সিজন 1 অধ্যায় 12 ডার্ক রোম্যান্স দ্বন্দ্ব #রাগ #জেদ শারলিন সৌরভ

অভ্যাসের ছদ্মবেশে প্রেম

5 মিনিট পড়া 716 শব্দ
অভ্যাসের ছদ্মবেশে প্রেম

সৌরভ গ্লাসের পানিটুকু এক চুমুকে শেষ করে টেবিলের উপর গ্লাস রেখে বলল

– উমম তোমার কী মনে হয়??

– আমি তোমাকে প্রশ্ন করেছি। তার উত্তর দাও।

গ্লাসটাকে হাত দিয়ে নড়াচড়া করছে, তারপর কিছুক্ষণ ভাবলো। কী ভাবছে জানি না। আমি বললাম

– কী উত্তর দিবে?

– তুমি আমার ২য় নাম্বার প্রেমিকা!

– আমার পরেও তো অনেক আছে তাই না?

– হ্যা আছে।

– তোমার প্রথম প্রেমিকার নামটা শুনি? আর ব্রেকাপ এর কারণ?

– নাম? আচ্ছা তুমি পুরোনো কথা উঠাচ্ছো কেনো?

– উত্তর চাই আমি বুঝেছো?

– ওর নাম বৃষ্টি ! ব্রেকাপ এর কারণ, “আমাকে তার আর ভালো লাগেনা। এক জিনিষ আর কতদিন?? আমার সাথে নাকি তার কোনো মিলই নেই! আমার প্রতি তার আর কোনো ফিলিংস নেই! ”

– শুধু ওর দোষ দিচ্ছো কেনো? তোমার দোষ নেই বুঝি?

– নাহ ছিলোনা, কারণ ও আমার প্রথম ভালবাসা। আমার জীবনে যখন ভালবাসা নামক অনুভূতি টা ওর হাত ধরেই এসেছে। ওকে আমি যতোটা ভালবেসেছি, ততোটা তোমাকে অনন্তকাল ভরেও বাসতে পারবো না।

– আমার পরে কারা আছে শুনি না তাদের নাম?

– এতো নাম মনে নাই। ফোনে নাম্বার সেভ করা আছে পরে দেখে নিও।

– আমার এখানে কেনো এসেছো?

সৌরভ মনে হলো অবাক হয়েছে আমার প্রশ্নে!

– আমার মামা বাড়ি তাই এসেছি।

– এতদিন কেনো আসনি? হঠাৎ আমার বিয়ের দিনই হাজির??

অনেকক্ষণ চলে যাবার পরও এই প্রশ্নের উত্তর পেলাম না। ও গ্লাস টাকে নিয়েই ব্যস্ত আছে। আমার সাথে তাহলে এত নাটক করার কী দরকার ছিলো? আমাকে যদি ভাল নাই বাসতে পারলো তাহলে আমার এখানে কেনো এসেছে?

আমি দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠতে গিয়ে টেবিলের সাথে কাটা হাতে ব্যথা পেলাম। কী যে অসহ্যকর ব্যথা। সৌরভ সাথে সাথে উঠে আমার হাত ধরে বলল

– একটু সাবধানে থাকলেই পারো।

আমি ওর হাত ছাড়িয়ে দিয়ে বললাম

– যথেষ্ট হয়েছে নাটক আর ভাঁওতাবাজি। আমার সাথে অনেক মজা করা হয়েছে তোমার। এখন আর নাটক করতে হবে না।

– সত্যিটাই তো বললাম। আর যাকে আমি ভালবাসি তার কথা শুনতে চেয়েছো তাই বলেছি।

– খুব সহজ না তোমার কাছে এসব তাই না?

– আরে আমি তো জাস্ট মজা করেছি স্বপ্নে, আর তুমি সেটাই সিরিয়াসলি নিয়ে এতো মহাকান্ড করে বসলে।

– তোমার কাছে মজা ছিলো, আমার কাছে না।

– দেখোই না বৃষ্টি আমাকে ছ্যাকা দিয়েছে বড়লোক এক ছেলের জন্য। আমি তো তার বাস্তব জগতের ছিলাম তাও চলে গেলো।

তাই আমি ভাবলাম তুমিও তাই করবে।

– বের হও বাসা থেকে এখনি।

– আহারে সত্য কথা সহ্য হচ্ছে না। আমার আরো অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে। তবে তোমার ঝামেলার জন্য তাদের সময় দিতে পারছি না।

– তুমি গতকাল বললা, আমাকে ভালবাসো। আবার আজকেই এই কথা বলছো?

– আরে ওটা সান্ত্বনা ছিলো। তা না হলে পরের মেয়ে মইরা গেলে একটা বিশ্রী ব্যাপার।

– আমার তোমার সান্ত্বনা লাগবে না। ধ্বংস তো করেই ফেলছো আমাকে, এখন কীসের জন্য ওয়েট করছো?

– আসলে আমি নিজেও জানি না কী কারণে আমি এখনো তোমার আশেপাশে? আমি চাচ্ছি চলে যেতে বাট পারছি না। কিছু একটা তোমার দিকে আমাকে টানে। আগে তো একটা নেশার মতো ছিলা।

– নেশা কেটে গেলে আমিও কেটে যাবো।

– দারুণ একটা কথা বলেছো। নেশা না কাটা পর্যন্ত আমি যাচ্ছি না।

আমি রান্নাঘরে গিয়ে তরকারি কাটার চাকু এনে ওর হাতে দিয়ে বললাম

– তোমার তো যাওয়ার ইচ্ছা নেশা কবে কাটবে তার ঠিক নেই তার আগেই আমার গলায় খুব জোড়ে একটা পোচ দাও। ব্যাস, সমস্যা সমাধান।

চাকুটা সৌরভ হাতে নিয়ে বলল

– ভালো ধার আছে। তুমি নিজেই তো সাহসী এসব ব্যাপারে। আমাকে শুধুশুধু এসব উটকো ঝামেলায় জড়াচ্ছো কেনো?

– আরে এদেশে আসল খুনি কে পুলিশ ধরতে পারেনা। আর তুমি তো ভালো মানুষ না যে ধরা খাবে।

ও চাকুটা আমার গলায় ধরে বলল

– আমি কিন্তু তোমাকে সত্যি মেরে ফেলতে পারি।

– জানি তো।

– না পারবো না। নেশা কাটুক তারপর জাহান্নাম এ যাও আমার দেখার বিষয় না।

– এখনি বাসা থেকে বের হও।

– যেতে ইচ্ছে করছে না। তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।

– সৌরভ প্লিজ আমাকে সত্যিটা বলো। আমার না মাথা ফেটে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে, খুব।তুমি কি পাগল? একেক সময় একেকটা কথা বলো?

– আরে আমি তো বললামই।

– সৌরভ আমি না তোমাকে খুব ভালবাসি।

হাতের আংগুল গুলো দেখিয়ে বললাম

– দেখোই না তোমাকে কাছে পাবার জন্য আংগুলে আলপিন ফুটিয়েছি। জানো তোমার জন্য আমি অনেক কষ্ট করেছি।

– আমিও করেছিলাম লাভ হয়নি।

– সৌরভ আমি তোমার ভালবাসা না প্রয়োজন? প্লিজ একটা উত্তর চাই আমি। তারপর আমি আর তোমাকে আমার কাছে আসতে বলবো না।

– কোনোটাই না। তুমি আমার স্বভাব।রোজ তিনবেলা তোমার সেই ছবিটা না দেখলে ভালো লাগেনা। দেখতেই হবে। এটাই স্বভাব। তোমাকে স্বপ্নে আনতে হবে এটা আমার স্বভাব।

অধ্যায় 12 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!