সিজন 1 অধ্যায় 41 ড্রামা ট্র্যাজেডি #হতাশা #অসহায়ত্ব #দূরত্ব তিরা যাদিদ রেহানা আলম

অনাগত প্রাণের নীরব হাহাকার

3 মিনিট পড়া 420 শব্দ
অনাগত প্রাণের নীরব হাহাকার

দুশ্চিন্তায় অস্থিরতায় সারারাত ঘুমাতে পারেনি তিরা। সকালে রিপোর্ট পজেটিভ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল। এবার আর যাদিদ রাগ করে থাকবে কীভাবে? এত বড় সমস্যার এত সহজ সমাধান হতে পারে তা সে কল্পনাও করেনি।

অনেকবার ফোন করার পরেও যাদিদ ফোন ধরলো না। উপায় না দেখে তিরা মেসেজ দিল, “একটা সুখবর দেব। আজকে অন্তত একবার কথা বলো।” কিন্তু পুরো একটি দিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও যাদিদের কোনো রিপ্লাই পাওয়া গেল না। অবশেষে তিরা বাধ্য হয়েই খবরটা মেসেজে দিলো। লিখলো, “আমি প্রেগন্যান্ট যাদিদ। তুমি বাবা হচ্ছো। তোমার বাচ্চা আমার পেটে। তোমার সন্তানের মাকে মাফ করে দেবে না তুমি?”

যাদিদ মেসেজটা দেখে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। তার মনে হলো এটা তিরার কোনো চালাকি নয়তো? সাথে সাথে ফোন করল মাকে,

“মা সময় পেলে আজ তিরাকে নিয়ে একটু ডাক্তারের কাছে যেয়ো তো।”

“ওমা আজ সকালেই তো ডাক্তারের কাছ থেকে এলাম। মা বাচ্চা দুজনেই সুস্থ আছে আলহামদুলিল্লাহ। এখন আবার যেতে হবে কেন? তিরা তো আমাকে কোনো অসুবিধার কথা বলল না।”

যাদিদ অবাক হয়ে বললো,

“ওহ ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলে! বাচ্চার কথা শুনে আমি ভাবলাম তিরা আন্দাজেই বলছে কিনা।”

“না টেস্ট করিয়েছি। তিরা তো খুশিতে পাগলের মত করছে। কংগ্রাচুলেশনস বাবা।”

“থ্যাংক ইউ মা। তিরার খেয়াল রেখো।”

“অনশ্যই, তুই কোনো চিন্তা করিস না।”

খবরটা শুনে যাদিদের খুশি লাগছে, অন্যরকম এক অনুভূতি হচ্ছে কিন্তু সে তিরার সাথে কথা বললো না। যেরকম চলছিল সেরকমই চলতে লাগলো। তিরা এই ঘটনায় যারপরনাই অবাক হলো। প্রতিদিনই অসংখ্য ফোন ও মেসেজ দিতে লাগলো। কোনোটারই কোনো ফিডব্যাক নেই। তিরার খুশি কোথায় হারিয়ে গেল! আবার আগের মত হয়ে গেল। ঘুমাতে পারে না, ঠিকমতো খেতে পারে না! দুঃসহনীয় এক জীবন পার করতে লাগলো!

কয়েক মাস পর যাদিদ একটা চিঠি পেল। তিরার নাম দেখেই অস্থির হয়ে খুলল যাদিদ। তিরা লিখেছে..

যাদিদ,

জানিনা একটা মিথ্যে অত বড় পাপ কিনা যত বড় শাস্তি তুমি আমাকে দিচ্ছো। নাকি আমার অতীত তোমার কাছে তুলে ধরায় আমি আরো খারাপ হয়ে গেছি? তোমার বাচ্চা আমার পেটে যাদিদ। আমার কথা না ভাবো, বাচ্চার কথা একবার ভাবো। বাবার উদাসীনতায় মায়ের পেটের ভেতর বেড়ে উঠছে ও। কতবড় হতভাগ্য সন্তান ও! ওর কী দোষ যাদিদ? পাপ তো আমি করেছি তাইনা? শাস্তিও আমার একার পাওয়া উচিৎ। ওকে কেন শাস্তি দিচ্ছো? কেন ওর কোনো খোঁজখবর নাও না তুমি? কেন একবার জানতে চাও না ও কতবড় হয়েছে? ও ছেলে নাকি মেয়ে? কেন ওকে নিয়ে ওর বাবা মায়ের মধ্যে একটা কথাও হবে না? নাকি আমার মত ওর প্রতিও তোমার কোনো আগ্রহ নেই?

-তিরা

পড়ার পর চিঠিটাতে একটা চুমু দিল যাদিদ। তারপর ভাঁজ করে টেবিলের ড্রয়ারে রেখে দিল।

যথারীতি চিঠির কোনো উত্তর পেলো না তিরা। হতাশায় ডুবে গেল আবার। এবার তিরা যাদিদকে ফোন করাও ছেড়ে দিল। দুনিয়ার কারো কাছে ওর আর কিছু চাওয়ার নেই।

অধ্যায় 41 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!