রোমান্টিক ডাক্তার
পারিবারিক নির্যাতন আর অনাথ জীবনের নির্মম বাস্তবতায় পিষ্ট তিলোত্তমার জীবনে আচমকা ধূমকেতুর মতো আগমন ঘটে তরুণ চিকিৎসক কাব্যের। প্রথম দেখাতেই এক পাগলাটে ভালোবাসা আর সীমাহীন অধিকারবোধে তিলোত্তমাকে নিজের করে নেয় সে। কিন্তু কাব্যের অন্ধকার অতীত, বিষাক্ত প্রাক্তন প্রেমিকা আর অতীতের গোপন ভাঙন কি তাদের এই প্রেমকে টিকে থাকতে দেবে, নাকি তিলে তিলে ধ্বংস করে দেবে তিলোত্তমার সাজানো স্বপ্ন?
রোমান্টিক ডাক্তার উপন্যাসের ১ম সিজন মোট ৩০টি পর্বে সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ গল্পটি এখন কোনো ফি ছাড়াই অনলাইনে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত।
গল্পের বিশেষত্ব ও হাইলাইটস
মেডিকেল ও গভীর রোম্যান্স
জরুরি চিকিৎসার টানাপোড়েন থেকে শুরু করে প্রথম দেখায় তীব্র প্রেমের উন্মাদনা।
অতীতের চক্রান্ত ও ব্ল্যাকমেইল
সম্পত্তির লোভ, সাজানো নোংরা অপবাদ এবং প্রতিশোধের ভয়ংকর জাল ছিন্ন করার রোমাঞ্চকর লড়াই।
ভাঙা পরিবারের পুনর্মিলন
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, ভুল বোঝাবুঝি এবং পিতা-মাতার সাথে সন্তানদের হারানো বাঁধন ফিরে পাওয়ার হৃদয়স্পর্শী গল্প।
প্রধান চরিত্রসমূহ
5তিলোত্তমা (তমা)
নায়িকা (Protagonist)বাবা-মা হারা শ্যামবর্ণের আত্মমর্যাদাশীল এক তরুণী। মামির কঠোর অত্যাচার সহ্য করেও সততা ও পারিবারিক মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা এক সংবেদনশীল নারী।
কাব্য চৌধুরী (ডাক্তারবাবু)
নায়ক (Male Lead)মেধাবী ও সুদর্শন চিকিৎসক। মুখে রাশভারী হলেও তিলোত্তমার প্রতি অন্ধ ও বেপরোয়া ভালোবাসায় নিবেদিত; নিজের ভেতরে বয়ে বেড়ায় শৈশবের পারিবারিক ভাঙনের দগদগে ক্ষত।
তিশা
প্রধান সহচর (Best Friend)তিলোত্তমার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বান্ধবী ও বোনের মতো ছায়াসঙ্গী। বিপদে-আপদে তিলোত্তমার ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
আরশি (তিন্নি)
খলনায়িকা (Antagonist)তিলোত্তমার মামাতো বোন এবং কাব্যের স্বার্থপর প্রাক্তন প্রেমিকা। লোভ, ঈর্ষা আর অন্ধ আক্রোশে যে কারো জীবন তছনছ করতে দ্বিধাহীন।
হিয়া
সহায়ক চরিত্র (Sister)কাব্যের আদরের ছোট বোন। ভাইয়ের অতিরিক্ত শাসন ও অতীতে হারিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের বিষাদে কিছুটা অভিমানী।
সূচিপত্র ও সিজনসমূহ
29 টি অধ্যায়
প্রথম খণ্ড: চিকিৎসকের প্রেম ও চক্রান্তের জাল
কক্সবাজারের সমুদ্রতীর থেকে শুরু হওয়া এক পাগলাটে ভালোবাসা, অতীতের ষড়যন্ত্র এবং আত্মমর্যাদার কঠিন অগ্নিপরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ আখ্যান।
প্রথম দেখায় ডাক্তারবাবু
কক্সবাজারের বালুচরে মুক্ত হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে এসে এক পথশিশুর রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়ে তিলোত্তমা। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে এসে ইমারজেন্সির দায়িত্বে থাকা অদ্ভুত চিকিৎসক কাব্যের মুখোমুখি হতেই বদলে যায় সবকিছু। রোগীর সামনেই অবলীলায় ভালোবাসার অধিকার চেয়ে বসা এই ডাক্তারের পাগলামি কি শুধুই ক্ষণিক মোহ, নাকি তিলোত্তমার নিয়তির শুরু?
রাতের আঁধারে নির্মম চক্রান্ত
হাসপাতালের কেবিনে কাব্যের নিখাদ আদর আর বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বস্তি পেলেও তিলোত্তমার মাথায় ঘুরপাক খায় কাব্যের পিতা-মাতাকে ঘিরে তৈরি রহস্য। কিন্তু বাসায় ফিরতেই আড়ি পেতে সে শোনে এক পৈশাচিক ষড়যন্ত্র—মামি তাকে পতিতালয়ের দালালের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে! নিথর রাতে একা রাস্তায় জ্ঞান হারিয়ে কি বিলীন হয়ে যাবে তিলোত্তমার অস্তিত্ব?
ভোরের আলোয় ব্যাকুল আহ্বান
বাসায় ফিরতেই তিলোত্তমার ওপর চেপে বসে মামির জবরদস্তিমূলক বিয়ের সিদ্ধান্ত। ক্ষোভে-অপমানে সারারাত ফোন বন্ধ রেখে ভোরে শিশিরভেজা বাগানে নামাজ শেষ করতেই বেজে ওঠে অচেনা নম্বর। অপরপ্রান্ত থেকে ভেসে আসা কাব্যের পাগলের মতো ব্যাকুল কান্না কি তিলোত্তমার মনের শক্ত দেয়াল ভেঙে দেবে?
বাধ্যবাধকতার অদৃশ্য ফাঁদ
সম্পত্তির লোভে তিলোত্তমাকে এক অপরিচিত পাত্র তানভীরের হাতে তুলে দিতে আজ রাতেই বিয়ের আয়োজন চূড়ান্ত করে ফেলে মামি। মৃত মামার দিব্যি দিয়ে অবলা মেয়েটিকে বন্দী করে ফেলা হয় নিরুপায় এক অচলাবস্থায়। যার মোহ ভেবে নিজেকে দূরে রেখেছিল তিলোত্তমা, সেই কাব্যের কথা ভেবে আজ তার বুক ভেঙে চুরমার হচ্ছে কেন?
রক্তের টানে রক্তিম স্বীকারোক্তি
তিশার আকস্মিক দুর্ঘটনায় বিয়ের আসর ছেড়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে রক্তের প্রয়োজনে তিলোত্তমা সরাসরি মুখোমুখি হয় কাব্যের। কক্সবাজারের পাট চুকিয়ে তিলোত্তমার জন্য ঢাকায় বদলি হয়ে আসা কাব্য যখন বন্ধ ঘরে ছুরি হাতে ভালোবাসার প্রমাণ চায়, তখন কি নিজের গোপন অনুভূতি আর চেপে রাখা সম্ভব?
একাকী নীড়ে পরম আশ্রয়
শহরের কোলাহল ছেড়ে দূর প্রান্তের এক নির্জন বাড়িতে কাব্যের কোলে চোখ খোলে তিলোত্তমা। কাব্যের পরা শার্ট গায়ে জড়িয়ে এক অদ্ভুত মায়াময় রাতে আলমারির কোণে দেখা মা-বাবার পরিত্যক্ত ছবি কি কাব্যের অন্তরের দগদগে ক্ষতের দ্বার উন্মোচন করবে?
নতুন ঠিকানায় নিষিদ্ধ রহস্য
কাব্যের পরিবারের উষ্ণ অভ্যর্থনা আর ভালোবাসায় মুগ্ধ তিলোত্তমা নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগের রাতে স্টোররুমের তালাবদ্ধ দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই কাব্যের রুক্ষ বাধা আর হুঁশিয়ারি কি এক অজানা বিপদের ইঙ্গিত দেয়?
চাঁদের আলোয় ভাসমান বাসর
শপিং মলে শুভ্রার রহস্যময় বিষাক্ত হাসি আর শুভাকাঙ্ক্ষী সাজার ইঙ্গিত উপেক্ষা করে বিয়ের পিঁড়িতে বসে তিলোত্তমা। বাসর ঘরে কোনো ফুলের ছোঁয়া না দেখে হতাশ হলেও মাঝনদীতে নৌকার বুকে গোলাপের পাপড়ি আর জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধ আলোয় কাব্য যে স্বর্গ রচনা করে, তা কি তার ভাগ্যকে চিরদিনের মতো বদলে দেবে?
অধিকারের প্রকাশ্য লড়াই
বৌভাতের জমকালো আসরে আমন্ত্রিত শুভ্রা সবার সামনে কাব্যকে নিজের করে নেওয়ার বিষোদ্গার ছুঁড়ে দেয়। তবে চুপ না থেকে কাব্যের বুকে অধিকারের প্রকাশ্য ঘোষণা দেয় তিলোত্তমা। শুভ্রার প্রতিহিংসার মুখে শাওয়ারের পানির নিচে দু'জনের ভালোবাসার বাঁধভাঙা প্রকাশ কি তাদের সম্পর্ককে আরো মজবুত করবে?
গোপন ঘরের বিষাদের সুর
কাব্য বাইরে যেতেই স্টোররুমের তালা খুলে পুরনো ট্রাঙ্কে মায়ের লাল বেনারসি খুঁজে পায় তিলোত্তমা। কিন্তু রাতে ছাদের অন্ধকারে কাব্যের গিটারের বিষাদময় সুর আর ফারাবীর এক চমকপ্রদ সত্য উন্মোচন—তারা কেউ রক্তের ভাই নয়! কাব্যের শৈশবের দগদগে ক্ষতের আড়ালে ঠিক কোন সত্য চাপা পড়ে আছে?
এক কোটি টাকার নির্মম সত্য
মাঝরাতে স্ত্রীর বুকে মাথা রেখে মা-বাবার ভাঙা সংসারের দুঃসহ স্মৃতি প্রকাশ করে কাব্য। কিন্তু সেই কান্নার রেশ কাটতে না কাটতেই শুভ্রার এক বিষাক্ত ফোনকলে সব ওলটপালট হয়ে যায়—মামির হাত থেকে এক কোটি টাকায় কিনে আনা হয়েছে তিলোত্তমাকে! ভালোবেসে বিয়ে নয়, শুধুই কেনাবেচার পণ্য হিসেবে টিকে থাকা কি মেনে নেবে তিলোত্তমা?
অপমানের আগুনে দগ্ধ বিশ্বাস
তীব্র জ্বর আর অপমানের তীব্রতায় মামির বাসায় গিয়ে সত্যিটা যাচাই করে ভেঙে পড়ে তিলোত্তমা। শুভ্রাকে ফোন করে নিজের স্বামীকে তার হাতে তুলে দিয়ে শহর ছেড়ে চিরতরে চলে যাওয়ার চরম সিদ্ধান্ত নেয় সে। ফ্লোরে বসে কাতর হওয়া কাব্যের অশ্রু কি তিলোত্তমার এই অগ্নিগিরিকে শান্ত করতে পারবে?
চক্রান্তের মুখে ভালোবাসার চড়
ডিভোর্সের নাটক সাজিয়ে শুভ্রাকে মামির বাসায় ডেকে এনে তার গালে সশব্দে একের পর এক চড় বসিয়ে দেয় তিলোত্তমা। তিশার মেসেজে উন্মোচিত হয় কাব্যের আত্মত্যাগের আসল রূপ—দালালের হাত থেকে তিলোত্তমাকে বাঁচাতেই সেই চরম পদক্ষেপ নিয়েছিল সে। সব ভুল বোঝাবুঝি শেষে তাদের দাম্পত্যে কি ফিরবে পূর্ণ শান্তি?
ছায়ার আড়ালে মৃত্যুবার্তা
স্বামীর মিষ্টি খুনসুটিতে ভরা সংসারে রিকশাভ্রমণের মধুর বিকেল আচমকা কালো মেঘে ঢেকে যায়। বাজারের ভিড়ে আর রিকশার পেছনে এক ছায়ামূর্তি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—হানিমুনে গেলে তাদের প্রাণ হারাতে হবে! মধ্যরাতে ফোনে আসা সেই রক্তহিম করা হুমকি বার্তা কি আসন্ন মৃত্যুর সংকেত?
উৎসবের ছাদে রক্তাক্ত অন্ধকার
কক্সবাজারের হাসপাতালের ছাদে তিলোত্তমার জন্মদিনের আলো ঝলমলে আয়োজন নিমিষেই জাহান্নামে পরিণত হয়। মিউজিকের উচ্চ শব্দের আড়ালে অন্ধকারে একা পেয়ে তিলোত্তমার মাথায় ও পেটে উপর্যুপরি ভারী আঘাত হানে সেই অচেনা দুর্বৃত্তরা। মাটিতে লুটিয়ে পড়া রক্তাক্ত তিলোত্তমা কি বাঁচাতে পারবে তার অনাগত সন্তানকে?
না-ফোটা কুঁড়ির অকাল বিদায়
আইসিইউর নিস্তব্ধতায় দু'দিন পর জ্ঞান ফিরে কাব্যকে জায়নামাজে লুটিয়ে কাঁদতে দেখে তিলোত্তমা। কিন্তু ক্ষতের ব্যথার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে আসে চিকিৎসকের গোপন রিপোর্ট—পেটের আঘাতে চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে তাদের প্রথম সন্তান! এই নির্মম অপূরণীয় ক্ষতির দায়ভার কে নেবে?
অচেনা শত্রুর বিষাক্ত হুমকি
গভীর রাতে কাব্যের ফোনে আসা এক নারীর রহস্যময় কল শুনতেই তিলোত্তমার বুক কেঁপে ওঠে—খোঁজার চেষ্টা করলে এবার হিয়ার প্রাণ যাবে! হিয়ার সুরক্ষায় কাব্যের অগোচরে নাম্বার ডিলিট করলেও হিয়ার সূত্রে তিলোত্তমা জানতে পারে কাব্যের একটি লুকানো ডায়েরির অস্তিত্ব। সেই ডায়েরির পাতাতেই কি লুকিয়ে আছে এই বিষাক্ত শত্রুর আসল পরিচয়?
ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে আদরের পরশ
হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরে কাব্যের প্রতিটি ভালোবাসাময় যত্নে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পায় তিলোত্তমা। কিন্তু মধ্যরাতে ডিম লাইটের আলোয় একা বসে কাব্যের ডায়েরি লেখার দৃশ্য দেখে জেগে ওঠে তার সংকল্প। ডায়েরিটা কি শেষ পর্যন্ত তিলোত্তমার হাতে ধরা দেবে?
গোপন লাইব্রেরির বন্ধ কপাট
রাস্তায় হিয়ার ওপর আকস্মিক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পুরো পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অজানা সেই নারী ফোনের ওপার থেকে এবার সরাসরি তিলোত্তমাকে ধ্বংসের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। বাধ্য হয়ে মাঝরাতে অয়নের সাহায্যে বুকশেলফের পেছনের গুপ্ত দরজায় পা রাখে তিলোত্তমা—ভেতরে থাকা ডায়েরিগুলোতে কী এমন সত্য আছে?
ডায়েরির পাতায় অশ্রুভেজা অতীত
লাইব্রেরির টেবিলে থাকা ডায়েরির পাতা ওল্টাতেই তিলোত্তমা আবিষ্কার করে তার প্রতি কাব্যের অতল ভালোবাসা আর সন্তান হারানোর বুকফাটা হাহাকার। কিন্তু একটি পাতায় হঠাৎ ভেসে ওঠে পুরোনো এক নাম—'আরশি'! আর ডায়েরির কোণে থাকা একটি গোপন ঠিকানা কি তাদের বিচ্ছিন্ন পরিবারকে এক করার পথ দেখাবে?
ঠিকানার খোঁজে অচেনা বিপদ
হিয়ার বিয়ের প্রস্তাব ঠিক করতে সবাই ব্যস্ত থাকার সুযোগে অয়নকে সাথে নিয়ে সেই অজ্ঞাত ঠিকানায় রওনা হয় তিলোত্তমা। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই শুভ্রার বিষাক্ত ফোন আর সেই পুরোনো মুখোশধারী গুন্ডাদের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। অয়নের হাত ধরে ভয়ার্ত দাঁড়িয়ে থাকা তিলোত্তমাকে ঘিরে এবার কি নতুন কোনো ফাঁদ পাতা হচ্ছে?
সন্দেহের কালো মেঘের ছায়া
দুর্বৃত্তরা কোনো আঘাত না করে ফিরে গেলেও আসল চালটা বোঝা যায় বাসায় ফিরে। শুভ্রার পাঠানো অয়নের হাত ধরে থাকার ছবি দেখে প্রচণ্ড সন্দেহে অন্ধ হয়ে ওঠে কাব্য। যার ভালোবাসাকে আকাশের মতো বিশ্বাস করত তিলোত্তমা, সেই স্বামীর এমন নোংরা সন্দেহের জবাবে তার আত্মসম্মান কি আর সেখানে টিকে থাকতে দেবে?
বহু বছর পর পিতার বুকে
ভুল বুঝতে পেরে মাঝরাতে তিলোত্তমার পায়ে পড়ে নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয় কাব্য। আরশির বিষাক্ত অতীতের সব সত্য স্ত্রী মেনে নিলেও তাকে শর্ত দেয়—বাবার কাছে ফিরতে হবে। পরদিন ভোরে তিলোত্তমার হাত ধরে বহু বছর পর পিতার বুকে ভেঙে পড়া কাব্যের এই মিলনে সব ক্ষোভ কি মুছে যাবে?
অপূর্ণ সংসারের এক চিলতে আলো
পিতাকে ফিরে পেয়ে হিয়া ও কাব্যের পরিবারে খুশির জোয়ার বইলেও অপূর্ণ থেকে যায় মায়ের শূন্যতা। বাবার দেওয়া তথ্যের ওপর ভর করে হাসপাতালে ছুটে গিয়েও জানা যায় মা হুমায়রা চৌধুরী চাকরি ছেড়ে বদলি হয়ে গেছেন। তবে কি কখনোই পূর্ণতা পাবে না তাদের এই সংসার?
মুখোশের আড়ালে আরশির আবির্ভাব
হিয়ার বিয়ের আগের দিন বাড়িতে পা রাখে তিলোত্তমার মামাতো বোন তিন্নি। কিন্তু তাকে দেখেই পরিবারের সবার চোখেমুখে নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া—কারণ এই তিন্নিই কাব্যের কুখ্যাত প্রাক্তন 'আরশি'! ছাদের রেলিংয়ে আরশিকে কাব্যের হাত শক্ত করে ধরে বুকে মাথা রাখতে দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় তিলোত্তমা। চোখের সামনের এই দৃশ্য কি সত্যি?
সাজানো নোংরামির মিথ্যা ফাঁদ
আরশির অতল বিষাক্ত রূপ ক্রমশ স্পষ্ট হয়—ফারাবীর বউকে সন্তানহীন করার পেছনেও ছিল তার হাত। নিজের ঘরে ঢুকতেই কাব্য ও আরশিকে বিচ্ছিন্ন হতে দেখে এবং কাব্যের শার্টে লিপস্টিক আবিষ্কার করে ক্রোধে কাব্যের গালে চড় বসায় তিলোত্তমা। পরক্ষণেই শুভ্রার পাঠানো অর্ধনগ্ন ছবিগুলো কি তিলোত্তমার সকল বিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিল?
দুর্ঘটনার আঁধারে রক্তমাখা ভোর
রান্নাঘরে তিলোত্তমার হাত কাটা আর আত্মত্যাগে কাব্য তার ভালোবাসা দেখালেও গভীর রাতে হাসপাতালের মিথ্যে কলে আরশির বিছানায় গিয়ে পৌঁছায়। শহরের বাইরের বাড়িতে অয়নকে সাথে নিয়ে কাব্যকে অন্য নারীর বিছানায় অচেতন অবস্থায় আবিষ্কার করে তিলোত্তমা। ভোরবেলায় একা রাজপথে এলোমেলো হাঁটতে থাকা মেয়েটিকে একটি দ্রুতগামী গাড়ি সজোরে উড়িয়ে দিলে কি সব শেষ হয়ে যাবে?
নতুন প্রাণের গোপন আগমন
হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে আসতেই তিলোত্তমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ডাক্তার আর কেউ নয়—স্বয়ং কাব্যের হারিয়ে যাওয়া মা হুমায়রা চৌধুরী! তিনিই জানান তিলোত্তমা আবার মা হতে চলেছে। এদিকে শুভ্রা অনুতপ্ত হয়ে আরশির ইনজেকশন দিয়ে কাব্যকে অচেতন করার অডিও প্রমাণ তুলে ধরে। কিন্তু ফোনে কাব্যের মুখ দেখতে না চাওয়ার কঠোর বাক্য কি চিরতরে দূরে ঠেলে দেবে তাদের?
সব অভিমান শেষে সুরের মিলন
থানায় আরশির নিজের মুখে চক্রান্তের স্বীকারোক্তি শুনে তিলোত্তমা ফিরে আসে বিয়ের আসরে। ছাদের রেলিংয়ে বিষের বোতল আর গীটার হাতে আত্মহত্যার অভিনয় করা কাব্যকে গর্ভের সন্তানের কথা জানিয়ে বুকে টেনে নেয় সে। মায়ের ভালোবাসায় বাবার মিলনে এবং কোলে নতুন অতিথির আগমনের আশায় কাব্যের গীটারে অবশেষে কি বাজবে জীবনের চিরন্তন রোমান্টিক সুর?
কোনো অধ্যায় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
রোমান্টিক ডাক্তার (Romantic Doctor) উপন্যাসটির মূল কাহিনী কী?
রোমান্টিক ডাক্তার উপন্যাসে মোট কয়টি পর্ব রয়েছে?
রোমান্টিক ডাক্তার উপন্যাসটির লেখিকা কে?
রোমান্টিক ডাক্তার কি বিনামূল্যে অনলাইনে পড়া যায় নাকি PDF ডাউনলোড করতে হবে?
রোমান্টিক ডাক্তার উপন্যাসটির কি সিজন ২ আসবে?
পাঠক রিভিউ ও রেটিং
0 টি রিভিউ · 0 জন পাঠক
0 টি রিভিউ