সিজন 1 অধ্যায় 15 থ্রিলার অতিপ্রাকৃত #ভয় #রাতের ভ্রমণ শারলিন সৌরভ

অন্ধকার বাগানের ভৌতিক প্রহর

5 মিনিট পড়া 783 শব্দ
অন্ধকার বাগানের ভৌতিক প্রহর

গাড়ির স্পিড আবার বেড়ে গেলো। সৌরভ কে বললাম

– আরে কমাও না প্লিজ।

– দেখো আমাদের বাড়ি অনেক দূরে। স্লো স্পিডে চালালে অনেক রাত হয়ে যাবে।

– কই থাকো তোমরা?

– একটু শহর থেকে দূরে গ্রামের কাছাকাছি। সিট বেল্ট বেধে নাও।

জানালা দিয়ে রাতের শহর দেখছিলাম। ও দেখতে খারাপ না। তবে স্মার্ট, লম্বা, গায়ের রঙ শ্যামলা। তবে চলাফেরাতে একধরনের আভিজাত্য প্রকাশ পায়। ও দেখতে যেমনি হোক না কেনো, আমি ওকে ভালবাসি। গাড়ি থেমে যাওয়াতে একটু সামনে ঝুকে গেলাম।

আমি বললাম

– চলে এসেছি?

সৌরভ হেসে বলল

– নাহ। যেতে অনেক দেরি।

– তাহলে থামলে যে??

– কী খাবে বলো?

– না কিছুই খাবো না।

– দেখো শারলিন, পরে খুদা লাগলে কিন্তু ভালো কিছু পাবা না। এটাই লাস্ট ভালো খাবারের হোটেল।

– আমি আসার আগেই খেয়েছি।

– যদি খুদা লাগে আর আমার কাছে খাবার চাও তো পুকুরে ফেলে দিয়ে চলে যাবো।

সৌরভ গাড়ি থেকে নেমে গেলো।

কথায় কথায় রাগ দেখানো একটা বদ অভ্যাস। ওর সাথে বাধ্য হয়ে যাওয়া। এর থেকে তুহিন লোকটাকে বিয়ে করলেই হতো। কত শান্তিতে থাকতাম।

হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে গাড়িতে ঢুকলো। ও বলল

– খবরদার খাবারের দিকে তাকাবা না।

– আমার ওরকম স্বভাব নেই।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলল

– আমার প্রথম প্রেমিকা ছোঁচা ছিলো। বিশ্বাস করবা না শারলিন। ঘুরতে বের হলেই তার খুদা লেগে যেতো। আর আমার পকেট ফাকা হতো।

– হ্যা, তোমার ভালবাসার মানুষের জন্য তুমি সামান্য টাকা ভাঙতেই পারো।

– হ্যা, জীবন দিলেও বা কী? তুমি যেমন টা করেছো।

– অনেক বড় ভুল করেছি। বিয়েটা করে নিলেই হতো। মাও রাগ হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতো না আর বাবাকে এতো কষ্ট করতে হতো না।

– তোমার মা তো সেরা পাব্লিক।

আমি আর কিছুই বললাম না। আমার মৃত্যুই এখন সবাইকে শান্তি দিবে। মাও বাঁচবেন সৌরভ ও।

প্রায় ১ ঘণ্টা পর আমার মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠলো। আফরোজার ফোন। রিসিভ করলাম। আফরোজা বলল

– কিরে কেমন আছিস?

– আছি ভালোই। তুই?

– ভালো। আংকেল বাসায় এসেছিলো।

– কী বলল?

– তোকে তোর মেজো ফুপুর বাসায় পাঠানোর কথা।

– হুম। রাখি, পরে কথা বলবো।

সৌরভ কোকাকোলার মাঝারি বোতল আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল

– ক্যাচ।

ক্যাচ ধরতে গিয়ে কাটা হাতের উপর বোতল এসে পরলো।

কাতরে উঠলাম, মুখ দিয়ে ব্যথা পাওয়ার উঁহু শব্দ বের হয়ে আসলো। আর ব্যান্ডেজ লাল হয়ে যাচ্ছিলো। সৌরভ গাড়ি থামিয়ে পিছনে এসে আমার পাশে বসলো। তারপর বলল

– ক্যাচ ও ধরতে পারো না।

– পারি তো কিন্তু হাতে যে ব্যথা।

রক্তে ব্যান্ডেজ ভিজে যাচ্ছে। ও ব্যান্ডেজ খুলে ফেলল। আমার ওড়নার এক পাশ দিয়ে রক্ত মুছে দিয়ে ওর প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে হাত বেধে দিলো।

তারপর বলল

– বাসায় গিয়ে আমি ব্যান্ডেজ করে দিবো। তুমি কীভাবে হাত এভাবে কাটতে পারলে?

হাত ধুয়ে খাবারের প্যাকেট থেকে খাবার বের করে বলল

– মা রান্না করেছে কিনা ঠিক নেই। তাই এখন খেয়ে নাও।

ফাস্টফুড এনেছি। সবজির স্যুপ টা খাও।

কিন্তু বাটি ধরলাম এক হাতে কিন্তু খাবো কোম হাত দিয়ে? ওই হাত তো নাড়াতেই পারছি না।

আমার এই অবস্থা দেখে ও আমার হাত থেকে বাটি নিয়ে বলল

– আমি খাইয়ে দেই। আমার জন্যেই তো নিজেকে শেষ করে দিয়েছো।

১০.৩০ টায় পৌছালাম। এত অন্ধকার আশেপাশে।ও বলল

– আমার পিছনে পিছনে আসো।

গাড়ি থেকে নেমে দেখলাম গাছপালা দিয়েই ভরা।

– শুনো না?

– বলো।

– বাড়ি কই তোমাদের?

– একটু ভিতরে। আগে বাগান তারপর…

– লাইট তো নেই, এতো অন্ধকার।

– মা লাইট জ্বালাতে ভুলে গেছেন।

ওর পিছনে হাটছি, এতো বড় বড় গাছ। ঝিঝিপোকার ডাকে পরিবেশ থমথমে হয়ে গেছে।

একটু পর মনে হলো ও আমার সামনে নেই। কই গেলো?

অন্ধকারের মধ্যে ওর হাতের টর্চের আলোতেই যাচ্ছিলাম। এখন সেই আলোও দেখছি না আর ওকেও দেখছি না।

হাতে মোবাইল এতবার লক বাটন চাপলাম কিন্তু ফোনে আলো জ্বললো না।

খুব ঘামতে শুরু করলাম। আমি এগোতেও পারছি না আমার পিছাতেও পারছিনা। কাটা হাত থেকে মনে হচ্ছে রক্ত পরছে।

আশেপাশে তাকিয়ে অন্ধকার ছাড়া কিছুই দেখতে পারছিনা।

দূর থেকে একটা ছায়া আমার দিকেই আসছে। ছায়া দেখে মনে হলো, ও আসছে।

আমার কাছেই এসে বলল

– তুমি এখানে কেনো?

বাসার ভিতরে ঢুকে পিছন ফিরে দেখি তুমি নেই।

– তুমিই তো আমাকে ছেড়ে চলে গেলে।

– মজা করার সময় এখন না।

– আমি মজা করছিনা। সত্যি আমি তোমার পিছনেই ছিলাম কিন্তু হুট করে তুমি উধাও হয়ে গেলে।

– আমি তো ভূত তাই না?

– হতেও পারো। যা যা করে আসছো এতদিন তাতে তো স্বাভাবিক মানুষ মনে হয়না।

– বাসায় গিয়ে আলোচনা করা যাবে।আমার পিছনে পিছনে আসো।

– তুমি এবারো আমাকে ফেলে চলে যাবা।

আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বলল

– এবার উধাও হলে একসাথে হবো।

– একি এই অবস্থায় কেউ দেখলে?

– মা ঘুমাচ্ছে আর কেউই নেই। শারলিন তুমি অনেক হাল্কা।

– হয়েছে হয়েছে আমাকে নামাও।

– চুপ থাকো।

ও হাটছে আমি বললাম

– তোমাদের বাড়িটা না হরোর মুভিতে দেখানো বাড়ির মতোই।

– তুমি এখনো বাড়িটা দেখোনি।

– ঠিক কিন্তু গাছপালা আর বাড়িতে যেতে..

– পাগলী একটা। অতিমাত্রায় হরোর মুভি দেখার ফলাফল।

– আমার মজা লাগে দেখতে।

– আমার কাছে আছে। আজকে দেখা যাবে একসাথে।

অধ্যায় 15 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!