সিজন 1 অধ্যায় 14 রহস্য নাটকীয় মুহূর্ত #অতীতের রহস্য #সত্য প্রকাশ #রক্তের টান অনিক আনিকা শিহাব নিশিতা রেহানা বেগম

রহস্যের জট ও সত্যের সন্ধান

6 মিনিট পড়া 846 শব্দ
রহস্যের জট ও সত্যের সন্ধান

_দরজা ধাক্কানো শব্দ শুনে নিশু ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো।তাড়াতাড়ি ওঠে দরজা খুলে দিলো।

শিহাব দাঁড়িয়ে আছে নিশুর দিকে তাকিয়ে।

শিহাব -ভাবনা চিন্তা সব শেষ হলো?দুপুরের পরথেকে অনেক ভাবা হয়েছে, আর ভাবতে হবে না।।এখন খাবে চলো,রাত অনেক হয়েছে।

নিশু -শিহাব! তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে নাতো?

শিহাব -আবির আর তুমিই আমার জীবনের সব।তোমাদের ছাড়া আমি কোথায় যাবো বলোতো?

অনেক কথা হয়েছে,দুপুর থেকে কিছুই খাওনি,এখন অনেক রাত হয়েছে, তুমি বসো আমি খাবারটা নিয়ে আসি।

__বলেই শিহাব রুম থেকে বাহিরে গেলো খাবার আনতে।নিশু শিহাবের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলছে।কিভাবে সব কিছু এতো সহজে মেনে নেয় শিহাব!আমি কেন পারিনা,আমাকে কেনো পুরোনো স্মৃতি গুলো কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে!

শিহাব খাবার নিয়ে রুমে এসে নিশুর পাশে বসলো,

নিশু -আবির কি ঘুমিয়ে গেছে?

শিহাব -হ্যা,আবির কে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে মায়ের কাছে রেখে আসছি।এখন আর কোনো কথা নয়,চুপ করে বসো আমি তোমাকে খাইয়ে দি!

নিশু -তুমি এই রকম কেন, বলোতো? সব কিছু বুজেও না বুজার ভাণ করে থাকো।

শিহাব -আমি ঠিকই আছি।আমি চাই না পুরোনো কোনো স্মৃতি এসে আমাদের জীবনটা তসনস হয়ে যাক।আমি চাই তুমি আর আবির সব সময় ভালো থাকো।একটা কথা সব সময় মনে রাখবে, নিজের জীবনটা নিজের মনের মতোন করে গড়ে তুলবে।তাহলেই তুমি সফল।

নিশু-অনেক জ্ঞান দিয়েছো।কলেজে স্টুডেন্টদের জ্ঞান দিতে দিতে এখন বউকেও জ্ঞান দেওয়া শুরু হয়েছে গেছে।আমার জন্যতো খাবার আনলে নিজে খেয়েছো?

শিহাব-না,আমি পরে খাবো তুমি আগে খাও।

নিশু -একদম চুপ! (ধমক দিয়ে)আমি জানি পরে তুমি খাবেনা,এখন একসাথেই খাবো।না হলে আমি খাবো না।

শিহাব -ঠিক আছে।আর রাগ দেখাতে হবেনা।এইবার তো খাও।

_দুজনেই খাওয়া শেষ করে শুয়ে পড়লো,নিশু ভাবছে অনিকের কথা কি শিহাব কে বলবে।না থাক এতে শিহাবের কষ্ট হবে,পরে না হয় বলবো।

এমন সময় শিহাবে ফোনটা বেজে উঠলো।

নিশু -কে ফোন করেছে, এতো রাতে?

শিহাব -নাম্বারটা চিনি না,কথা বলে দেখি।

__শিহাব ফোনটা রিসিভ করার সাথে সাথে ফোনে ওপাশ থেকে অনিক বললো।

অনিক -এতো রাতে ফোন করে কি ডিস্টার্ব করলাম নাকি শিহাব?

শিহাব -আরে অনিক তুই!আসলে বুজতে পারিনি।

কেমন আছিস বল?

__অনিকের কথা শুনে নিশু উঠে বসে পড়লো।শিহাব চোখে ইশারা দিলো শোয়ার জন্য।

অনিক -এইতো ভালো।তুইতো ভালোই আছিস তাইনা?

তোর ছেলেটা কেমন আছে বলতো?ওকে দেখেই কেন যেন মায়ায় পড়ে গেলাম।

শিহাব-হ্যা ভালোই আছে। কিন্তু তুই দেশে ফিরলি কবে?

অনিক – ৪/৫ দিন হইছে,তোর বউ কেমন আছে? নিশ্চয় ঘুমিয়ে পড়েছে?

শিহাব -ভালোই আছে।এখনো ঘুমায় নাই।আজকে ওর সাথে তো তোর কথাই হয় নাই।এক কাজ কর,বাসায় আয়।

অনিক -হ্যা ভাবছিলাম তোর ছেলেটাকে দেখতে যাবো।আচ্ছা আসলে তোকে ফোন দিবো,তাহলে এখন রাখি,ভালো থাকিস।

শিহাব -আচ্ছা ঠিক আছে।বলে ফোনটা রেখে দিলো।

__অনিক শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকলো।আমি যতটুকো জানি নিশুর বিয়ে হয়েছে ৩ বছর,আবিরকে দেখে তো ৪/৫ বছর মনে হয়।কিন্তু কিভাবে?আবির তাহলে শিহাবের ছেলে নয়।আমাকে জানতে হবে আবির কার ছেলে।আচ্ছা নিশু আমার কাছ থেকে যাওয়ার কয়েক দিন আগে থেকে অসুস্থ ছিলো।আনিকার সাথে ডাক্তারের কাছে পাঠালাম।তখন কি সেই pregnant ছিলো? ওহঃ আমার এই রকম লাগছে কেন? আচ্ছা নিশু সেই দিনের রিপট গুলোতে কি ছিলো?আনিকা যাওয়ার পর থেকে এখনো ওর সাথে যোগাযোগ করি।নাই।আমার মনে হয় আনিকাই বলতে পারবে।সেই দিন রিপটে কি ছিলো।আনিকার বাসায় কাল একবার যাবো? সেইদিনের ব্যাপারে জানতে হলে আনিকার বাসায় যেতেই হবে।অনিক মনে হাজারটা প্রশ্ন নিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো খেয়াল নেই।

সকাল বেলা রেহানা বেগমের ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো।

রেহানা বেগম -ঘুমাইয়া ঘুমাইয়া ৫ বছর পার করলি আর কতো ঘুমাবি, উঠ নাস্তা করেনে।আর শুন তোর বাবা তোর জন্য একটা মেয়ে দেখেছে।অনেক ভালো ঘরের মেয়ে,দেখতেই সুন্দর। এইবার তো বিয়েটা করে ফেল।

অনিক -মা! নিশুও তো ভালো ঘরের মেয়ে ছিলো,দেখতেও সুন্দর ছিলো।কিন্তু তোমাদের ভালো লাগে নাই,এখন কি করে ভাবলে আমি তোমাদের পছন্দ করা মেয়ে বিয়ে করবো? আর কতবার বলবো আমি বিয়ে করবোনা।আর ওই রুমে কোনো মেয়ের থাকার অধিকার নাই।যেই রুমে আমার নিশুর ছোঁয়া আছে সেই রুমে কাউকে থাকতে দিবোনা।কথা গুলো বলেই অনিক ফ্রেস হতে গেলো।

__রেহানা বেগম ছেলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভাবলো,ও কি এইরকমভাবেই থেকে যাবে

সত্যি তো নিশু যাওয়ার পরে রুমে তালা দিয়ে রাখছে আজও খুলতে দেয়নি।

বাহিরে যাওয়ার সময়ও চাবিটা নিয়ে গেছে।

অনিকের বাবা পেপার পড়তে পড়তে রেহানা বেগমের কাছে গিয়ে বসলো।

অনিকের বাবা-এখন আর ভাবে লাভ কি? তোমার জন্যই আজ আমি সব হারিয়েছি।ছেলেটা তো এতোদিন বাহিরে ছিলো,এখন এসেও না আসার মতো। মেয়েটাও যে গেলো আর এই বাড়িতে ফিরে আসে নাই।

রেহানা বেগম-আমি তো ওদের ভালোই চেয়েছিলাম।

__অনিক রেডি হয়ে আনিকার বাড়িতে যাবে বলে বাহির হচ্ছে।পিছন থেকে রেহানা বেগম বললো

তুই কি কোথাও যাচ্ছিস?

অনিক-হ্যা,নিজের ভুল গুলো শুধরাইতে যাচ্ছি।বলেই অনিক চলে গেলো।

_আনিকা দরজা খুলেই অনিককে দেখেই অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

অনিক -কিরে দরজায় এইভাবে দাঁড়করিয়ে রাখবি,ভেতরে যেতে দিবিনা।

আনিকা অনিককে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে

ভাইয়া এতো দিন পর তোর আমার কথা মনে হলো? আমার জন্য তোর জীবনটাও শেষে হয়ে গেল।

অনিক-এখন এই গুলো বাদ।সবাই কোথায় আজ তোদের সাথে থাকবো বলে চলে আসলাম।

__অনিক সবার সাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আনিকাকে বললো তোর সাথে আমার একটু কথা ছিলো।

আনিকা -হ্যা। বলনা কি কথা?

অনিক -তুই যে দিন নিশুকে নিয়ে ডাক্তার কাছে গেছিস সেই দিন ডাক্তার নিশুকে কি বলে ছিলো?

আনিকা -মানে? তুই এই কথা এখন বলছিস। তুই জানিস না? সেই দিন ডাক্তার বলে ছিলো ভাবী pregnant। ভাবী আমাকে বলেছিলো আমি যেন বাসায় এসে না বলি,তোর জন্মদিনে সবাইকে সারপ্রাইজ দিবে বলে আমাকে বলতে দেয়নি।তারপর আমিও চলে এলাম,শুনলাম মা নাকি সেইদিন রাতেই নিশুকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।আচ্ছা ভাইয়া ভাবীর এখন কি অবস্থা তুই কি কিছু জানিস? তোর ছেলে বেবি হইছে নাকি মেয়ে?

__আনিকা কথা গুলো বলছে ঠিকে কিন্তু অনিকের মন আবিরে কথায় বার বার ভাবছে,তাহলে আবির আমার ছেলে!….

অধ্যায় 14 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!