সিজন 1 অধ্যায় 5 পারিবারিক ড্রামা সাসপেন্স #সন্দেহ #গোপন চ্যাট #আত্ম উপলব্ধি অরনী তাসিন চাচ্চু আফজাল চৌধুরী

সন্দেহের কঠিন পরীক্ষা

লেখক: সুলতানা তমা 6 মিনিট পড়া 804 শব্দ
সন্দেহের কঠিন পরীক্ষা

ডক্টর: উনার এতো ঠান্ডা লাগলো কিভাবে অনেকটা তো কমে গিয়েছিল উনার ওয়াইফ কোথায় (রাগে গা জ্বলতেছে ওর ঠান্ডা লাগলে আমি কি করবো ওদের কথায় বুঝা যায় আমার সারা রাত ওকে পাহারা দেওয়া উচিত ছিল যত্তোসব)

নার্স: উনার ওয়াইফ কে এসে ঘুমে পেয়েছি সারা রাত জেগে হয়তো ঘুমিয়েছে মাত্র (যাক নার্সটা বাঁচিয়ে দিলো)

ডক্টর: চৌধুরী সাহেব কে জবাব দিব কি এখন

উফফফ আহ্লাদে বাঁচি না চৌধুরী সাহেব কে জবাব দিবো কি এখন ডং যত্তোসব

রুম থেকে বেড়িয়ে বারান্দায় আসতেই দেখি মা বাবা দৌড়ে আসছেন দূর তাদের এখন কি বলবো বুঝতে তো দেওয়া যাবে না আমি যে এসি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বুঝলে আমার প্রতিশোধ নেওয়া হবে না খেলা এখানেই শেষ হয়ে যাবে

মা: বউমা আমার তাসিনের কি হয়েছে

আমি: মা শান্ত হন তেমন কিছু হয়নি

বাবা: ডক্টর যে বললো জ্বর অনেক বেড়ে গিয়েছে

আমি: হ্যা সামান্য বেড়েছে ডক্টর দেখছে আপনারা শান্ত হন

মা: আমার ছেলেটার যে কি হলো (কাঁদছেন আর এসব বলছেন মনে হচ্ছে উনার ছেলে মারা গেছে উফফফ কবে যে আমি প্রতিশোধ নিয়ে এই আজব মানুষদের কাছ থেকে দূরে যেতে পারবো)

ডক্টর কেবিন থেকে বেড়িয়ে এসে বললো আমরা যেন ভিতরে যাই, ভিতরে যেতেই দেখি তাসিন আমাদের দিকে থাকিয়ে আছে

মা: তাসিন বাবা তোর কষ্ট হচ্ছে খুব

তাসিন: তেমন কিছু হয়নি তো তুমি শান্ত হও

বাবা: রাতে তো অনেক কম ছিল হঠাৎ বাড়লো কিভাবে

তাসিন: ভোরের দিকে একটু ঠান্ডা পড়েছিল তাই হয়তো

মা: বউমা কোথায় ছিল

তাসিন: সারা রাত আমার পাশে বসেছিল ভোরের দিকে ঘুমিয়েছে তাই আর ডাকিনি (বার বার কেন তাসিন আমাকে ভালো সাঝিয়ে দিচ্ছে বুঝতেছি না ওর তো আমার উপর রাগ করার কথা ও আমায় এতো ভালোবাসে কেন)

বারান্দায় দাড়িয়ে আছি হঠাৎ তাসিন ডাক দিল

–অন্নি

–হুম

–খাইয়ে দাও তো তোমার হাতে খেতে ইচ্ছে হচ্ছে (এখন ইচ্ছে হচ্ছে খুন করে ফেলি কিন্তু মা বাবা সামনে তাই কিছু বলতেও পারলাম না লক্ষী মেয়ের মতো খাইয়ে দিতে শুরু করলাম)

মা: কিরে তাসিন তোর চোখে পানি কেন (উনার কথা শুনে তাসিনের দিকে থাকালাম আমার দিকে থাকিয়ে আছে আর ওর চোখে পানি)

তাসিন: জ্বর তো তাই একটু কষ্ট হচ্ছে (মিথ্যে বললো আসলে তো কাঁদছে আমার বদলে যাওয়া দেখে)

তাসিন কে খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাওয়ালাম তারপর ওর মাথার পাশে গিয়ে বসলাম, মা বাবা সামনে তাই এতো লক্ষী মেয়ে সাঝলাম নাহলে তো এতোক্ষণে আরো কষ্ট দিয়ে ফেলতাম

ডক্টর এসে বললো তাসিন কে বিকেলে বাসায় নিয়ে যেতে পারবো যাক শান্তি পেলাম এই হসপিটালে থেকে রাত জাগতে হবে না তো

সন্ধ্যায় তাসিন কে নিয়ে সবাই বাসায় চলে আসলাম, তাসিন শুয়ে আছে আর আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবছি এর থেকে বেশি কষ্ট ওদের কিভাবে দেওয়া যায় তখনি ফোন বেজে উঠলো চাচ্চুর ফোন, রিসিভ করলাম

–চাচ্চু

–হ্যা মা কেমন আছিস

–শত্রুর বাড়িতে যেমন থাকা যায়

–একটু কষ্ট কর মা নাহলে যে প্রতিশোধ নিতে পারবি না

–চাচ্চু একটু বুদ্ধি দাও তো কিভাবে তাসিন কে বেশি কষ্ট দেওয়া যায় আমি না ভেবে পাচ্ছি না

–আরে এইটা কোনো ব্যাপার হলো চৌধুরী কে কাঁদাতে তাসিন কে বেশি কষ্ট দিতে হবে না একটু একটু করে কষ্ট দিবি আর চৌধুরী একটু একটু করে শেষ হয়ে যাবে

–ঠিক আছে আর হ্যা চাচ্চু আরেকটা বিষয় নিয়ে তোমার সাথে কথা বলা প্রয়োজন আমি সুযোগ পেয়ে ফোন দিব

–ঠিক আছে মা রাখি

–ওকে

ফোন রেখে ভাবছি পরী কে কিডন্যাপ করা নিয়ে চাচ্চুর সাথে কথা বলবো, উহু কোনো টাকা চাইবো না শুধু দুইটা দিন পরী কে চাচ্চুর বাসায় রেখে দিব তাহলেই চৌধুরী পরিবারের সবাই বড়সড় একটা ধাক্কা খাবে

আজকে আর তাসিন কে জ্বালাই না খাটে ঘুমিয়ে গেছে যখন থাকুক আমি সোফায় ঘুমিয়ে থাকি, সোফায় এসে শুয়ে পরলাম

–অন্নি

–হুম

–এই সন্ধ্যার সময় ঘুমাচ্ছ কেন

–ঘুম পাচ্ছে তাই

–খাবে না

–না আমার খিদে নেই

–আমার সাথে এমন কেন করছ অন্নি কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ

–এতোই যদি কষ্ট পাও তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দাও

–চুপ কর অন্নি তুমি আমাকে যতো খুশি কষ্ট দাও কিন্তু ডিভোর্স এর কথা কখনো বলোনা

আর কিছু না বলে শুয়ে রইলাম, তাসিন ডিভোর্স চায়না তারমানে আমি নিজে থেকে ডিভোর্স দিলে তাসিন কষ্ট পাবে শুধু কষ্ট না অনেক বেশি কষ্ট পাবে কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি যে আমি ডিভোর্স দিতে পারবো না, আগে তো আমার প্রতিশোধ নেই মনের জ্বালা মিঠাই তারপর নাহয় ডিভোর্স এর কথা ভাববো

মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি লাইট জ্বালানো তাসিন টেবিলে বসে কি যেন লিখছে আর চোখের পানি মুচ্ছে, চোখ বন্ধ করে ফেললাম তাসিন কে কষ্ট দেই ঠিকি কিন্তু পরে নিজের কাছেই খারাপ লাগে জানিনা কেন এমন হয়, এখন ও কাঁদছে দেখলে হয়তো মায়ায় পরে যাবো, মায়া জিনিসটা খুব খারাপ একবার কারো প্রতি মায়া জন্মালে সে মায়া কাটিয়ে উঠা খুব কষ্টকর, তাসিনের প্রতি মায়া জন্মালে আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না আম্মু আব্বু কে অপমান করা হবে চাচ্চু ছোট মা কষ্ট পাবে, নাহ আমার মনের মধ্যে তাসিনের জন্য মায়া জন্মাতে দেওয়া যাবে না এতে যদি তাসিনের থেকে দূরে থেকে প্রতিশোধ নিতে হয় তাহলে আমি সেটাই করবো, তাসিন আমাকে ওর নিজের থেকে বেশি ভালোবাসে আমি দূরে থাকলে ও তিলেতিলে শেষ হয়ে যাবে আর ওর শেষ হয়ে যাওয়া দেখে চৌধুরী পরিবারের সবাই তিলেতিলে শেষ হবে, আমি তো চাই সবাই কে তিলেতিলে শেষ করে দিতে এই চৌধুরী মঞ্জিল এর নাম মুছে দিতে…

অধ্যায় 5 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!