সিজন 1 অধ্যায় 8 রোমান্টিক কমেডি মেডিকেল #খুনসুটি #অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান আবির আরহাম

বিব্রতকর প্রশ্নের ফাঁদ

8 মিনিট পড়া 1,248 শব্দ
বিব্রতকর প্রশ্নের ফাঁদ

হলরুমে বসে এসাইনমেন্ট করছি আর মি খারুসের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছি। শয়তান বেটা আমারে আজকেও কত কঠিন একটা এসাইনমেন্ট দিসে।? জীবনটারে বদনা বানাইয়া দিলো। তখন একবারেই কি বাই বলসিলাম যে আমার সাথে এমন করলো। শুধু একটু কঁচু তহ বলসিলাম সাথে ওইটা রিভিউ দিসিলাম। তার জন্য এত চেঁতার কি ছিল। চেঁতছিল ভালো কথা কিন্তু ” Cardiac Computed Tomography ” নামক এত কঠিন একটা চাপ্টার আমায় গলায় ঝুলিয়ে দেওয়ার কি দরকার ছিল? হ্যাঁ জিজ্ঞেস করি কি দরকার ছিল?? সে কি বুঝে না আমার মত বাচ্চা মানুষের জন্য এইটা আস্ত একটা পেরা।

মনটা চায় এক গ্লান করলার রসে বিষ মিলে তাকে খায়িয়ে দেই।? বেটা সত্যি মি খারুস।

.

আমি যখন তার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছি তখন আমার গুনোধর দুই শাকচুন্নি ফ্রেন্ড এসে হাজির। এসেই দুইজনে আমার দিকে তাকিয়ে এক কেবলা মার্কা হাসি দেয়। যা দেখে গাঁ জ্বলে উঠে।

.

রিয়ানাঃ কি চাই?? আমার সামনে এমন অফু ভাই টাইপ ভেটকি স্মাইল দেস কে??

.

আরিশাঃ আব কই?

.

রিংকিঃ এই আমার স্মাইল মোটেও ভেটকি টাইপ না। আমার স্মাইল তহ একদম মিষ্টি টাইপ। যে দেখে সেই ফিদা হয়ে যায়। ভাব নিয়ে।

.

আরিশাঃ কারেকশন প্লিজ। ওইটা ফিদা না ফিট হবে। তোর স্মাইল দেখে কেউ ফিদা হয় না বরং ফিট হয়ে যায়। যে শাকচুন্নি টাইপ তোর হাসি।বলে হাসি তে মেতে উঠে।

সাথে আমিও হেসে দিলাম আর আরু এর সাথে তাল মিলিয়ে বললাম।

.

রিয়ানাঃ ঠিকই। সেইদিন রাস্তার এক বিলাইকেও দেখলাম ওর হাসি দেখে ফিট রাস্তায় পড়ে আছে।

.

এই বলে হাসতে থাকি। রিংকি তহ রাগে ফুসতে থাকে। তারপর দুম করে দুই কিল পিঠে বসিয়ে বলে।

.

রিংকিঃ জিন্দেগিতে আমার তারিফ করেছিস যে আর করবি। হুহ।

.

আরিশাঃ তাও ঠিক?। সে যাই হোক রিয়ানু তোর খবর বল। স্যার তোকে কিছু বলেছিল।

.

রিয়ানাঃ মুখে কিছু না বললেও প্রতিশোধ ঠিকই নিসে।

.

রিংকিঃ কেমনে?

.

পরে দুইজনকে বলি আমার দুঃখের কষ্টদায়ক কাহিনী ?। দুইজন আমার কাহিনি শুনে কাঁদবে না হাসবে বুঝে উঠতে পারছে না। শেষে না পেরে হেসে দেয়। যা দেখে আমি গাল ফুলিয়ে বসে থাকি।

.

আরিশাঃ তুই যে কান্ড ঘটাইসোস সেই অনুযাই তোকে অল্পতেই ছেড়ে দিসে। তা না হলে,তার জায়গায় অন্য কেউ হলে তোরে কামলার মত খাটাইতো।

.

রিংকিঃ স্যার কত দয়ালু দেখ। আমার তহ এখনই তার জন্য প্রেম প্রেম ফিলিংস জাগতাসে।?

.

আমি তহ এইসব শুনে তেলে বেগুনে পুরে আগুন। দিলাম দুইটা কিল দুইজন পিঠে। তারপর বলি।

.

রিয়ানাঃ তোরা বন্ধু নামে কলঙ্ক। কই না আমার কষ্টে কষ্টিত হবি তা না এরা ওই খবিশের সাপোর্ট গাইছে। আরেকজনের তহ আবার প্রেম প্রেমও পাচ্ছে। বাহ!! যাহ দূর হো আমার নজরের সামনে থেকে৷ নাইলে ঠাটিয়ে দিব দুই চড়। যা এইখান থেকে।

.

আরিশাঃ তুই জীবনেও শুধরাবি না। আচ্ছা থাক তুই আমরা গেলাম। এমনেও আমাদের এসাইনমেন্ট বাকি আছে।

.

এই বলে ওরা আর চলে যায়। আমার কেন জানি কাঁন্না পেতে থাকে। ঠিক তখনই মাথায় একটা গান নাচতে নাচতে এসে পড়লো ।

.

” Dost dost na raha,

pyaar pyaar naa raha

Zindagi hamein tera,

aitbaar na raha,

aitbaar na raha ??”

.

— ” বাই দ্যা রাস্তা আমার পেয়ার কেডা?? ধুর কিসব যে ভাবি না। পেয়ার তহ আমার লাইফে আসেই নাই।

বাট তাও আমি আজ সেন্টি আমার বান্ধুপিরা আমায় ধোঁকা দিসে?”

.

মনের মধ্যে এক বস্তা দুঃখ প্রকাশ করে আমার এসাইনমেন্ট শেষ করতে লেগে পড়ি।

.

.

??

.

.

অবশেষে এসাইনমেন্ট শেষ করে মনের মধ্যে এক বস্তা খুশি নিয়ে ছুটলাম মি খারুসের কেবিনের দিকে। তার কেবিনের সামনে এসে নক না করে ধুকে পড়লাম। ঢুকে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। মি খারুস তার পড়নের শার্ট খুলতাসে। আমি তা দেখা সাথে সাথে এক চাপা চিল্লান দিয়ে দুই হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেলি।

পিছনে কোন কিছুর আওয়াজ শুনে পিছে ঘুরেই দেখতে পায় রিয়ানা নিজের দুইহাত দিয়ে নিজের চোখ ঢেকে আছে। রিয়ানাকে এইসব নিজের কেবিনে দেখে রিয়ান কিছুটা হকচকিয়ে যায়। আধ খোলা শার্টটা তারাতাড়ি আবার কোন মতে নিজের গায়ে জরিয়ে নেয়। তারপর কিছুটা কর্কশ গলায় চেঁচিয়ে বলে।

— হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ ডুয়িং হিয়ার??

.

— ডুয়িং মুয়িং পড়ে কইরেন আগে বলে জামা পড়সেন নি?? আমি চোখ খুলবো। হাত ব্যথা করতাসে আমার।

.

— ইউ আর জাস্ট ইম্পসিবল। হাত নামাও।

.

আমি হাত একটু সরিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি সব ঠিক আছে কিনা। না সব ঠিক আছে। আমি হাত নামিয়ে নেই। তার পর বলি।

.

— আপনার মধ্যে মেনারস নাই?? রুম লক করে চেঞ্জ করতে হয় জানেন না??

.

— নক না করে রুমে আসা বুঝি অনেক ভালো মেনার্স?? আর আমি আমার কেবিনে কি করবো না করবো দ্যাট ইজ নান অফ বিজন্যাস। পরেরবার আমার কেবিনে আশার আগে নক করে আসবে। ইউ গেট ইট!!

.

— হুহ!! নিজের দোষ কইরা এখন আমার উপর দোষ চাপায়!! ভালোই। আজ আপনার স্টুডেন্ট বলে কিছু বললাম না ?।

.

— ??। কি জন্য এসেছিলে??

.

— অহহ মনে পড়েছে। মেরা এসাইনমেন্ট শেষ। এই নেন ধরেন। আর আমাকে উদ্ধার করেন।

.

— হুহ! এই বলে হাত থেকে এসাইনমেন্ট নিয়ে নেয় আর চেক করতে থাকে।

.

— স্যার একটা প্রশ্ন ছিল! করবো?

.

— করো। এসাইনমেন্ট দেখতে।

.

— স্যার আপনি চেঞ্জ কেন করতাসিলেন?? গরম বেশি লাগছিল বুঝি??আপনার কি গরম বেশি? হায় গারমি?

.

কথাটা শুনার সাথে সাথে সে বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকায়। তার এই চাহনিতে আমি কিছু নড়ে চড়ে দাড়াই। তিনি হয়তো কখনো এইরকম টাইমের বাকওয়াস আর লজ্জাজনক প্রশ্নের সম্মুখীন হয় নি। সে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে গম্ভীর গলার বলায়।

.

— এত বাকওয়াস প্রশ্ন আসে কিভাবে তোমার মাথায়?? ?

.

— হুহ। বলেন না?

.

— ইউ আর জাস্ট ইম্পসিবল। ওটি থেকে এসেছি। অস্বস্তি লাগছিল তাই চেঞ্জ করতে চাচ্ছিলাম। পেয়েছ জবাব?? নাও গো ফোরম হিয়ার।

.

আমি আর কিছু না বলে মাথা দুলিয়ে বেড়িয়ে এসে পড়লাম।

.

.

??

.

” আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে?”

.

মনের সুখে গান গাইছি আর হাটছি। আহা কি যে খুশি লাগিতাসে!! কি মজা আমি মি খারুসকে লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ফেলসি। তখন ইচ্ছা করেই এমন একটা বিব্রতকর প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যাতে তিনি লজ্জায় পড়ে।? ইশ মি খারুসের চেহেরা দেখার মত ছিল। তার ওই চেহারা দেখিয়া আমার পরানটা জুরাইয়া গেল। ?

এইসব ভাবছি ঠিক তখনই সামনে কেউ একজন আমার নাম ধরে ডেকে উঠে। আমি সামনে তাকিয়ে দেখি একজন মাস্ক আর কেপ পড়া লোক দাড়িয়ে আছে। চোখে কালো চশমা। আমি ভ্রু কুচকিয়ে তার দিকে তাকাই। আর চিনার চেষ্টা করি যে এই ব্যক্তিটি কে?? আমি আদো তাকে চিনি? আমি যখন এইসব সাত পাঁচ ভাবছি তখন সে ব্যক্তিটি আমার সামনে এসে বলে।

.

— ” কেমন আছেন মিস রিয়ানা?”

.

আমি হেবলার মত তাকিয়ে আছি। কিছুই বলছি না। তা দেখে সে বলে।

.

— ” কি চিনতে পারছেন না বুঝি?”

.

আমি মাথা দুলিয়ে “না” বোধক জাবাব দেই। সে তার মাস্কাটা হাল্কা সরিয়ে বলে।

.

— ” আমি আবির। যাকে আপনি কালকে ট্রিটমেন্ট করেছিলেন সেই আমি।” এই বলে মুচকি হেসে আবার মাস্ক ঠিক করে পড়ে নেয়।

.

–” অহহ আচ্ছা আপনি!! তা এখন কেমন আছেন? ঔষধ গুলা খেয়েছিলেন? বেন্ডেজ গুলা চেঞ্জ করেছিলেন??”

.

–” আরেহ বাবা আস্তে আস্তে!! আমি এক সাথে একবারে এতটি প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিব?? আমি তহ আর টকিং রোবট না।”

.

— ” ??”

.

— ” তা প্রথমত আমি ঠিক আছি। দ্বিতীয়ত্ব আমি ঔষধ গুলো খেয়েছি আর সর্বশেষে আমি বেন্ডেজ পাল্টাইনি। এইখানে সেটা পাল্টানোর জন্যই এসেছি আর আপনি কালকে সে পরিক্ষা গুলো একবার করে দেখতে বলেছিলেন সেগুলাই করতে এসেছি।” ছোট একটা হাসি দিয়ে।

.

— ” অহহ আচ্ছা। তাহলে যত দ্রুত সম্ভব করিয়ে নেন। সিরিয়াস কোন ইঞ্জুরি হলে ধরা পরে যাবে নে।”

.

–” তা তহ ঠিক আছে কিন্তু আমি বুঝে উঠতে পারছি না ৫০৩ নম্বর রুমটা কোন দিকে। আগে বেন্ডেজ চেঞ্জ করা প্রয়োজন। আপনি কি বলতে পারেন রুমটা কোন দিকে?”

.

–” অবশ্যই। আমার সাথে চলুন আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।”.

এই বলে সামনের দিকে হাঁটা ধরি। সামনে কিছুদূর যেতেই কেউ আমায় ডেকে উঠে। আমি পিছে ফিরে তাকিয়ে মি খারুস। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই আবির বলে উঠে।

.

–” রিয়ান!!”

অধ্যায় 8 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!