না-বলা আশঙ্কার ছায়া

5 মিনিট পড়া 685 শব্দ
না-বলা আশঙ্কার ছায়া

নিশিতা কি বলবে বুজতে পারছে না।নিশিতা নিজেও তো খেয়াল করিনি অনিক যে আসছিল। দোষটা তো তারো আছে।

অনিক-কি হোলো কি ভাবছেন? মিস নিশিতা!

নিশিতা-আমি কিছু ভাবছি না,ওকে বাই বলে নিশিতা ওই খান থেকে চলে আসল।

আনিকা-ভাইয়া তুই ওই ভাবে কি দেখস নিশিতাকে?

অনিক-তুই তো ওর কথা কখনো বলিসনি। তোর যে তো সুন্দরী একটা ফ্রেন্ড আছে।

আনিকা-কেন ভাইয়া তুই কি ক্রাশ খাইলি নাকি ওর উপর?

অনিক-তুই কি যে বলিস না, চল বাড়ী চল।

দুইজনে কথা বলতে বলতে বাড়ী পথে পা বাড়ালো।

অনিক মনে মনে নিশিতা কথায় ভাবতেছে।অনিকের নিশিতা কে প্রথম দেখায় ভালো লেগেছিল। নিশিতাকে কি ভালোলাগার কথা সরাসরি বলবে। নাকি আনিকাকে বলতে বলবে।অনিক কথা গুলো ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়ছে ঠিক তার মনে নাই।

কিরে তুই নাস্তা না করে কলেজে যাবি নাকি?তুই কি এখনো বড় হবি না? আর কত জ্বালাবি আমাকে?কথা গুলো বলতে বলতে ইয়াসমিন বেগম নিশিতার রুমে আসলেন।মেয়ের সাজগোজ দেখে বললেন কিরে তুই কি কলেজে যাচ্ছিস নাকি পার্টিতে?

নিশিতা -মা,,,,কলেজে যাওয়ার সময় যদি একটু সেজেগুজে না যাই তুমি বলো তোমার মেয়ের দিকে কেও তাকাবে?

মা-এই শুন আমার মেয়ে যথেষ্ট সুন্দরী যে কেউ তার প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে যাবে। মেয়ে বলে বলছি না।

আমি- হা হা হা দেখতে হবে না মেয়েটা কার!!

তখনি নিশিতার বাবা আতিকুর রহমান এসে বললো মা,মেয়ে আমাকে রেখে কি কথা হচ্ছে?

নিশিতার বাবা আতিকুর সাহেব ব্যবসা করেন। ব্যবসার কাজে ওনাকে বেশী দেশের বাইরে কাটাতে হয়।

মা-তোমার মেয়ে না খেয়ে কলেজে চলে যাচ্ছে, তাই খাওয়ার জন্য ডাকতে আসলাম।

বাবা-নিশু আম্মুটার আজ কি হয়েছে মন খারাপ?

আমি – আব্বু আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। সময় পেলে কলেজের ক্যান্টিনে খেয়ে নিবো।আব্বু এইবার আমি আসি।

কথাটা বলেই বেরিয়ে পড়লো নিশিতা।নিশিতা মনে মনে ভাবতে লাগলো আচ্ছা অনিক আজ কলেজে আসবে আনিকা কে নিতে।আজ কি সে আমার সাথে কথা বলবে।

চাচা এক কাপ চা দিন তো। কথাটা বলে কলেজের পাশে রহিম চাচার দোকানের সামনে অনিক নিশিতার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। নিশিতাকে একটা বার দেখার জন্য

_কিরে তুই এখানে এখনো বসে আছিস?

মায়ের কথা শুনে কল্পনার জগত থেকে ফিরলো নিশিতা।

__চল খাবি না? সকালেও কিছু খাস নাই।এইবার ফ্রেস হয়ে খেতে আয়। তোর মামা তোর জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে।

নিশিতা -আসছি তুমি যাও।

মা- হুম, তাড়াতাড়ি আয়।

ইয়াসমিন বেগম এবং সৈকত খাবার টেবিলে নিশিতার জন্য বসে আছে দেখে নিশিতা বলে উঠলো তোমরা এখনো খাওনি?

সৈকত-তোকে রেখে কিভাবে খাই।আয় বস।

নিশিতার মুখের দিকে তাকিয়ে নিশিতার মা বললো তোর কি কিছু হয়েছে?

নিশিতা কি বলবে বুজতে পারছে না।নিজেকে সামলিয়ে বললো , মা আমার ছেলেটা খেয়েছে?

নিশিতার মা খেতে খেতে বললো আসার পরতো ওকে একবারও কোলে নিলি না।আমি খাইয়ে ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছি।তুইও খেয়েনে।

সৈকত-নিশিতা! অনিক কি আর কখনো ফিরে আসবেনা?ওর যে একটা ছেলে আছে তাও হয়তো জানেনা।

মা-আর ফিরে আসার দরকার নাই।যে চলে গেছে তাকে ভুলে থাকাটাই ভালো। যে এখন পাশে আছে তাকেঘিরে ভালো থাকুক।

নিশিতা-আমার খাওয়া শেষ আমি আবিরকে দেখে আসি।

আবির কত সুন্দর করে ঘুমিয়ে আছে। পুরো অনিকের

মত হয়েছে।নিশিতা ছেলের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ভাবতেছে তোর বাবা ফিরে এসেছে আবির।ও যদি জানতে পারে তুই তার ছেলে হয়তো আমার কাছ থেকে তকে কেড়ে নিবে।কথাটা ভাবতেই ছেলেকে বুকে জড়িয়ে চোখ বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে।

রুমে এসে মেয়ের এমন কাণ্ড দেখে ইয়াসমিন বেগম বললেন আমার মনে হয় তুই কিছু লুকাচ্ছিস।নিশিতা! কি এমন হল আজ তুই কিছু বলতে পারছিস না।

নিশিতা-মা!অনিকের সাথে দেখা হল আজ।

মেয়ের মুখে কথা টা শুনে ইয়াসমিন বেগমের মনে হলো তার মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ছে।মেয়েকে কি বলবে ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।মেয়েটা সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু করেছে। মেয়েকে কিছু না বলে রুম থেকে চলে গেলেন ইয়াসমিন বেগম। ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখে সৈকত বসে কফি খাচ্ছে। সৈকতের পাশে গিয়ে বসে পড়লো ইয়াসমিন বেগম।

সৈকত-আপা!তোর কাজের মেয়েটা খুব ভালো কফি বানাতে পারে।খাওয়ার পরে কফি না হলে আমার ভালো লাগেনা, বলতে বলতে ইয়াসমিন বেগমের দিকে তাকালো।আপা! কি হয়েছে এইভাবে কি ভাবছিস?

__আজ নাকি নিশিতার অনিকের সাথে দেখা হয়েছে।

সৈকত-মা,,,নে,,,,,,?

মা-হুম নিশিতা বলছে।এখন যদি নিশুর জীবনে অনিক ফিরে আসতে চায় তাহলে শিহাবের কি হবে?শিহাব সেই দিন নিশুর সব কিছু মেনে নিয়ে নিশুকে বিয়ে করেছিলো।আবিরকে নিজের থেকে বেশী ভালবাসে শিহাব।শিহাব নিশু আর আবিরকে ছাড়া থাকতে পারবেনা। তুই একটা কিছু কর সৈকত।

_নিশু বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের চাঁদ দেখছে। এমন সময় কেউ পিছনদিক থেকে জড়িয়ে ধরলো নিশুকে।নিশুর একটুও চমকালো না কারন সে জানে শিহাবেই তাকে জড়িয়ে ধরেছে।

নিশু -কখন এলে?

__নিশুর কাঁধে শিহাব মুখটা গুজিয়ে বললো

শিহাব-আমার বউটার মন খারাপ।নাকি আমার উপর তার রাগ হয়েছে?

অধ্যায় 3 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!