একটি অঙ্গের মূল্য ও নীরব আত্মদান

5 মিনিট পড়া 769 শব্দ
একটি অঙ্গের মূল্য ও নীরব আত্মদান

আব্বু: তমা টাকাটা যদি আমি না দেই

–নিপা মারা যাবে নিপা মারা গেলে শ্রাবন কষ্ট পাবে আর শ্রাবন কষ্ট পেলে আমি কষ্ট পাবো এখন বল তুমি কি আমাকে কষ্টে দেখতে চাও

–এখন কি কম কষ্টে আছিস

–হুম কষ্টে আছি কিন্তু যখন দেখবো শ্রাবন নিপাকে নিয়ে সুখে আছে তখন হয়তো আমিও ভালো থাকবো

–শ্রাবনের জন্য আকাশকে মেনে নিলি না এখন তো দুটিই হারালি

–আমি শ্রাবন ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারবো না তাই আকাশকে মেনে নেই নি তাছাড়া আকাশ আর মেঘা আপু দুজন দুজনকে ভালোবাসে

–হুম তোর যা ভালো মনে হয় কর টাকা নিয়ে নিস

–আচ্ছা

আব্বু চলে গেলেন ভাবছি শ্রাবনকে ফোন করে বলবো টাকাটা যেন নিয়ে নেয় তখনি শ্রাবনের ফোন আসলো

–হ্যালো

–তমা টাকা….

–হুম আব্বু বলেছেন নিতে

–কিন্তু কিডনি

–খুঁজতে তো হবে

–অনেক হসপিটাল তো খুঁজলাম পাইনি যদি আর কোথাও না পাই

–(চুপ হয়ে আছি শ্রাবনের গলা কেমন যেন কাঁপছে কথা বলতে পারছে না এইটা থেকেই তো বুঝা যায় ও নিপাকে খুব ভালোবাসে নিপা মারা গেলে….)

–চুপ হয়ে আছ যে

–এমনি খুঁজে দেখো না পেলে তো কোনো একটা ব্যবস্থা করতে হবে

–হুম

–আচ্ছা রাখি

–হুম

ফোন রেখে চুপ করে বসে আছি চোখ থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরছে, শ্রাবন নিপাকে কতোটা ভালোবাসে সেটা ওর কন্ঠ শুনলেই বুঝা যায়, আচ্ছা আমার কি অপরাধ ছিল আমি কি ওকে কম ভালোবাসছিলাম যে ও অন্য কাউকে ভালোবাসল….?

রিয়া: তমা খেতে আয়

–খাবো না এখন

–দেখ তুই এমন করলে আমি পিয়াস এর কাছে চলে যাবো

–হুম

–সিদ্ধান্ত তো নিয়ে ফেলছিস এখন কেঁদে কি হবে

— কষ্ট ভুলতে তো একটু সময় লাগবেই বাদ দে বল তো কিডনি কোথায় পাই

–তোর যা খুশি কর আমি এসবে নেই বলেই হনহন করে হেটে চলে গেলো

আচ্ছা ও আমাকে রাগ দেখাচ্ছে কেন আমার কি করার আছে আমি কি নিপার কাছ থেকে শ্রাবনকে কেড়ে নিয়ে আসবো…?

রাতে শ্রাবন আবার ফোন দিল কিডনি পাওয়া যায়নি, শ্রাবনের কন্ঠটা আগের চেয়ে বেশি কাঁপছে কি করবো ভেবে পাচ্ছি না, পরিচিত কয়েকজন কে ফোন দিলাম নাহ কেউ কিডনির সন্ধান দিতে পারলো না, এতো বড় শহরে এতো গুলো হসপিটাল অতচ একটা কিডনি পাওয়া যাচ্ছে না, আচ্ছা যদি নিপা মারা যায়….?

নাহ আর ভাবতে পারছি না কিছু একটা ব্যবস্থা তো করতে হবে

সকালে ঘুম থেকে উঠেই রেডি হয়ে হসপিটালে গেলাম নিপার আম্মু আর নিধি কাঁদছে আমাকে দেখে নিপার আম্মু জরিয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলেন, একজন মায়ের কান্না একজন বোনের কান্না শ্রাবনের কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না কিন্তু কি করবো আমি কি করার আছে আমার

নিধি আর ওদের আম্মুর কাছে বসে আছি একটু পর শ্রাবন আসলো

–তমা তুমি

–কেন আসতে পারি না

–তা তো বলিনি

–হুম

–একটু বাইরে চল কথা আছে

–চলো

শ্রাবন আমাকে নিয়ে হসপিটালের বাইরে আসলো

–তমা তুমি কিন্তু ভুল বুঝে বসে আছ

–কিসের ভুল বুঝলাম

–তুমি আমাকে ফোন দাও না কেন এমন এড়িয়ে চলছ কেন

–কোন অধিকারে ফোন দিব

–জানো না

–নাহ

–দেখ তমা আমি তোমাকে আগেও বলেছি এখনো বলছি আমি তোমাকেই ভালোবাসি আর তোমাকে ভুলিনি তোমার জায়গায় তুমি ছিলে তোমার পাশে শুধু নিপা কে একটু জায়গা দিয়েছিলাম

–শ্রাবন এখন এসব বলার সময় না নিপাকে কিভাবে বাঁচাবে সে চিন্তা কর

–নিপা সুস্থ হলেই তো তুমি আমাকে ওর হাতে দিয়ে দিবা

–হয়তো

–তমা…

–তুমি এমন করলে আমি বাসায় চলে যাবো

–প্লিজ বুঝার চেষ্টা করো

–থাকো তুমি আমি চলে যাচ্ছি

শ্রাবন পিছন পিছন ডাকলো না শুনে বাসায় চলে আসলাম, আর কি শুনবো আমাকে ভালোবাসে….?

তাহলে নিপা কে কি করবে আর ভালো লাগছে না এসব ইচ্ছে হচ্ছে আত্মহত্যা করে এই নিষ্টুর দুনিয়া থেকে বিদায় নেই কিন্তু পারছি না আব্বু আর তুলি যে একা হয়ে যাবে, আমার সাথে যে কেন বার বার এমন হয় বুঝি না

বারান্দায় দাড়িয়ে আছি আর নিজেকে শান্তনা দিচ্ছি এইটা ভেবে ভালোবাসলেই যে নিজের করে পেতে হবে এমন তো না, ভালোবাসার মানুষ কে সুখে দেখাতেই তো প্রকৃত সুখ, আমি নাহয় একাই থাকলাম শ্রাবন ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো কিন্তু শ্রাবনকে ভালো রাখতে গেলে যে নিপাকে সুস্থ করে তুলতে হবে, কিডনি কোথায় পাবো নিপা মারা গেলে যে আমার শ্রাবন অনেক কষ্ট পাবে

আচ্ছা নিপা সুস্থ হলে পর তো ওদের বিয়ে হবে আমি তখন কি করবো, আমার কি ওদের বিয়েতে উপস্থিত থাকাটা মানাবে নাকি বিয়ের আগেই অনেক দূরে চলে গেলে ভালো হবে….?

আচ্ছা নিপাকে বিয়ে করার পর কি শ্রাবন আমাকে ভুলে যাবে….? দূর কি ভাবছি এসব বউ রেখে কি কেউ অন্য মেয়েকে মনে রাখে শ্রাবন আমাকে ভুলে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক

আচ্ছা শ্রাবন তো আমাকে ভুলে গেছেই ভুলতে না পারলে কি নিপাকে ওর মনে জায়গা দিতে পারতো

থাক এসব আর না ভাবা-ই ভালো, আমার কথা আর নাইবা ভাবলাম শ্রাবন সুখি হউক এটাই আমি চাই, কিন্তু শ্রাবনকে সুখে রাখতে হলে তো নিপাকে প্রয়োজন, কিভাবে ফিরিয়ে আনবো আমি নিপাকে, কিডনি কোথায় পাবো কিভাবে সুস্থ করে তুলবো ওকে

হঠাৎ মনের ভিতর কেমন যেন করতে লাগলো, একটা কথা শুধু মনে হচ্ছে ভালোবাসার মানুষ কে সুখে রাখতে তো কিছু ত্যাগ করাটা অপরাধ হবে না, নিপাকে একটি কিডনি যদি আমি দিয়ে দেই…..

অধ্যায় 15 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!