কে ধরতে দিছিলাম ফুল ছিঁড়ার সময় ।

এমন সময় নাহিদের হাত থেকে ব্যাগ টা পড়ে গেলো আর ডায়রি টা বেড়িয়ে এলো ।

.

নাহিদ কিছু পৃষ্ঠা পড়ে ফেললো ।

.

আমি ফুল পাড়িয়ে যেয়ে দেখি ও আমার ডায়রির পাতা পড়ছে ।

.

আমি জ্বলদি টেনে নিলাম ।

নাহিদ : আনহা তুমি যা চাও তা কোনোদিন হবে না ।

আমি : না মানে

নাহিদ : আমি জান্নাত কে ভালোবাসি

আমি অনেক পরিমাণ কষ্ট পেলাম কিন্তু কিছু বললাম না

শুধুই বললাম : ওহ

বলেই চলে আসতেছিলাম কিন্তু উষ্টা খেয়ে পড়ে যেতে লাগলাম আর নাহিদ ধরে ফেললো কিন্তু পমি তারাতারি চলে গেলাম ।

.

সেই‌ সময় জান্নাতও এটা দেখে ফেললো । আগেই বলেছিলাম তার মাঝে কিছু সাইকো টাইপ ভাব আছে । সে নাহিদকে একদম হারাতে চাইলো না । সে প্লান করলো যেন নাহিদ আমাকে একদম ঘৃণা করুক ।

.

.

পরের দিন জান্নাত কি একটা কারণে‌ আমাকে তার বাড়ি যেতে বললো । তার রুমে ধুকেই দেখি রুম অন্ধকার ।

আমি : জান্নাত কই তুমি

জান্নাত চাকু নিয়ে : তুমি আমার নাহিদ থেকে দূরে চলে যাও

আমি : আমি তো ওর কাছে যাই নি আপু

জান্নাত : মিথ্যা বলছো আমি দেখছি কাল তুমি ওর কাছে যাচ্ছিলা ।

আমি : ভুল ভাবছো তুমি ।

জান্নাত : না ভুল না

.

তোমাকে আমি থাকতে দিবো না । না না না ।

আমার দিকে এগুতেই আমি চাকুটা কেড়ে নিলাম কিন্তু এমন সময় নাহিদ এসে আমাকে চর মারলো ।

.

.

নাহিদ : নির্লজ্জ , সাইকো মেয়ে । তুমি এতো বাজে । কেনো মারতে আসছো ওকে কি করছে ও । আমি কোনোদিন তোমাকে ক্ষমা করবো না ।

.

জান্নাতের যে এটা প্লান ছিলো আমি বুঝলামও না ।

.

আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এলাম । আমার জীবনের কোনো বিষয়ই শাম্মির কাছে লুকাই নি ।

সাথে সাথে কাঁদতে কাঁদতে শাম্মি কে ফোন দিলাম ।

.

শাম্মিকে সবটুকু জানালাম ।

শাম্মি : একটু দ্বারা আমি আসতেছি জাহিদকে নিয়ে এখনি তুই কাঁদিস না

আমি : জ্বলদি আয় দোস্ত খুব কষ্ট হচ্ছে ।

.

জান্নাত এতেও থেমে থাকে নি । আমি বাড়ি ফিরার কিছু সময় পর নাহিদ আমার মা কে বলে আমি নাকি পাগল ইত্যাদি । জান্নাত সায় দেয় এতে ।

.

জান্নাত যে একটু সাইকো ধরনের আমরা সবাই জানতাম এমনকি জান্নাতের পরিবারও । কিন্তু এমন পরিস্থিতি ছিলো আম্মুও আমাকে ভুল বুঝলো । সেখানে আব্বুও ছিল ।

.

.

সেদিন আব্বু আম্মু লজ্জিত বোধ করেছিলো কিছুটা ।

পরে তারা আমাকে খুব বকলো ।

শেষে মা বললো : কেনো যে তোকে জন্ম দিলাম ?

মরে গেলেই ভালো হতো ।

.

আমি সামান্য জেদ নিয়ে চলি । তাই তারাতারি রুমে গিয়ে রুম বন্ধ করে নিলাম ।

.

ওদিকে জান্নাত : তুমি আমাকে কখনো ছেড়ে যেও না

নাহিদ : যাবো না

জান্নাত : চলো না আমরা বিয়ে করে ফেলি তাহলে কেউ আর আমাদের আটকাতে পারবে না । নাহলে ওই আনহা আমাকে মেরেই ফেলবে

নাহিদ : আচ্ছা চলো

.

নাহিদ জান্নাতকে ভরসা করে ফেলছিলো ।

.

এমন সময় শাম্মি আর জাহিদ আসলো ।

নাহিদ : তোমরা আসছো । জানো কি ওই আনহা কতোটা বাজে ।

শাম্মি : দাড়ান ওর ব্যাপারে কিছু বলার কোনো অধিকার নাই আপনার

নাহিদ : মানে

জাহিদ : তুই যা দেখছিস কীভাবে বুঝলি যে ওটাই সত্য

নাহিদ : তুই জান্নাত কে জিজ্ঞেস কর

.

জান্নাত কিছুটা ভয়ে : হ্যা হ্যা আনহা আমাকে মারতে চাইছে ।

শাম্মি : কেনো মারতে চাইছে ?

জান্নাত : কারণ নাহিদ আর আমি একে অপরকে ভালোবাসি

শাম্মি : তাই

জান্নাত : হুম

শাম্মি : আচ্ছা জান্নাত তোমার কি জানি একটা রোগ‌ আছে না ?

জান্নাত : না মানে

শাম্মি : অনেক হয়েছে আর মিথ্যে না নাহিদ ভাইয়া শুনুন আনহা কিছুই করে নি । আপনি যা দেখছেন তাই বিশ্বাস করছেন । দ্বারান এক মিনিট

.

শাম্মি জান্নাতের মা কে ফোন করে জানালো ।

জান্নাতের মা ভালো করেই জানে জান্নাতের সব সমস্যা ।

.

সে নাহিদ কে সরি বললো আর জান্নাতের সমস্যা সম্পর্কে জানালো ।

সব শেষে জান্নাতও স্বীকার করে নিলো ।

.

নাহিদ : ছি তোমাকে কতো ভালোবাসলাম আর তুমি এতোটা মিথ্যুক ।

.

শাম্মি : জাহিদ চলো আনহার কাছে ও অনেক ইমোশোনাল । কিছু করেও ফেলতে পারে ।

.

ওরা তিনজন আমার বাড়িতে এলো ।

নাহিদ আমার আম্মু ও‌ আব্বুর কাছে ক্ষমা চাইলো ।

.

তারাও ক্ষমা করে দিলো ।

.

সবাই আমাকে ডাকতে লাগলো কিন্তু আমি সেই সময়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছি ।

.

সব সময়ের আমার আপন ছিল ফুপি তাই ফুপিকে ফোন করে সব বললাম । ফুপিও তার কাছে ডাকলো ।

রুমে একটা চিঠি ছাড়ছিলাম,

“আচ্ছা যা দেখা যায় তাই কেনো বিশ্বাস করে সবাই । আমি তো কিছুই করি নি । তবুও সবার চোখে খারাপ হলাম । আমাকে খুঁজবে না কেউ চলে গেলাম ।‌”

.

চিঠিটি পড়ে সবাই কাঁদতে লাগলো । কিন্তু সেই সময় ফুপি জানালো আম্মু আব্বু কে সব ।

তারা একটু স্বস্তি ফিরে পেলো ।

.

সবাই নিজের বাড়ি চলে গেলো । কারণ শাম্মি জানে আমি ফিরে‌ আসবো ।

.

নাহিদ নিজেকে অনুতপ্ত ভাবা শুরু করলো ।

অধ্যায় 4 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!