লাজুকপাতা / অধ্যায় 5

দূরত্ব যখন ঘুচে যায়

সিজন ১ • পর্ব ৫ দূরত্ব যখন ঘুচে যায় লাজুকপাতা

রান্নাঘরের দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে বাজারের লিস্ট বানানোর দায়িত্বটাও আমি পেয়ে গেলাম। বাজার করেন শ্বশুর বাবা। উনি আমার সাথে কথা কম বলেন তবে আমার প্রতি তার স্নেহ, আন্তরিকতা টুকু আমি টের পাই। উনি আমাকে জরী কিংবা বউমা বলে ডাকেন না। মিষ্টি করে মা ডাকেন।

এই বাড়িতে সকালের নাস্তায় এখন আর প্রতিদিন ভাত হয় না। একদিন পাতলা খিচুড়ি, একদিন পরোটা, একদিন ভাত, ডাল, আলুভর্তা আর অন্যান্য দিনগুলোতে রুটি করা হয়। খাবারের এই নিয়মে সবাই ই খুশি। জামিল ভাই একদিন রুটি খেতে খেতে বললেন,

“থ্যাংক ইউ জরী। একঘেয়ে খাবার খেতে খেতে মুখ পঁচে গেলেও কিছু বলতে পারি না। কামাই রোজগার নেই তো।”

আম্মা খানিকটা অসন্তুষ্ট হলেন বোধহয়। একদিন বললেন,

✦ AI বাছাই এই গল্পের মতো আরেকটি গল্প
#পারিবারিক #রোমান্টিক
তোমাকে
লেখক: মুন্নি আক্তার প্রিয়া

চরিত্রগুলোর মধ্যকার এই না-বলা টানাপোড়েন আর জটিল অনুভূতির সাথে মিলিয়ে পড়তে পারেন মুন্নি আক্তার প্রিয়া-এর 'তোমাকে'।

পড়া শুরু করুন → 1টি সিজন • 40 মোট পর্ব

“এইগুলারে তো তুমি চেন না, একেকটা রাক্ষস বানাইতেছ।”

আমি শব্দ করে হেসে ফেললাম। আম্মা বিরক্ত গলায় বললেন,

“হাইসো না। আমি হাসার মতো কিছু বলিনাই। ”

পরী আপা একদিন আসলেন দুলাভাই কে নিয়ে। ফল, মিষ্টির দোকান টা উঠিয়ে আনতে বাকী রেখেছিলেন। পরী আপার আদর যত্নের কমতি রাখলো না। এই যে ছোট ছোট যে ব্যাপার গুলো এগুলোর জন্যই এই বাড়ির মানুষজনকে আমার এতো ভালো লাগছে।

আমার মনে আছে একবার বড় আপার শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম। আমি, নিরু আপা আর অরু। বড় আপা পোলাও মাংসের আয়োজন করেছিলেন। খাবার সময় যখন মাংস তুলে দিচ্ছিলেন তখন আপার শাশুড়ী হায় হায় করে উঠলেন। বললেন,

“আরে, করো কি? ভালো মাংসের পিস গুলান তোমার স্বামী, ভাসুরের জন্য রাখো। ”

✦ AI বাছাই এই গল্পের মতো আরেকটি গল্প
#রোমান্টিক #কাজিন রিলেটেড
এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা
লেখক: মৌসুমী আক্তার

চোখের সামনে এমন তীব্র ক্ষোভ আর অন্ধ অধিকার খাটানোর দৃশ্য যেমন নাড়িয়ে দেয়, তেমনই এক সম্পর্কের গল্প মৌসুমী আক্তার-এর 'এক বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা'।

পড়া শুরু করুন → 2টি সিজন • 145 মোট পর্ব

লজ্জায় অপমানে আমি আর কখনো ওই বাড়ি যাই নি। আসার সময় নিরু আপা বলছিল, খবিশ বুড়ি আমার পাল্লায় পড়লে বুঝতো। বড় আপা ভালো মানুষ বলে সহ্য করছে।

***

আমি পড়াশোনা করব এই ব্যাপারটায় বাড়ির কেউ তেমন আপত্তি করলো না। তবে আম্মার কপাল কুঁচকানো দেখে বুঝলাম যে উনি বোধহয় খুশি নন। বাবা বললেন,

“পড়তে চায় পড়ুক না। এখন কী আর সেই আগের যুগ আছে! এখন মেয়েরাও বিয়ের পর পড়তেছে। ”

নাবিদ আমাকে কোচিংএ ভর্তি করাতে চাইলো। আমি রাজি হলাম না। এমনিতেই অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। কোচিং এর শিট গুলো কালেক্ট করে পড়তে শুরু করলাম। একা একাই পড়ছিলাম। নাবিদ অবশ্য বলেছিল একজন টিচার দেখবে কি না। আমি তাও রাজি হলাম না।

আমার পড়াশোনার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে চাচাজান আর মা ফোন করলেন। বোঝালেন, পড়াশোনার চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলো সংসার। সংসারে মন দেয়া উচিত। একসঙ্গে সব পাওয়া যায় না। পড়াশোনার চক্করে আমার সংসার টা ভেসে যেতে পারে।

✦ AI বাছাই এই গল্পের মতো আরেকটি গল্প
#পারিবারিক #রোমান্টিক
সত্যি ভালোবাসো
লেখক: ফাতেমা খান

চোখের সামনে এমন তীব্র ক্ষোভ আর অন্ধ অধিকার খাটানোর দৃশ্য যেমন নাড়িয়ে দেয়, তেমনই এক সম্পর্কের গল্প ফাতেমা খান-এর 'সত্যি ভালোবাসো'।

পড়া শুরু করুন → 1টি সিজন • 27 মোট পর্ব

আমি এসব কথা এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দিলাম। পরী আপা ভীষণ খুশি হলেন। সেই সঙ্গে শুরু হলো আরেক উৎপাত। আপা ভোরবেলা মিসড কল দিয়ে জ্বালিয়ে মারেন। বাধ্য হয়ে আমাকেও উঠে পড়তে বসতে হয়।

***

নাবিদের সাথে আমার দূরত্ব কমে গেল আস্তে আস্তে। আমাকে অবশ্য পরী আপা আর মা যখনই জিজ্ঞেস করেন সব ঠিক আছে কি না, আমি উত্তর দেই হ্যাঁ সব ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেক কিছুই ঠিক ছিলো না। নাবিদ দূরে দূরে থাকতো বলে আমিও দূরে থাকতাম। সূক্ষ্ম অহম বোধ আমার মধ্যেও ছিলো। ডানাকাটা পরী না হলেও সবাই আমাকে সুন্দর ই বলতো। আমার বড় মামার মেয়ে ফাইজা আপুর বিয়ের সময় ভাইয়ার এক কাজিন বলেছিল, এই জরী দিব্যা ভারতী কে চেন? তুমি দেখতে অনেক টা ওনার মতো।

তবুও নাবিদের দূরে থাকার কারণ হিসেবে ধরে নিলাম যে ওর হয়তো আগে কেউ ছিলো। কিন্তু আমার জটিলা ননদের কাছ থেকে সেরকম কোনো খবর পেলাম না। বলল, আরে না ভাবী। ছোট্ট ভাই অমনই ম্যুডি টাইপ। বড় ভাইয়ের মতো না।

এক ঝিমধরা শীতের সকালে টের পেলাম নাবিদ আমাকে ওর কম্বল দিয়ে জড়িয়ে ধরে আছে৷ ঘুম ভাঙার পর নড়েচড়ে সরে আসতে গেলেই নাবিদ বলল,

“তোমার কম্বলে ঠান্ডা মানছিল না। ঠকঠক করে কাঁপছিলে। ”

আমি অস্ফুটস্বরে বললাম,

“হু। ”

“এখনো কাঁপছ কিন্তু! ”

নাবিদ আরও একটু কাছে এলো। ওর খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা গাল আমার গালের সঙ্গে ঘষলো৷ অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল সমস্ত শরীরে। নাবিদ আরও একটু ঘনিষ্ঠ হলো, প্রথমে নাকের পাশে চুমু খেল, তারপর গালে ও কপালে। আবেশে আমি চোখ বন্ধ করলাম। নাবিদ ফিসফিস করে বলল,

“তুমি এতো দূরে দূরে থাকো কেন? আমি কী অন্য শিবিরের মানুষ! আগ বাড়িয়ে একটু কাছে আসা যায় না!”

আমি বললাম,

“তুমি বা কবে কাছে ডাকলে! তাছাড়া তুমি তো কম্বলও শেয়ার করতে পারো না। ”

নাবিদ হাসলো। বলল,

“ওহ এই ব্যাপার! শীত তো প্রায় চলেই যাচ্ছে। এখন কাছে আসবে তো?”

“ডাকলে আসব। ”

“আর না ডাকলে আসবে না?”

নাবিদ আমার জবাবের অপেক্ষা করলো না। আমিও ভালোবাসা টুকু উপভোগ করতে লাগলাম।

***

বিয়ে নিয়ে আমার রাজ্যের ভয় ছিলো। অচেনা, অজানা মানুষগুলো কেমন হবে! বিছানায় হাত বাড়ালেই যাকে ছুঁয়ে দেয়া যায় সে না জানি কেমন হবে! সব মিলিয়ে চিন্তার শেষ ছিলো না। আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর নাম পুতুল। পুতুলের বিয়ে হয়ে গেল কলেজে পড়ার সময়ে। এইচ এসসি পরীক্ষা দিতে পারলো না কারণ বাচ্চা পেটে এসেছিল। পুতুলের সঙ্গে শেষবার যখন দেখা হলো ভীষণ আক্ষেপ করে বলল,

“বিয়ে মানে হলো জীবন টা শেষ হয়ে যাওয়া জরী। নিজের জন্য তখন আর কিছু করা যায় না। ”

আমার কাছে বিয়ে মানে জীবন শেষ হওয়া মনে হয় নি। বিয়ের আগে কতশত পরিকল্পনা করেছিলাম, দূরে কোথাও পালিয়ে যাব। পড়াশোনা করে, চাকরি বাকরি করে ফিরে আসব।

এসব পরিকল্পনা আসলে ভাবনার জগৎ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। আমি আসলে কিছুই পারতাম না।

নাবিদের সঙ্গে দূরত্ব কমে যাবার পর দারুণ একটা বন্ধুত্বও জমে উঠেছে। আমরা দুজন দুজনের খেয়াল রাখি। আমার প্রতি আম্মার অভিযোগ নেই বলে বাড়ির সকলের কাছে লক্ষিমন্ত বউ। নাবিদও বলে,

“তুমি আসলেই লক্ষি জরী। ”

আমি লাজুক হাসি। নাবিদ আমাকে প্রশ্ন করে,

“তুমি কখনো কাউকে ভালোবেসেছ?”

“হু। তোমাকে বাসলাম যে। ”

নাবিদ হাসে। বলে,

“এখন আর বাসো না?”

“কিজানি!”

“তুমি ভালো হেয়ালি করে কথা বলতে পারো। দেখে বোঝা যায় না?”

“দেখে কী বোঝা যায়?”

“ভীতুর ডিম, লজ্জাবতী। ”

“আমি শুধু তোমার সঙ্গেই এমন হেয়ালি করি। আর কারোর সঙ্গে করিনি। ”

নাবিদ খানিকটা শাসিয়ে বলে,

“আর কারোর সঙ্গে করার কথা ভাববেও না। ”

“যদি ভাবি?”

“খুন হয়ে যাবে তাহলে। ”

আমি শব্দ করে হাসি৷ আমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ও হাসে।

চলবে…

অধ্যায় 5 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

✦ এই উত্তেজনার পর সামনে কী ঘটতে চলেছে? পরের পর্বটি এখনই পড়ে ফেলুন!

✦ ✦ AI বাছাই: গল্পের এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি বন্ধুদের সাথেও এক ক্লিকে শেয়ার করতে পারেন।
💬

✦ গল্পের অনুভূতি ও আপনার মতামত

গল্পের এই মোড়ে চরিত্রটির নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনার কী মনে হয়? নিচে আপনার ভাবনা শেয়ার করতে পারেন।

এক ট্যাপে মতামত:

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!

পরবর্তী পাঠের সুপারিশ

পরবর্তী পাঠ

এই পর্ব শেষ করার পর পড়তে পারেন এমন কিছু রোমাঞ্চকর গল্প।

★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক তোমাকে গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

তোমাকে

একটা ছেঁড়া ফুল নিয়ে শুরু হওয়া বিবাদ পরী আর তুর্যর জীবনকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলবে, যা ছিল কল্পনারও বাইরে। একের পর এক ভুল বোঝাবুঝি আর পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মাঝে তাদের সাপে-নেউলে সম্পর্ক কি কখনো ভালোবাসার ছোঁয়া পাবে, নাকি সবকিছুর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গল্প?

মুন্নি আক্তার প্রিয়া 0টি সিজন
★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক প্রেমালিঙ্গণ গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

প্রেমালিঙ্গণ

তন্দ্রার কাছে তার ভাইয়া স্বাক্ষর একজন যত্নশীল অভিভাবক, কিন্তু শাসনের বেড়াজালে বাঁধা। তবে স্বাক্ষরের তীব্র অধিকারবোধ, গোপন উপহার আর গভীর রাতের মায়াবী মুহূর্তগুলো দুজনের সম্পর্ককে এক নতুন পথের দিকে ঠেলে দেয়। যখন পরিবারের ঠিক করা অন্য ছেলের সাথে তন্দ্রার বিয়ের কথা ওঠে, তখন সে কি পারবে স্বাক্ষরের নীরব ভালোবাসার ভাষা পড়তে? নাকি এই অব্যক্ত প্রেম পরিণতির আগেই হারিয়ে যাবে?

ঊর্মি আক্তার ঊষা (তরঙ্গিণী) 0টি সিজন
★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক হৃদ রোগ গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

হৃদ রোগ

বাসে একঝলক দেখেই এক সুদর্শন পুরুষের প্রেমে পড়ে যায় কলেজছাত্রী সুদেষ্ণা। কিন্তু তার সেই কল্পপুরুষ, হিমাদ্র, যেন এক কঠিন পাথরের মূর্তি। সুদেষ্ণার ভালোবাসার নিবেদন যখন প্রত্যাখ্যাত হয়, তখন তার ‘হৃদ রোগ’ কি তাকে আরও গভীরে ডোবাবে, নাকি এই একতরফা প্রেমই পারবে সেই পাষাণ গলাতে?

অহর্নিশা 0টি সিজন
★ ওয়েব ধারাবাহিক • ধারাবাহিক লাভার নাকি ভিলেন গল্পহাব মৌলিক
সম্পূর্ণ সিরিজ

লাভার নাকি ভিলেন

আকাশের ভালোবাসা আর হিংস্রতার মাঝে মেঘলার জীবন বাঁধা। সবার সামনে অপমান আর আড়ালে আগলে রাখার এই অদ্ভুত খেলায় মেঘলা বিভ্রান্ত। পরিবারের ষড়যন্ত্র আর একের পর এক ভুল বোঝাবুঝি তাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। আকাশের এই দ্বৈত আচরণের পেছনে কি শুধুই ভালোবাসা, নাকি অন্য কোনো গভীর রহস্য?

স্নিগ্ধা হোসাইন মোনা 0টি সিজন