সিজন 1 অধ্যায় 10 ডার্ক রোম্যান্স আবেগঘন মুহূর্ত #বিরহ/বিচ্ছেদ #প্রেমপত্র রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান

পঞ্চ ফুলের শেষ চিঠি

11 মিনিট পড়া 1,693 শব্দ
পঞ্চ ফুলের শেষ চিঠি

টিউশন শেষ করে বাসায় ফিরছি। কালকে দেরি হয়ে যাওয়ার জন্য যেতে পারি নি। তাই আজকে একটু বেশি টাইম পড়িয়ে আসতে হয়েছে আমার। সব দোষ ওই মি. খারুস বেটার। তার জন্য আমার মত বাচ্চা মাইয়াকে কত কষ্ট করতে আজকে। আল্লাহ এই অবিচার সইতো না আমি জানি।

এইসব বলতে বলতে বাসার সামনে এসে পড়ি আর এসে যা দেখি তাতে আমি ৮২০ ভোল্টেজের ঝাটকা খাই। কেন না বাসার দরজার সামনে অনেক বড় এক ঝুড়ি আর সেখান থেকে এক মনোমুগ্ধকর সুবাস চারদিকদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আমার আর বুঝতে দেড়ি নেই এই ঝুড়ি কে পাঠায়েছে আর এতে কিবাই হতে পারে।

আমি দৌড়ে দরজার সামনে যাই আর ঝুড়িটা তুলে নেই। দ্রুত দরজার খুলে বাসায় ঢুকে পড়ি।

রুমে গিয়ে খাটের উপর ঝুড়িটা রাখি।

ঝুড়িটা ৫ অংশে বিভক্ত। আর তাতে রয়েছে ৫ রকমের ফুল। আর একেক ফুলের উপর ১,২,৩ এমন করে নাম্বারও দেয়া আছে। তহ আমি প্রথম থেজকেই শুরু করি।

১ম ভাগে আছে সন্ধ্যামালতি ফুল। সেগুলো হাতরে দেখতে থাকি আমি। এর মূল উদ্দেশ্য চিঠি খুঁজে বের করা। অবশেষে আমার উদ্দেশ্যটা সফল হলো। চিঠি পেরকের চিঠি আমি পেলাম। উৎসাহ নিয়ে পড়া শুরু করি।

.

” পড়ন্ত বিকেলের শেষ ফুল হয়ে

এসেছি আমি তোমার আঙ্গিনায়?

ফোটাতে তোমার মুখে

এই স্নিগ্ধ হাসিটা? ”

.

.

পড়ার সাথে সাথে সত্যি আমার মুখে হাসি ফুটে উঠে। অতঃপর ২য় চিঠি পড়ার উদ্যেগ নিয়ে ২য় ভাগের দিকে হাত বাড়াই।

২য় ভাগে হচ্ছে বকুল ফুল। দ্রুত হাত চালিয়ে খুঁজে বের করি ২য় চিঠিটাকে।

.

” তোমার অস্থিরতা, তোমার এই বেকুলতা

সবই পাগল করে যে মোরে। ?

কথা দিয়েও কথা রাখতে না পেরে

বিষন্নতা যে কুড়ে খেয়েছে যে মোরে। ?

ভালবাসি যে তোমায় খুব প্রিয়❤ ”

.

.

৩য় ভাগে গন্ধরাজ। যার সুভাস আমায় আরও উগ্র করে তুলেছে পরবর্তী চিঠিটা পড়তে। আমি দ্রুত তা বের করে পড়তে শুরু করি।

.

” হ্যাঁ ভালবাসি

কিন্তু তা যে অপ্রকাশ্য।?

থাক না কিছু ভালবাসা অপ্রকাশ্য

দূর থেকেই না হয় ভালবেসে যাব তোমায়।❤

শুধু এতটুকু অনুরোধ রইলো

ঠাই দিও তোমার হৃয়দের এক কোনে?”

.

.

৪র্থ ভাগে শিউলি ফুলের মেলা আর আমার মনের মধ্যে এক অজানা ভয়ের খেলা। কাঁপা কাঁপা হাতে তুলে নিলাম সেই চিঠিটি। ভয় নামক এক ভয়ংকর প্রানী ঘিরে ধরে আমাকে। আর তা নিয়ে পড়তে থাকি ৪র্থ ভাগের চিঠিটি।

.

” ঠিক ধরেছ প্রিয়,

হারিয়ে যাচ্ছি এই অতুল অন্ধকারে।

যে অপ্রকাশিত ভালবাসা নিয়ে এসেছিলাম

তা নিয়ে ফেরত যাচ্ছি?

কিন্তু তুমি তাতে কষ্ট পেয়েও না প্রিয়।

আমি সবসময় ছায়া হয়ে থাকবো তোমার পাশে,

এই ফুলের বেশে। ? ”

.

.

এইটা পড়েই কেন যেন বুকের ভিতরটা দুমড়ে মুচড়ে গেল। চোখ দুটোতে কেন জানি অশ্রু জমা হতে শুরু করলো। গলা ধরে আসতে চাইলো। কিছুটা সাহস যুগিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে ৫ম ভাগে হাত দিলাম। ৫ম ভাগে হচ্ছে কাঠগোলাপ। এইটা বরাবরি আমার প্রিয় কিন্তু আজ কেন জানি এই ফুলকেও অপ্রিয় মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে এর মধ্যেই চাঁপা পড়ে আছে আমার সেই না বলা অনুভূতি গুলো। মনের সাথে যুদ্ধ করে তুললাম হাতে সেই অন্তিম চিঠিটা। পড়তে শুরু করলাম সেই চিঠিটা।

.

” জানো এই কাঠগোলাপের স্নিগ্ধতা

ঠিক যেন তোমার হাসির অবিকল।?

আমি জানি তোমার মনে এখন আমার জন্য

পাহাড় ন্যায় অভিমান জমবে,

ভিড় জমবে না বলা হাজারো অনুভূতির।

কিন্তু তার মধ্যেও সত্যিটা তোমায় মানতে হবে প্রিয়❤

কিছু ভালবাসা অপ্রকাশিতই ভালো,

তাই থাকতে দাও না তাকে অপ্রকাশিত প্রিয়।

হয়তো কখনো শেষ বিকেলের শেষ ফুল হয়ে আবার আসবো তোমার আঙ্গিনায়,

ফুটাতে তোমার মুখে সেই হাসিটাকে।?

অবশেষে এটাই বলবো

সবসময় থাকবো তোমার

মনের গহীনে।❤ ”

.

.

চিঠিটা পড়ার সাথে সাথে চোখ দিয়ে দুইফোটা নোনা জল গড়িয়ে পড়লো। যতটা না উৎসুক নিয়ে চিঠিগুলো পড়া শুরু করেছিলাম ততটাই বিষন্নতার সাথে শেষ করলাম।

ভালবাসা যে এমনও হয় তা যে আমার ভাবনার বাইরে ছিল। না দেখে, না ছুঁয়ে, কোন কথা না বলেও ভালবাসার মানে বুঝিয়ে দিয়ে গেল সে। জানি সকল ভালবাসা প্রকাশিত হয় না কিন্তু তাও যে আজ এই বেহাইয়া মনটা আমার মানছে না। বার বার মন চাইছে তার এই অপ্রকাশিত ভালবাসাকে প্রকাশিত করতে।

কেন জানি এইটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে যে আমার জন্য আর ফুল আসবে না। আসবে না আর কোন মনকারা চিঠিগুলা। কেন হারিয়ে গেল সে? কেন?

মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করেও যখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলাম না তখন হার মেনে নিলাম। ভেবে নিলাম যে সে হয়তো আমার ভাগ্যে নেই আর না আছে এমন ভালবাসা।

চিঠিগুলো আলতো হাতে ভাঁজ করে যত্ন সহকারে তুলে রাখলাম স্মৃতি হিসাবে। প্রত্যেকটা ভাগ থেকে একটা করে ফুল নিয়ে আমার ডাইরির ভাজে রেখে দিলাম। ইতি টেনে দিলাম এই অপ্রকাশিত ভালবাসাকে।

.

.

???

.

.

— ” ভালবাসায় যেমন সুখ আছে তেমন বেদনাও আছে। কোন ভালবাসা বেদনা ছাড়া পুরিপূর্ণ নয়। তেমনি আমার ভালবাসায়ও বেদনা ছাড়া পরিপূর্ণ নয়। জানি তোমার কষ্ট হচ্ছে কিন্তু বিশ্বাস করো তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট আমার হচ্ছে। তোমার চোখের পানি যে আমার ভিতরটাকে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিচ্ছে। কিন্তু আমিও যে বাধ্য।

হারিয়ে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু তা চিরতরের জন্য নয়। তোমার আশেপাশেই থাকবো কিন্তু তাও তোমার থেকে দূরে। এইটা আমার ভালবাসার ইতি নয় বরং শুরু। ” বলেই মুচকি হাসে সে।

.

সামনে এগিয়ে আসে টিভির স্ক্রিনটির দিকে যেখানে রিয়ানার কান্নামিশ্রিত মুখটি ফুটে উঠেছে।

.

[ রিয়ানার পুরো বাসায় স্পাই ক্যামেরা আর স্পিকার লাগানো। যা রিয়ানার প্রত্যেকটা কর্মকান্ডের খবর এই সাইকোকে জানান দেই। আর এখন টিভির স্ক্রিনে রিয়ানার রুমের ফুটেজটিই চলছে।]

.

সে রিয়ানার মুখটির উপর হাত রেখে বলে।

.

— ” ভালবাসি রিয়ুপাখি! বড্ড বেশি ভালবাসি!! ”

.

[ এইযে পাঠকগন শুনছেন!!

সাইকো তহ নিজ থেকেই হারিয়ে যেতে যাচ্ছে তহ তাকে বরং আমরা হারিয়ে যেতে দেই ওকে!! সবাই তাকে বাই বাই বলে দাও কেমন!! আবার একবারে গুড বাই বলার দরকার নাই সাইকো একবারের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে না।

সে একদম পার্ফেক্ট টাইমে পার্ফেক্ট এন্ট্রি নিবে আর হয়তো তার আগেই তার আসল পরিচয়ও অনেকে বুঝে যেতে পারবেন। ]

.

.

.

???

.

.

দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গেল। সেইদিনের পর থেকে আমার কাছে আর কোন ফুল বা চিঠি আসে নি। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও এখন খানিকটা খাঁপ খাইয়ে নিয়েছে। ইন্টারসিপের উপর ফুল ফোকাস করছি। কিন্তু এর মধ্যেও মি. খারুসের সাথে আমার ঝগড়া লেগেই থাকেই। মাঝে মধ্যে ঠিক হলেও নিয়তি আমাদের আবার সেই ঝগড়াতেই টেনে নিয়ে আসে। অবশ্য এখন তার সাথে ঝগড়া করাটা আমি বেশ উপভোগ করি।

আবার অন্যদিকে,

দেখতে দেখতে কিভাবে যেন আবিরের সাথে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে৷ বেশ ভালোই বন্ধু হয়ে উঠি আমরা।

আমি তার সাথে রিংকি আর আরিশারও পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। রিংকি তহ আবিরকে সামনাসামনি দেখে অজ্ঞান হওয়ার অতিক্রম তার উপর আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব বিষয়টা জেনে সে হার্ট ফিল করার মত অবস্থা। আবিরকে পেয়ে রিংকির খুশি আর ধরে কে??

সেই থেকে আরিশা আর রিংকি এর সাথেও আবিরের ভাব হয়ে যায়। ব্যস এইভাবেই চলছে জীবন।

.

.

??

.

.

মেডিক্যালের কনফারেন্স রুমে দাড়িয়ে আছি আমরা সবাই। সকলের চোখ মুখে এক কৌতূহলি ভাব। হুট করেই সকল ইন্টারসিপ স্টুডেন্টদের এইখানে একত্রিত হতে বলা হয়েছে। সকলেই কিছুটা চিন্তিত হুট করে এইভাবে ডাকার মানে কি? সকল চিন্তার অবসান ঘটিয়ে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে ড. সিয়াম আর ড. রিয়ান। তারা রুমে এসে চেয়ারে বসে। তারপর সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. সিয়াম বলে উঠে।

.

— ” তোমরা সকলেই নিশ্চয়ই ভাবছো হুট করে তোমাদের এইভাবে কেন ডাকা হলো তাই তহ?”

.

সকলেই মাথা নাড়াই।

.

— ” তোমাদের এইখানে একসাথে ডাকার কারণটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমার প্রত্যেকটা কথা খুব মনোযোগ সহকারে শুনবে।

তোমরা নিশ্চয়ই জানো এইবারের দেশের অবস্থা এতটা ভালো নয়। বন্যার জন্য এইবার অনেক ক্ষতি হয়েছে এমন কি অনেক রোগও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনও ছড়াচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি গ্রাম্য এলাকায় ছড়িয়েছে। কয়েকটি গ্রামের অবস্থা একদমই খারাপ। অনেক গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে মারাও যাচ্ছে।

তাই আমাদের কর্তৃপক্ষ এর জন্য তাদের চিকিৎসা দানের জন্য একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত করেছে। যার মধ্যে তোমাদেরকে অংশগ্রহণ করতে হবে। ”

.

কথা শুনার সাথে সাথে সকলের মাঝে এক উৎফুল্ল কাজ করা শুরু করে দিল। কেন না আমরা কেউ আজ পর্যন্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পের জন্য যাই নি৷ এইটি সকলের জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা। এমনি আমার জন্যও।

.

— ” ক্যাম্পটি মোট ২০ দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হবে। আর এইখানে আজ মোট দুইটি গ্রুপ তৈরি হবে। এক গ্রুপ যাবে আমার সাথে, আরেক গ্রুপ ড. রিয়ানের সাথে। একেক গ্রুপে মোট ১০ জন করে মেম্বার নেওয়া হবে। আর আমাদের এই দুইটি গ্রুপ দুই জায়গায় প্রস্থান করবে।অল দ্যাট ইজ ক্লিয়ার নাও। ”

.

সকলেই আবার মাথা নাড়াই। তখন ড. রিয়ান বলে উঠে।

.

— ” দ্যান আমরা সিলেকশন করে নিচ্ছি কে কার গ্রুপে যাচ্ছে। ”

.

অতঃপর তারা সকলকে ২টি গ্রুপে ভাগ করে দিলেন। আমি ড. রিয়ানের গ্রুপে পড়ি। আর আরিশা আর রিংকি ড. সিয়ামের গ্রুপে। আমি আমার গ্রুপে একা হয়ে যাই।

সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয় পরশু সকাল সকাল মেডিক্যাল ক্যাম্পের জন্য সকলেই রওনা হবে। তাই সকলেই যাতে তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দেয়। এই বলে তারা বেড়িয়ে যায়। আর আমরাও নিজ নিজ কাজে লেগে পড়ি।

.

.

???

.

.

কিছুক্ষণ আগেই সূর্যমামা তার কিরন চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের অস্তিত্ব সবাইকে জানান দিচ্ছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দ কানে এসে বারি খাচ্ছে। সকালের দমকা হাওয়ায় গায়ে এক শীতলতা সৃষ্টি করছে।

সকলেই মেডিক্যালের সামনে দাড়িয়ে আছি আর জন্য ড. সিয়াম আর ড. রিয়ান ওয়েট করছি। সামনেই দুইটি মিনি বাস দাড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ড. সিয়াম আর ড. রিয়ান এসে হাজির হয়।

দুইজনকে দেখে সকল মেয়ে একদম হা হয়ে যায়।

ড. সিয়ামের পড়নে রেড টি-শার্ট আর ব্ল্যাক ডেনিম প্যান্ট। পায়ে রেড কেডস্। চুলগুলো ব্রাশ করা। পিছে Travelling Bag ঝুলানো। ড. সিয়ামকে সকলে সবসময় ফরমাল ড্রেসআপই দেখেছে তাই তার এমন লুকে আজ সকলেই অবাক। আরিশা তহ দেখে যেন বড়সড় একটা ক্রাশ খেল।

এইদিকে ড. রিয়ানের পড়নে ব্রাউন কালারের জেকেট। ভিতরে ব্ল্যাক টি- শার্ট সাথে ব্ল্যাক ডেনিম প্যান্ট পড়া। পায়ে ব্ল্যাক কেডস্। চুলগুলো সিল্কি হওয়ার কারনে চোখের সামনে আসা। পিছে Travelling Bag ঝুলানো। মুখে এক এটিটিউড। তাকে কখনো এমন লুকে দেখা হয়নি আমার। আজ আমি নিজেও তার দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছি। সে শ্যামবর্ণের হলেও তার এটিটিউড যেকোনো ফর্সা ছেলেকে হার মানাতে সক্ষম।

অতঃপর সকলেই তার গ্রুপ অনুযায়ী দুই ভাগ হয়ে যাই। বাসে উঠতে বলা হলে সকলেই তোরজোর করে উঠে পড়ে। আমি সর্বশেষে উঠি। উঠে দেখি সব সিট বুক। সামনের দুটো সিটই খালি। আমি আর কিছু না ভেবে সেখানে বসে পড়ি আর জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকি। এমন সময় কেউ আমার পাশে বসেছে বলে মনে হলো। পাশে তাকিয়ে দেখি মি খারুস মানে ড. রিয়ান। সে আমার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়। আমিও আর কিছু না বলে জানালার বাইরে তাকাই।

গাড়ি ছুটতে শুরু করে আপন গতিতে। উদ্দেশ্য রাঙামাটি। কেন জানি মনের মধ্যে এক আকুলতা কাজ করতে শুরু করে। মনটা কেন যেন খচখচ করতে থাকে। মনে হচ্ছে যেন সেখানে কিছু একটা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। যা পরক্ষণেই আমার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যাবে। হয়তো এইটি হবে সুখময় নাহলে হবে বিষাদময়।

আদো কি আমার জীবন সুখময় হবে?? নাকি বিষাদ থেকেও বিষাদময় হবে আমার জীবন?? এর কোনটারই উত্তর আমার জানা নেই।

কি হতে চলেছে সামনে তা কে জানে??

অধ্যায় 10 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!