সিজন 1 অধ্যায় 29 রহস্য ক্রাইম #ভয়ঙ্কর #আঘাত শারলিন

ফরমালিনে ভাসমান খোলা চোখ

4 মিনিট পড়া 501 শব্দ
ফরমালিনে ভাসমান খোলা চোখ

– তুমি কী করবে?

সৌরভ বলল

– সেটা সকালে দেখা যাবে। এখন ঘুমাও।

– তোমার অফিস আছে না?

– হ্যা। আমার খুব ঘুম আসছে।

– তাহলে তুমি ঘুমাও আমি জেগে থাকি।

সৌরভ হাম ছাড়তে ছাড়তে বলল

– দুজনে ঘুমাই তা না হলে ঘুমের অভাবে আমরা দুটাই পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবো।

– যদি আবার সেইটা আসে?

সৌরভ বালিশে মাথা রেখে বলল

– ভূতের ভয়ে এখন ঘুম বাদ দিবো। প্রবাদ আছে একটা। শুনবা?

– না।

– চোরের ভয়ে ন্যাংটো হয়ে থাকা। আমাদের দশা এখন তাই হয়েছে।

– ছিঃ এগুলা কী বলো?

– আমি তো বলেছি আর তুমি তো স্বয়ংবর ন্যাংটো ভূত দেখে এসেছো।

ভয়ে এতোটাই অস্থির ছিলাম যে ভূত বস্ত্র ছাড়া না সহ সেটা আমার উপর প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ঘুম ভাঙল যখন তখন আশেপাশে ও নেই। ঘড়িতে দেখলাম সকাল ১১ টা। ওর বালিশের উপর চিরকুট রাখা। লেখা

– দয়া করে রান্না করে রাখবেন। দুপুরবেলা বাসায় খাবো।

চিরকুট পেয়ে তাড়াতাড়ি করে বিছানা ছেড়ে উঠলাম। খাবার টেবিলে নাস্তা রাখা। ফুপুকে পেলাম না বাসায়। এর অর্থ বাসায় আমি একা!

এই বাড়িতে একা থাকার কোনো মানে হয়না। নাস্তা করে রান্নায় মনোযোগ দিলাম। রান্না করার মতোন তেমন কিছুই বাসায় নাই। ভাত রান্না করলাম আর ডিম ছিলো তাই ডিম আলু দিয়ে ঝোল রান্না করলাম। কোনো মশলাপাতিও নেই। কেউ কি বিশ্বাস করবে যে এই বাসায় খাবার মতো কিছুই নেই।

রান্না শেষ করলাম ১.৩০ এ। ড্রয়িংরুম এ বসে বসে মোবাইলে গেমস খেলছি। এই বাড়িটা ডুপ্লেক্স কিন্তু আজব ব্যাপার হচ্ছে দোতলায় কেউ যায়না। কেনো যায়না??

দোতলার দিকে তাকাতেও কেমন লাগে। মোবাইলে গেমস খেলছি হঠাৎ আওয়াজ হলো। ভাবলাম ইঁদুর বিড়াল হবে। কিন্তু আওয়াজ টা ক্রমাগত বাড়ছেই। তারপর দরজা খুলে যাওয়ার আওয়াজ হলো। আওয়াজ টা দোতলা থেকে এসেছে। ড্রয়িংরুম এ বসলে দোতালা টা দেখা যায় খুব ভালো ভাবে। আমি যেখানে বসে আছি ঠিক সেই বরাবরের একটা রুমের দরজা খুলে গেলো।

তারপর দরজাটা বারবার ধাক্কা লাগছিলো। বাতাসে দরজা খুলে গেছে। এই আওয়াজে মাথা ব্যথা করছে। তাই মোবাইল রেখে দোতালায় উঠে এলাম। এতো ময়লা জমেছে যে দেখেই মনে হচ্ছে অনেক দিন যাবত পরিষ্কার করা হয়না। দোতালায় উঠার পর কেমন একটা গন্ধ নাকে আসছে। আমি একবার কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরি তে ঢুকেছিলাম ফ্রেন্ডের সাথে। কেমিস্ট্রি ল্যাবরেটরি তে কেমিকেল এর গন্ধ প্রচুর। ঠিক সেই রকমের গন্ধ নাকে আসছে। বুঝলাম না এখানে এই ধরনের গন্ধ কীভাবে আসলো।

দরজা আটকাতে যাবো তখন রুমের মধ্যে চোখ গেলো। মাকড়শারজাল দিয়ে ভরা। অন্ধকার আর কেমন সেই কেমিকেল গন্ধ দিয়ে পরিপূর্ণ। দরজা আটাকাতে পারছি না। এতো শক্ত দরজা কীভাবে খুললো? আর এতো জং ধরেছে স্ক্রু নাটে যে দরজা নড়ছেই না। কিন্তু আমি নিচে থেকে তো দেখলাম দরজা বারবার ধাক্কা খাচ্ছে।

মনে হয় দৃষ্টি ভ্রম হয়েছিলো। আমার ওড়না দরজার সাথে এমন ভাবে আটকালো যে বাধ্য হয়ে রুমের মধ্যে ঢুকতে হলো।

রুমের দক্ষিণ পাশে বিশাল আলমারির মতো যার চার দেয়াল কাচের। সেই কাচের মধ্যে একজন মধ্যবয়সী পুরুষের দেহ। যার দুটো চোখই খোলা। মনে হচ্ছে চোখ দুটো কোটর থেকে বের হয়ে যাবে। দেহটা তরল পদার্থ এর মধ্যে রাখা। কারণ চুল গুলো নড়ছিলো। জানি না কার দেহ। কী ভয়াবহ জিনিষ দেখছিলাম সেটা আমি বুঝতে পারছিলাম না।তবে এটুকু বুঝতে পারছিলাম যে এখান থেকে আমার চলে যাওয়া উচিৎ।

আমি ওড়ানা রেখেই দৌড়ে নিচে নামতে শুরু করলাম। কিন্তু হোচট খেয়ে পরে গেলাম।

অধ্যায় 29 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!