অবুঝ বউ / অধ্যায় 2

বারান্দার ফিসফিসানি ও গোপন আকুতি

লেখক: সুলতানা তমা 6 মিনিট পড়া 919 শব্দ
বারান্দার ফিসফিসানি ও গোপন আকুতি

আম্মু আব্বুর সাথে সোহাগীর বাড়ির লোকজন তর্ক করছে ওরা বলছে এই বয়সেই বিয়ে দেওয়া উচিত আর আম্মু আব্বু বলছে এইটা বাল্য বিবাহ হবে, হঠাৎ একজন বৃদ্ধ মহিলা ড্রয়িংরুমে এসে বেশ জোরে জোরেই বললো

–আপনাদের যদি মেয়ে পছন্দ না হয় তাহলে বিয়ে নিবেন না এখানে এতো জ্ঞান দিচ্ছেন কেন

এই কথা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেলো আব্বু আম্মু তো লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেললেন, পরদার আড়ালে আবারো চোখ পড়লো বৃদ্ধ মহিলাটির কথা শুনে যেন সোহাগীর বোনের কান্না আরো বেড়ে গেলো, বুঝতে পারছি না দুবোন কাঁদছে কেন এইটা জানতে হলে তো সোহাগীর সাথে আলাদা কথা বলতে হবে কিন্তু ওরা কি আলাদা কথা বলতে দিবে, চেষ্টা করে দেখি

আমি: মুমু আমি সোহাগীর সাথে আলাদা কথা বলতে চাই (মুমুর কানে কানে বললাম)

মুমু: বলিস কি ভাইয়া

আমি: প্লিজ লক্ষী বোন আমার

মুমু: ওকে

মুমু কিছুক্ষণ আব্বু আম্মুর দিকে তাকালো তারপর ভয়ে ভয়ে বলেই ফেললো

মুমু: ভাবিকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে আমি আর ভাইয়া ভাবির সাথে আলাদা কথা বলতে চাই

আম্মু: কি বলছিস

মুমু: আম্মু প্লিজ

–হ্যাঁ হ্যাঁ তোমরা কথা বলতে পারো পারলে আজকেই বিয়ের কাজ সেরে ফেলো (আগের বৃদ্ধ মহিলাটি বললো, বুঝলাম না ওরা এই পিচ্ছি মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এতো পাগল হয়েছে কেন)

আম্মু: কিন্তু

মুমু: আম্মু প্লিজ না করো না

আম্মু: ঠিক আছে যা

সোহাগীর সাথে ওর রুমে আসলাম বেশ সুন্দর করে গুছানো রুম, মুমু রুমে বসে আছে আমি সোহাগীর সাথে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম, কি বলবো প্রথমে কি বলা উচিত কিছুই বুঝতে পারছি না তখনি সোহাগী নিরবতা ভেঙ্গে জোরেই বলে উঠলো

–আপনি আমাকে বিয়ে করবেন (আমি ওর এই প্রশ্নে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছি, আমার মুখের অবস্থা দেখে ও খিলখিল করে হাসছে একদম বাচ্চাদের মতো হাসি খুব সুন্দর হাসি ওর এই হাসির প্রেমে পড়ে গেছি আমি)

–কি হলো কথা বলছেন না যে

–না মানে কি বলবো

–আমাকে বিয়ে করবেন কিনা সেটা বলেন

–আচ্ছা তুমি এতো অল্প বয়সে বিয়ে করতে চাচ্ছ কেন তোমার তো এখন পড়ালেখা করার বয়স

–হুম

–তোমার আব্বু আম্মুকে বুঝাও এখন বিয়ে করলে তো….

–আমার আব্বু আম্মু নেই (সোহাগীর চোখে পানি টলমল করছে এখন কি বলা উচিত বুঝতে পারছি না)

–তাহলে

–এইটা আমার বড় আপুর শশুড় বাড়ি এখানেই থাকি আমি (এখন বুঝেছি দুবোনের কান্নার কারন ওকে হয়তো সবাই বুঝা মনে করে তাই বিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে)

–আচ্ছা তোমার স্বপ্ন কি

–আমি পড়ালেখা করে একজন ডক্টর হতে চাই

–তাই

–হুম কিন্তু আপুর শাশুড়িটা না খুব পঁচা আমাকে পড়ালেখা করাতেই চায়না আর দুলাভাই তো আরো বেশি পঁচা সবসময় আমার দিকে খারাপ নজরে তাকায় (এই মেয়েকে এখানে রাখা ঠিক হবে না ওকে বিয়ে করে আমার পিচ্ছি বউ বানাবো আমি নাহয় ওর সব স্বপ্ন পূরন করবো)

–তুমি পড়ালেখা করতে চাও

–হ্যাঁ কিন্তু কে করাবে আমার তো আব্বু আম্মু নেই

–যদি আমি তোমার ডক্টর হবার স্বপ্ন পূরন করি

–আপনি তো আমাকে বিয়েই করবেন না আর আপনি বিয়ে না করলেও অন্য কেউ এসে আমাকে বিয়ে করে নিয়ে যাবে আর সে যদি দুলাভাই এর মতো পঁচা হয় তাহলে তো আমার স্বপ্ন পূরন হবে না

–যদি আমি তোমাকে বিয়ে করি

–সত্যি করবেন (মেয়েটা খুশিতে লাফাচ্ছে আর হাত তালি দিচ্ছে এতো পিচ্ছি মেয়ে নাকি আবার ক্লাস টেনে পড়ে আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না)

–হ্যাঁ বিয়ে করবো কিন্তু আমার সব কথা তোমাকে শুনতে হবে

–ঠিক আছে শুনবো

–তাহলে নিচে চলো

–আচ্ছা

সোহাগী হাসছে শুধু হাসছেই না এক প্রকার নেচে নেচেই ও ড্রয়িংরুমে যাচ্ছে, মুমু তো ওর এসব বাচ্চামি দেখে হাসতে হাসতে শেষ

সবার সামনে বসে আছি সোহাগীর বাসার সবাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করছে কিন্তু আমি এখন কি বলবো আব্বু আম্মুর সাথে কথা না বলে তো আমি আমার সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো না

দুলাভাই: আমার শালিকে কেমন দেখলেন পছন্দ হয়েছে

আমি: হ্যাঁ

দুলাভাই: তো বিয়ের দিন তারিখ কি আজকেই ঠিক করবেন নাকি

আব্বু: কিসের দিন তারিখ আমরা আগে বাসায় যাই বুঝাপড়া করে তারপর জানাবো

দুলাভাই: ঠিক আছে

সোহাগীদের বাসা থেকে বেরুনোর সময় ওর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটা হাসি দিলাম বিনিময়ে পেলাম এই পিচ্ছি মেয়ের খিলখিল করে হাসি যে হাসির প্রেমে পড়ে গেছি আমি, গাড়িতে উঠে বসলাম আর নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করলাম আব্বু আম্মুর বকা শুনার জন্য

আব্বু: নাহিল মেয়েটাকে তোমার পছন্দ হয়েছে

আমি: হ্যাঁ

আম্মু: তুই এই বাচ্চা মেয়েকে বিয়ে করতে চাস

আমি: আম্মু ও ছোট আমিও মানছি কিন্তু আমি বিয়ে না করলেও তো অন্য কেউ একজন ওকে বিয়ে করবেই এতে ওর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে আম্মু আমি ওর স্বপ্ন পূরন করতে চাই

আম্মু: মানে

আমি: পরে বলবো আম্মু প্লিজ না করোনা তোমরা তো আমাকে সব দিয়েছ এখন নাহয় সোহাগী কে দাও

আব্বু: ভেবে দেখবো

বারান্দায় বসে কানে হেডফোন গুঁজে গান শুনছি আর চোখ বন্ধ করে সোহাগীর খিলখিল করে হাসিটা অনুভব করছি সত্যি ও যেমন সুন্দর তেমন ওর হাসিটাও মিষ্টি

–মাগো (হঠাৎ মাথায় থাপ্পড় খেয়ে পিছনে তাকালাম আম্মু রাগি চোখে তাকিয়ে আছে)

–কতোক্ষণ ধরে ডেকে যাচ্ছি তোর কোনো খবর নেই

–আর বলোনা আম্মু চোখ বন্ধ করে তোমার বৌমার কথা ভাবছিলাম

–নাহিল তোর কি লজ্জা শরম নেই

–কেন এখানে লজ্জার কি আছে তুমি আমার আম্মু+ফ্রেন্ড তোমার সাথে এসব কথা বলবো না তো কার সাথে বলবো

–হ্যাঁ তাও ঠিক আচ্ছা শুন যে কারনে এসেছি

–বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলেছ নাকি

–সবসময় ফাজলামো করিস না তো

–আচ্ছা বলো

–তুই যে সোহাগী কে বিয়ে করতে চাচ্ছিস ও টেনে পড়লেও কিন্তু এখনো পিচ্ছি মেয়েই রয়ে গেছে এখনো ও এতোকিছু বুঝেনা কিন্তু ও যখন আরো বড় হবে সবকিছু বুঝবে তখন যদি তোকে ভালো না বাসে

–কি যে বলনা আম্মু আমি কি ওর সাথে প্রেম করবো নাকি যে পরে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে আমি তো ওকে বিয়ে করবো

–কিন্তু

–আম্মু দেখো আমি তোমার বৌমাকে এতো ভালোবাসা দিব যে ও আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারবে না

–তাও ভয় হয়

–আম্মু প্লিজ

–ঠিক আছে

–বিয়ের তারিখটা তাড়াতাড়ি ঠিক করে ফেল

–পাগল ছেলে

আম্মু হাসতে হাসতে চলে গেলো আমি আবারো কানে হেডফোন গুঁজে দিয়ে চোখ দুইটা বন্ধ করলাম সোহাগীর মিষ্টি হাসি অনুভব করার জন্য…..

অধ্যায় 2 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!