লাইব্রেরির একাকী নীরবতা

লেখক: সুলতানা তমা 6 মিনিট পড়া 881 শব্দ
লাইব্রেরির একাকী নীরবতা

তাসিনের দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছি ও দিব্যি হাসছে

–রাগ করেনা সোনা বউ

–আমি তোমাকে খুন করবো

–এখনি করবা নাকি যখন আশেপাশে কেউ থাকবে না তখন

–তাসিন

–হ্যা বল বউ

–দূর

ওর চোখের সামনে থেকে চলে আসলাম, ক্লাসে বসে আছি

–অরনী রাগ করছিস কেন

–কার উপর রাগ করবো যার মা বাবা নেই তার তো কিছুই নেই

–ভাইয়া তোকে সত্যি ভালোবাসে

–হুম জানি

–তাহলে এমন করছিস কেন

–তাসিনের বাবা যে খুনি না সেটার কোনো প্রমান নেই আমার কাছে চাচ্চু তাসিন কে মেনে নিবে না আর চাচ্চু তো আমার সব উনাকে কষ্ট দেই কিভাবে

–তারমানে তুইও ভাইয়া কে ভালোবাসিস

–ভালোবাসি কিনা জানিনা কিন্তু ওর প্রতি কেমন যেন মায়া কাজ করে আমি আর এই মায়া বাড়াতে চাইনা

–প্লিজ কান্না করিস না

–হুম

–ভাইয়া আসছে ক্লাসে যদি কান্না করিস ভাইয়া কিন্তু কষ্ট পাবে

তাসিন রুমে ঢুকার আগেই চোখের পানি মুছে নিলাম, সবাই ওর সাথে হাসছে কথা বলছে এসব আমার ভালো লাগছে না আব্বু আম্মুর কথা খুব মনে পরছে ইচ্ছে হচ্ছে চিৎকার করে কাঁদি, ক্লাসে মনোযোগ নেই কিন্তু তাসিন যে ভালো ভাবে ক্লাস নিচ্ছে সেটা সবার মনোযোগ দেখেই বুঝা যাচ্ছে, তাসিন ক্লাস নিচ্ছে আর বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে

ক্লাস শেষে শিলা আর আমি বাইরে একটু হাটতে বেরুলাম হঠাৎ পিছন থেকে তাসিন ডাক দিল

তাসিন: অন্নি এদিকে এসো

আমি: কেন

তাসিন: আসতে বলছি আস আর শিলা তুমি একটু দাড়াও এখানে

আমি: আরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ

তাসিন আমার হাত ধরে টানতে টানতে লাইব্রেরিতে নিয়ে আসলো

–এখানে এনেছ কেন

–এখানে কেউ নেই তাই

–মানে

–ক্লাসে কান্না করছিলে কেন

–এমনি

–তুমি এমনি কাঁদবা কেন

–তাতে তোমার কি

–আমার কি তাই না

–তাসিন আমার দিকে এগুবে না ভালো হবে না কিন্তু

–চুপ (তাসিন আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আমার ঠোটে ওর ঠোট ডুবিয়ে দিলো, অনেক্ষণ পর আমাকে ছেড়ে চেয়ারে গিয়ে দফ করে বসে পরলো, আমি এখনো পাথরের মূর্তির মতো দেয়ালের কাছে দাঁড়িয়ে আছি একটু সময়ের মধ্যে তাসিন কি করে ফেললো ভাবছি)

–অন্নি সরি

–(নিশ্চুপ)

–তুমি কাঁদলে আমার খুব কষ্ট হয় তোমাকে তো আর মাইর দিতে পারবো না তাই এই কাজ করলাম এখন থেকে যতবার কাঁদবা ততোবার তোমার ঠোট আমার ঠোট দিয়ে চুষে খাবো

–(নিশ্চুপ)

–অন্নি তোমার চোখে পানি কেন আমি কিন্তু আবা….. (ওর কথা আর না শুনে দৌড়ে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে আসলাম)

শিলা: কাঁদছিস কেন

আমি: হোস্টেলে চল

শিলা: কিন্তু ক্লাস

আমি: তুই কর আমি যাই

শিলা: হয়েছে কি

আমি: যাই

আর এক মুহূর্ত দেরি না করে হোস্টেলে চলে আসলাম, ফোনটা হাতে নিলাম চাচ্চুকে বলবো আমাকে যেন এসে নিয়ে যায় কিন্তু চাচ্চুকে ফোন দেওয়ার আগেই তাসিন ফোন দিল কেটে দিলাম, বার বার কল দিচ্ছে আর আমি কেটে দিচ্ছি হঠাৎ মেসেজটোন বেজে উঠলো “কাঁদলে কিন্তু তোমার রুমে চলে আসবো আর হ্যা ভুলেও তোমার চাচ্চুর কাছে যাওয়ার চিন্তা করো না আমার অনুমতি ছাড়া তোমাকে এই হোস্টেল থেকে কেউ বের করতে পারবে না” মেসেজটা পড়ে হাসব নাকি কাঁদবো ভেবে পেলাম না, আমি এখন চাচ্চুর কাছে যেতে পারবো না কাঁদতেও পারবো না কতোটা পরাধীন হয়ে গেলাম, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এখন নিজেই কষ্টে ভুগছি, হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো চাচ্চুর কল রিসিভ করবো কিনা ভাবতে ভাবতে রিসিভ করে ফেললাম

–হ্যালো

–কিরে মা তোর কোনো খুঁজ নেই ফোন বন্ধ

–আমার মোবাইল নষ্ট ছিল কেমন আছ তোমরা

–তোর কোনো খুঁজ নেই আমরা ভালো থাকবো কিভাবে (আমি ছাড়া যে চাচ্চু ভালো থাকে না আমি নাকি তাকেই ভুলে যাবো, তাসিনের উপর খুব রাগ হচ্ছে)

–কিরে মা চুপ হয়ে আছিস কেন

–এমনি ছোট মা কোথায়

–বাসায় আমি একটু বাইরে এসেছি তুই কথা বলছিস কেউ দেখবে নাতো

–চাচ্চু আমি হোস্টেলে উঠেছি

–কেন

–সামনে পরিক্ষা

–কিন্তু

–সমস্যা নেই আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি ছোট মা কে বলো বাড়িটা আমার নামে লিখিয়ে নিয়েছি

–সত্যি

–হ্যা

–এখন শুধু বাকি আছে বাংলোটা আর দুইটা কোম্পানি

–এগুলা বাধ দাও না চাচ্চু আমার সম্পত্তি চাইনা

–এইগুলার মুল্য কতো তোর কোনো ধারনা আছে

–সম্পত্তি দিয়ে কি হবে আব্বু আম্মুকে তো আর ফিরিয়ে আনতে পারবো না

–কাঁদিস না মা আমরা আছি তো

–হুম আচ্ছা এখন রাখি পরে ফোন করবো

–আচ্ছা

ফোন রেখে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম, একটি মাস কিভাবে যেন কেটে গেলো, মাত্র একমাসে তাসিনের প্রতি মায়া জন্মে গেলো কেমন মেয়ে আমি নিজের মা বাবার খুনির ছেলে কে নিয়ে এসব ভাবছি, নাহ তাসিনের আব্বু খুনি হউক বা না হউক আমি তাসিন কে ডিভোর্স দিব আর ডিভোর্স দিয়ে বাহিরে চলে যাবো এই দেশে আর থাকবো না, হঠাৎ কাধে কারো হাতের স্পর্শে পিছনে তাকালাম তাসিন দাঁড়িয়ে আছে

–তুমি হোস্টেলে আসলে কিভাবে

–তোমার কাছে আসতে আমাকে কোনো বাধা আটকে রাখতে পারবে না

–তাসিন কেন করছ এসব

–তুমি আবারো কান্না করেছ

–নাতো

–তোমার চোখ বলে দিচ্ছে

–আচ্ছা তোমার জন্য কি আমি এখন কাঁদতেও পারবো না

–না পারবে না কারন তুমি কাঁদলে আমার কষ্ট হয়

–আর পাঁচটা মাস অপেক্ষা করো কষ্ট হবে না

–কি করবে তুমি হ্যা কি করবে (আমার হাত ধরে টান দিয়ে আমাকে ওর বুকের সাথে জরিয়ে ধরলো, তাসিন যে খুব রেগে গেছে ওর চোখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে, ও রাগলে চোখ দুটু লাল হয়ে যায়)

–চুপ হয়ে আছ কেন বলো কি করবা

–ডিভোর্স দিব

–তাই (বলেই আমার চুলে ধরে জোর করে আমার ঠোটে ওর ঠোট ডুবিয়ে দিল, অনেক চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারলাম না, অনেক্ষণ পর ও নিজেই ছেড়ে দিল তারপর আমার কপালে ওর কপাল ঠেকিয়ে বললো)

–আর কখনো ডিভোর্স এর কথা বললে খুন করে ফেলবো

–(ঠাস) এই তাপ্পর এর কথা মনে রেখো

–অন্নি

–অনেক হয়েছে তাসিন আর না অনেক সহ্য করেছি তোমার অত্যাচার আমি একা থাকতে চাই তুমি আমাকে আর ডিস্টার্ব করোনা প্লিজ আমি ডিভোর্স চাই

–ওকে অরনী ম্যাডাম তাসিন কি এখন থেকে বুঝবা আমার ভালোবাসা যখন তোমার কাছে অত্যাচার মনে হয় এই ভালোবাসার জন্যই আমি তোমাকে কাঁদাবো

তাসিন হাসতে হাসতে চলে গেলো…

অধ্যায় 16 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!