–“এই মারু,তোকে ভাইয়া বকেছে কেনো?”
–“ইয়াদ ভাইয়া মেয়েদের সাথে সবসময় দূরে থাকে।সবাই জানি আমরা এটা।কিন্তু কাল থেকে দেখো,সে দুআ আপুর দিকে তাকিয়ে থাকে তো থাকে।আর আজ কি বলেছে জানো?”
রামিসা ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,
–“কি?”
–“বললো,দুআ আপু নাকি সুন্দর!ভাবতে পারো তুমি এইসব?তবে কি জানো?দুআ আপু যদি আমার ভাইয়ার বৌ হয় আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হবো।”
মারিয়ার হাসিমুখ।
রামিসার অবাকের সীমানা চূড়ান্ত পর্যায়ে। শেষে কিনা ইয়াদ দুআর প্রতি দূর্বল হয়ে পড়লো!রামিসা কিছুক্ষণ নির্বাক থেকে হঠাৎ করেই নেচে উঠলো মারিয়ার হাত চেপে,
–“ওরে,আমি কি খুশি!শুন,আমাদের এখন পরিকল্পনা হলো এই দুজনকে কাছাকাছি রাখা।দেখ,যতো কাছে থাকবে ততো বেশি অনুভূতির প্রজাপতি উড়াউড়ি করবে।আমিও চাই দুআর জীবনে ইয়াদ ভাইয়ার মতো ছেলে আসুক।যে কখনোই অন্যর কথায় আমার দুআকে কষ্ট দিবে না।আমার বিশ্বাস দুআর দাগ দেখেও ভাইয়া তাকে আপন করে নিবে।”
–“কিসের দাগ?”
–“দুআর একটু ত্বকের সমস্যা আছে।যদি দেখি ভাইয়া দুআকে ভালোবাসতে শুরু করেছে তখন আমি নিজেই ভাইয়ার কাছে সব খোলাসা করবো।”
–“হুম,ঠিক বলেছো।আমার মতে,ভাইয়া শুধু দুআ আপুর মুখশ্রীতেই ফিদা হয়ে আছে।তার কাছে অন্য কিছু যায় আসবে বলে মনে হয় না।”
–“দেখা যাক!আগে তাদের মন দেওয়া নেওয়ার ব্যবস্থা করবো।চল।”
রামিসা মারিয়ার কাঁধে হাত রেখে ফিসফিস করে কিছু বললো কানে।
‘
দুআ হাতা তুলে কিছু বোঝার চেষ্টা করছে।তার শুভ্র আর খয়েরী রঙের সংমিশ্রণের হাতে আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট।এখনো সেই স্থানে জ্বালা অনুভব করছে সে।জামার হাতা টেনে দিতেই তার সেই দাগ মাখা হাত ঢাকা পড়লো।কব্জি থেকে শুধু এখন তার শুভ্র হাতের অংশ বিদ্যমান।জিয়ার সাথে সে তার রুমেই বসে ছিলো।জিয়া ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দুআর উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,
–“নিচে চলো।”
দুআ মাথা নাড়ালো।
নিচে নামার সময় আবারও সে সম্মুখীন হলো সেই লম্বা মানবটার।ইয়াদ মারিয়ার কাঁধ জড়িয়ে রইলো।আর রামিসা তাদের সামনে দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে কিসব বলছে।দুআকে দেখতে পেয়ে মারিয়া তাকে জিয়ার হাত ছুটিয়ে ইয়াদের সম্মুখে দাঁড় করালো।দুআ তার নজর অল্প ঝুঁকে রেখেছে।জিয়া ইয়াদের সাথে তাদের আড্ডা দেখে মুখ ভেংচি কেটে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো।
ইয়াদ যেনো দুআতেই হারিয়ে যায় বারংবার।হালকা গোলাপি ওড়না মাথায় চেপে রেখেছে মেয়েটা।চারিদিকে চুলের ছড়াছড়ি।সামনের ছোট কেশের জন্যে মেয়েটার মুখটা ঢেকে আছে দুইদিকে।ইয়াদ আবারও দুআর মুগ্ধতায় হারালো।সে বুঝে উঠতে পারে না,এই
মেয়ের থেকে কেনো তার নজর সরানো দায় হয়ে পড়ে!
-“তোমরা কথা বলো।আমরা আসি। রামিসা আপু আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো।চলো।”
মারিয়া চোখ টিপে ইশারা করলো রামিসাকে।
–“হ্যাঁ, চল তো।দুআ তুই থাক।আমি আসি।”
রামিসা আর মারিয়া দৌড় লাগালো।
এইদিকে দুআ পড়লো বিপাকে।মনে মনে হয়ে গালমন্দ করলো সে।ইয়াদের হাসিমুখ দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে,বেজায় খুশি।দুআকে ইতস্ত হতে দেখে সে নিজেই মুখ খুললো,
–“সকালে কান্না করেছো কেনো?”
দুআ চমকে দৃষ্টি তুললো ইয়াদের পানে,
–“আপনি কিভাবে জানলেন?”
–“আমার বাসায় কি হয় না হয় আমি সব জানি।”
ইয়াদ নিজের পাতলা ঠোঁট জোড়া প্রশস্থ করলো।এমন ভাব দেখে দুআ নিজেই হেসে ফেললো শব্দ করে।দুআর হাসিতে আবারও ভেসে গেলো ইয়াদ।শরীর টা তার ঝিম ঝিম করছে।তীব্র হাসিতে দুআ চোখ বুজে থাকে।আর তার এক হাত দুই ঠোঁটের মাঝামাঝিতে অবস্থান করে।এতো অপরূপ বুঝি কেউ আবার হাসে!ইয়াদকে চুপ থাকতে দেখে দুআ ইয়াদের দিকে দৃষ্টি জ্ঞাপন করলো পুনরায়।ইয়াদের দৃষ্টি যেনো দুআ তেই আটকে রইলো।
–“আপনি হয়তো মানুষের সাথে খুব কম কথা বলেন,তাই না?”
–“তোমার চেয়ে একটু বেশি বলি।কিন্তু,তোমার স্বভাব আমার ভালো লেগেছে।অন্য সবার মত না তুমি।”
–“উম,নাহ।আমিও বলি, যদি সেটা আমার কাছের মানুষ হয়।”
–“গুড।মাত্রারিক্ত বকবক করা আমার একদম ভালো লাগে না।তুমি জানো,যখন আমি ফ্যানবেসের সামনে পড়ে যায়;মাই গড!সবাই আমাকে পারে না চিবিয়ে খেতে।কিছু কিছু মেয়ে আমার উপরেই চড়ে বসতে চাই।এখন এইসব এড়িয়ে চলি।আমাকে অবশ্য সবাই অনেকটা ভয় পায় এখন।আগে এমন ছিলাম না।হঠাৎই রগচটা খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছি।”
ইয়াদ নিজের বুকে দুই হাত চেপে বললো।
দুআ আবারও মলিন হাসলো,কোনো উত্তর দিলো না।ইয়াদের মনে ব্যাপক ইচ্ছা জাগলো দুআর খরশান গালখানা একটু ছুঁয়ে দেখতে।পরক্ষণে ইয়াদ নিজের চিন্তায় নিজেই ব্যাপক অবাক হলো।
–“আব্বা,তুমি কি বেরুবে আজকে?”
ডালিয়া হাসিমুখে তাদের পানে এগিয়ে আসলো।
–“নাহ, আম্মি।ঝড়ের কারণে রাস্তাঘাট একদম বাজে অবস্থায় আছে।”
ইয়াদের থমথমে কণ্ঠ।
–“আন্টি,জিয়া আপু কোথায়?”
–“নিচেই আছে,মা।লিভিং রুমে।”
দুআ মুচকি হেসে বিপরীত দিকে হেঁটে যাচ্ছে।
–“মেয়েটা খুব লক্ষ্মী। কাল একদিনেই মেয়েটার সাথে খুবই ভালো একটা সংযোগ হলো আমার।গ্রামে গেলে ওদের বাড়ি আমি অবশ্যই যাবো।”
–“হ্যাঁ,লক্ষ্মী তো বটেই।”
ইয়াদের হেয়ালি কথায় তার মা থমকে গেলো।ছেলের মুখের এমন কথা শুনবেন,কোনো দিনই আশা করেননি। যেখানে ইয়াদের গম্ভীর স্বভাবের কারণে কোনো মেয়ের কথা তিনি উল্লেখ করেন না,সেখানে আজ ইয়াদের মুখে অন্য মেয়ের কথা শুনে না চমকে পারলেন না উনি।
ইয়াদ তার কামরার দিকে পা বাড়ালো।
আর ডালিয়া নিজের কানে শোনা কথা মস্তিষ্ক থেকে বারংবার স্মরণ করার চেষ্টা করছে।
—————————–
তিনদিন পর আজ দুআ এবং বাকি সবাই ফিরে যাচ্ছে চট্টগ্রামে।
পুরো পাঁচদিনে ইয়াদ দুআর মোহে পুরোপুরিই মত্ত হলো।তবে এখনো ইয়াদ তার এই অনুভুতির নাম দিতে নারাজ।ইয়াদের যেনো এখনো আরো সময়ের দরকার।কিন্তু, ইয়াদ এটা বুঝেছে,ইয়াদ দুআর প্রতি যা অনুভব করে সেই অনুভূতি কখনো অন্যর প্রতি আসেনি।ইয়াদ আজ সারাদিন বাইরে ছিলো।তার বন্ধুরা তাকে পাগল করে ফেললো দুআর কথা জিজ্ঞাসার মাধ্যমে।ইয়াদ তাদের সাথে দুআর ব্যাপারে কথা বলতে নারাজ।পরক্ষণে ইয়াদ তাদের সাথে জিদ দেখানো শুরু করলে তারা দুআর ব্যাপারটা চেপে গেলো।অতঃপর বন্ধুদের সাথে খোশ মেজাজে আড্ডা দিয়ে সে ফিরলো বাড়িতে।
ইয়াদ প্রচন্ড অবাক।বাড়ির সামনে মাইক্রো বিদ্যমান।দুয়ারে রিজোয়ানকে দেখা যাচ্ছে।ইয়াদ গাড়ি পার্ক করে গাড়ি থেকে নামতেই রিজোয়ান তার দিকে এগিয়ে এলো,
–“চলে যাচ্ছি।আমাদের বাসায় যাবে কিন্তু তোমার পরিবারকে নিয়ে।”
ইয়াদ হাত মেলালো রিজোয়ানের সাথে।অবাক ভঙ্গিতে সে জবাব দিলো,
–“অবশ্যই।আবার আসবেন।”
বিদায় জানিয়ে ইয়াদ ভেতরে চললো।ভেতরে যেতেই ইয়াদের হৃদয়ে যেনো শুরু হলো হৃদয়ক্ষরণ।লাল রঙে আবৃত এই শুভ্র মানবীকে আর দেখা হবে না তার!!সামনের কিছু অবাধ্য চুল কানের পেছনে গুঁজে দিতেই কানের উপর লাল রঙের পাথরও দৃষ্টির অগোচরে গেলো না ইয়াদের।পূর্বের চেয়েও আজ তার বুক অতি তীব্রতায় শব্দ করছে।মারিয়া হঠাৎই দুআর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো।শব্দ করে কান্না করছে মারিয়া।দুআ তার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টায় রইলো।দুআর মুখে হাসি বিদ্যমান।ইয়াদের সব এলো মেলো লাগছে।দুআ চলে যাবে আজ,এটা যেনো ইয়াদের বিশ্বাস করতেই বাঁধা আসছে ভেতর থেকে।
–“ইয়াদ ভাইয়া,চললাম।দেখা হবে আবারও।আপুর বিয়েতে কিন্তু অবশ্যই আসবে।”
–“আসবো।”
দুআর পানে চেয়ে বললো সে।রামিসা ইয়াদের দৃষ্টির আন্দাজ অনুমান করে মুখ চেপে হাসলো।সবাই বেরিয়ে যাচ্ছে ইয়াদকে বিদায় দিয়ে।ইয়াদ মূর্তির ন্যায় সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে রইলো।দুআ তার সামনে আসলে ইয়াদ অস্ফুট কন্ঠে বলে উঠলো,
–“চলে যাচ্ছো?”
–“জ্বী।আমাদের গ্রামে অবশ্যই আসবেন।”
–“যাবো।অবশ্যই যাবো।না গিয়ে তো উপায় নেই।”
ইয়াদের কণ্ঠ অন্যরকম শোনালো যেনো।
দুআ আর কিছু ব্যক্ত করলো না।ধীর গতিতে মারিয়ার হাত চেপে হাঁটছে।বেরিয়ে যাওয়ার পূর্বে অবশ্য দুআ আড়চোখে এই খেলোয়াড় মানবটার পানে তাকিয়েছিলো।দুআর নিজেরই মন খারাপ হলো অজান্তে।
ইয়াদ তার হাতে থাকা ক্যাপ মুচড়ে ফেললো।দুআ চলে যাওয়াটাই তার যতো রাগের কারণ।এই পাঁচদিনে মেয়েটা যেনো ইয়াদের মনে এক গভীর দাগ কেটে ফেললো।দুআ নামের মেয়েটা তার মনের এমন অবস্থা করলো,তাকে ছাড়া এখন নিজেরই যেনো একাকীত্ব অনুভব হচ্ছে।
দুআর লাজুক হাসি,লাজুক চাহনী,পবিত্রতায় ঘেরা ব্যবহার,ধীর শব্দে কথা বলা,সম্মান জানানো,ইয়াদ অন্যদের বকাবকি করার সময় নিজেই ভয়ে জমে যাওয়া,ভীত চাহনীতে তার দিকে চেয়ে থাকা, সবটা একে একে মনে আসছে ইয়াদের।
অস্থিরতায় ইয়াদের মাথা ব্যাথা করছে।কামরায় প্রবেশ করে উবুত হয়ে শুয়ে পড়ল সে।বুকের একপাশে খালি অনুভব হচ্ছে তার।কম মেয়ে তো তার জীবনে ছিলো না! রাত পোহালে কেউ যেনো কাউকে চিনতো না তারা।কিন্তু,তাদের প্রতি মনের কোনো অনুভূতি কাজ করেনি।আর না কখনো তাদের কথা মনে পড়েছে। তবে দুআ বিহীন এখন ইয়াদের নিজেকে মনে হচ্ছে সর্বহারা।ইয়াদ চোখ বুজে গত পাঁচদিনের স্মৃতিচারণ করার চেষ্টা করলো।সর্বপ্রথম ভেসে এলো দুআর সেই পবিত্র মুখমন্ডল আর নজর কাড়া অপরূপ নেত্রযুগল।
বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো আকাশের বুকে।উদোম শরীরে সোফায় গা এলিয়ে রইলো ইয়াদ। হাতের জ্বলন্ত সিগারেট মাঝে মাঝে তার ঠোটে অবস্থান করছে।মেজাজ তার প্রচুর বিগড়েছে।এই মুহূর্তে তার মনে হচ্ছে কাউকে না ঝারলে দুআর চলে যাওয়ার রাগটা দমানো সম্ভব না।সে বিছানার উঁচু স্থান থেকে মোবাইলটা নিলো।ফোন লাগালো ইয়াসিরকে,
–“এই তোদের সমস্যা কি?”
ফোন রিসিভ হতেই ইয়াসিরকে ধমকে উঠলো সে।
–“কিসের সমস্যা?দুআর ব্যাপারে?ওহ,আসলেই বল তো কি করেছে দুআ তোকে?আগে আমাদের দেখেছিস কোনো মেয়ে নিয়ে তোর সাথে মশকরা করতে?কিন্তু, এই মেয়ের দেখা পাওয়ার পর থেকে কেমন যেনো অন্যমনস্ক হয়ে পড়লি তুই।কি আছে এই মেয়ের মাঝে?”
–“ওর মাঝে পবিত্রতা আছে।তার পবিত্রতা সরলতা সব আমাকে মেরে দিয়েছে।আমি শেষ মনে হচ্ছে।মেয়েটা আমাকে না বলেই চলে গেলো।শেষ মুহূর্তে লাল রং জড়ানো কি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিল?আমার মাথা হ্যাং হয় আছে।পাঁচদিন,পাঁচদিনে আমাকে শেষ করে দিলো মেয়েটা।”
ইয়াদ মাথা চেপে ধরলো নিজের।
–“এখন প্লিজ বলিস না তুই ওকে..?”
–“হুম।তোর মুখের না বেরুনো কথাটা সত্যিই।কিন্তু বুঝলাম না কিভাবে কি আগাবো আমি?মেয়েটা একদম সহজ সরল।আমার কথা জানলে সে যদি আমাকে ঘৃণা করে?”
এই প্রথম ইয়াসির ইয়াদের নিজেকে নিয়ে চিন্তার সুর শুনলো।
–“তুই কি সত্যি ইয়াদ বিন তেহরান?যে মেয়ে মানুষকে বিষ ভাবতিস?এখন এক ছোট মেয়ে তোকেই নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছে?”
–“আমি জানিনা কিছুই।কিন্তু দুআকে আমার চাই। জোর করে নয়,নিজের ভালোবাসায়।আমি যেমনটা অনুভব করি,সেও কি তেমনটা অনুভব করবে আমার প্রতি?”
ইয়াদ দ্বিগুণ করলো নিজের গলার শর।
–“ঘোর চিন্তার বিষয়। ছোট মেয়ের অনুভূতিও ছোট এখন। ছোট মেয়ের দিকে যেহেতু নজর দিয়েছিস, তাই ধৈর্য ধর।আরে হ্যাঁ,আমাদের কাছে অনেক বড় একটা সুযোগ আছে।এর মধ্যে রামিসাকে খবর লাগা দুআর,
সরি দুআ ভাবীর প্রতি নজর রাখতে।অন্য কারো দিকে তার নজর যদি যায়?”
–“মেয়েটা সহজ সরল,একদম পবিত্র।তার কখনো এইসবে সাহসই হবে না।মারিয়া থেকে দুআর সম্পূর্ণ বায়োডাটা আমার জানা আছে। তাকে নিজের সব অনুভূতি দিয়ে আগলে রাখতে চাই।ওকে আমার চাই,ইয়াসির।”
–“বুঝলাম খেলোয়াড় সাহেব।আমি আগেই বুঝেছি তুই এই মেয়েতে শেষ হবি।প্ল্যান আছে বড়। এখন শুধু দিন গুনতে থাক।”
ইয়াসির কথাটা বলতে ইয়াদ ফোন রাখলো।
তার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না,দুআর চলে যাওয়া তাকে এতটাই গুড়িয়ে দিবে যে মনের ভেতর সুপ্ত অনুভূতিটা আজ মনের অজান্তেই বেরিয়ে আসবে।ইয়াদ ঘাড়ে হাত ঘষলো।তার মনে এক সুপ্ত চিন্তা উঁকি দিলো,
–“আমার অতীত শুনে তুমি কি আমাকে ভুল বুঝে আমার থেকে দূরে সরে যাবে?উহু,আমার অতীত কখনোই তোমার সামনে আসতে দিবো না আমি।ধরণীর মাঝে যতো বাঁধা আসুক না কেনো,তুমি নামক শুভ্র চাঁদের টুকরোকে ইয়াদের প্রয়োজন সর্বক্ষণ।সত্যি আমি তোমাকে চাই,চাঁদ।উম না,তুমি চাঁদ না।।তুমি একান্তই আমার চন্দ্রাবতী।”
অস্থিরতার পাশাপাশি ইয়াদের মনে উড়াল দিলো শত ডানার প্রজাপতি।