যে কালো অতীতকে আমি বার বার পিছে ফেলে আসতে চাচ্ছি সে বার বার আমার সামনে এসে হাজির হচ্ছে। ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হতে এসেছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জায়গা দখল করে নিয়েছে। আমি এইবার অস্পষ্ট সুরে বলে উঠি।
.
— আআরিয়ান…
.
কথাটা আস্তে বলাতে তা কাউরো কান অবধি পৌঁছাতে পারে নি। রিয়ান হাসি মুখে সামনে গিয়ে আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরে বলে।
.
— এত দেরি করলি কেন হ্যাঁ?? আমার এংগেইজমেন্ট সেরিমনি মিস করলি।(রিয়ান)
.
— জানিস এই তো আমি ধামাকা আর সাপ্রাইসটা সব কিছুর শেষেই দিতে লাইক করি। লাইক বোমম!! আর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মুখ বাঁকা করে হেসে। ( আরিয়ান)
.
— তো আজ কি সাপ্রাইস এনেছিস শুনি? (রিয়ান)
.
— বলবো না সরাসরি দেখাবো কিন্তু টাইম আসলে। এখন কি ভাবি এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবি না? (আরিয়ান)
.
— এইটা আবার বলা লাগে। মিট মাই উডবি ওয়াইফ রিয়ানা। মাই লাভ, মাই রিয়ুপাখি। আর রিয়ুপাখি এ হচ্ছে আরিয়ান। আমার বড় ফুপির ছেলে। লন্ডনে আমি ওদের সাথেই ছিলাম। মানে এক সাথেই থাকতাম। (রিয়ান)
.
আমি কোন মতে জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করি। নিজেকে নরমাল করার চেষ্টা করতে থাকি। আরিয়ান এইবার মুখে এক রহস্যময় হাসি ঝুলিয়ে হাত এগিয়ে বলে।
.
— নাইস টু মিট ইউ রিয়ানায়ায়া ভাবিবি। শেষের কথাটা কিছুটা সুর দিয়েই বলে। (আরিয়ান)
.
আমি এইবার একবার রিয়ানের দিকে তাকাচ্ছি তো আরেকবার আরিয়ানের দিকে। তারপর এক প্রকার বাধ্য আমি কাঁপা কাঁপা হাতে, হাতটা উঠাই। আরিয়ানের হাতটা ধরার আগেই রিয়ান আরিয়ানের হাতে হাত মিলিয়ে বলে।
.
— এত ভাবি ভাবি করা লাগবে না। একটু ভাইয়া ভাইয়াও কর! (রিয়ান)
.
আমি এইবার স্বস্তির নিশ্বাস নেই আর রিয়ানের দিকে কৃতজ্ঞতা ভরা নয়নে তাকাই।
.
— বাহ বাহ!! এত ইনসিকিউরিটি! (আরিয়ান)
.
— তেমন কিছুই না।(রিয়ান)
.
— তা কোন দিন যদি জানতে পারিস যার জন্য এত ভালবাসা, এত ইনসিকিউরিটি সে এইটার যোগ্যই না। সে আসলে কলঙ্কিত!! তখন? বাঁকা হেসে। (আরিয়ান)
.
রিয়ান এইবার মুচকি হেসে বলে।
— আমি আমার ভালবাসাকে খুব ভালো করেই চিনি। চাঁদও কলঙ্কিত হতে পারে কিন্তু আমার রিয়ুপাখি না। এই বলে আরিয়ানের হাত ছেড়ে আমাকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে। আমি ছলছল চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। রিয়ান আমার দিকে তাকিয়ে বলে।
.
— এন্ড মোস্ট ইম্পোর্টেন্ট থিং ইজ আই হ্যাভ ফেইথ অন হার। আর হ্যাঁ পরের বার থেকে আমি যাতে এমন কথা তোর মুখ থেকে না শুনি। (রিয়ান)
.
— আই ওয়াস জকিং ব্রো!! তুমি দেখি সিরিয়াস হয়ে গেলে। (আরিয়ান)
.
— কি লাগিয়ে দিয়েছিস তোরা? উফফ!! এখন ভিতরে চল। সবার সাথে দেখা করতে হবে তো! (বড় ফুপু)
.
— হ্যাঁ চলো। (রিয়ান)
.
.
??
.
অনুষ্ঠানটা এখন প্রায় শেষ পর্যায়। সকল মেহমানদের খাওয়া শেষ। অনেকেই চলে গিয়েছে। এখন শুধু আমরা পরিবারের লোকজনই বাকি আছি। তাই আমরাও বসে পড়লাম খেতে।
সব গুরুজনরা বসেছে এক সাইডে। আর বাকি ছেলে মেয়ে গুলো বসেছে আমাদের সাথে। আমি রিয়ানের পাশে বসেছি। আরিশা বসেছে ড. সিয়ামের পাশে। রিংকি সাইডে এক কোন নাক ফুলিয়ে বসে আছে। ওই আজকে একদম একা হয়ে গিয়েছে। ওই বিরবির করেই চলেছে।
.
— “কালতাক মে থি সাবকি পেয়ারি। ওর আজ মে হু আবলা নারী। ”
শালী হারামি গুলি! আমাকে একা রেখে সবাই সবার মিঙ্গেল লাইফে বিজি। আর দিকে কেউ তাকায়ও না। হুহ! তোগা উপর আল্লাহ গজব দিব। গজব!! আমার মত এত কিউট একটা মেয়েকে একা ফালাইয়া রাখসোস তোরা। (রিংকি)
.
তখন পাশ থেকে একজন বলে উঠে।
.
— এমন বকবক করা কি আপনার জন্মগত অভ্যাস নাকি?
.
রিংকি এমন কথায় চমকে উঠে পাশে তাকায়। তাকিয়ে দেখে ওই ব্রিটিশ বান্দর। রিংকি ওকে দেখে ভ্রু কুচকিয়ে বলে।
.
— আপনি কোথা থেকে আমদানি হলেন ব্রিটিশ বান্দর জী?
.
— হোয়াট ডু ইউ মিন বাই ব্রিটিশ বান্দর?
.
— ব্রিটিশ বান্দর ইজ, যারা সারাদিন ইংরেজিতে বেশি পকরপকর করে তারা হচ্ছে ব্রিটিশ বান্দর। দাঁত কেলিয়ে। (রিংকি)
.
— হোয়াট দ্যা হেল!
.
— গো টু উগান্ডা। হুহ! (রিংকি)
.
ব্যাস দুইজনের মধ্যে ঝগড়া লেগে গেল।
.
.
?এইদিকে?
.
— কি ব্যপার এমন খোঁচাচ্ছেন কেন? ( আরিশা)
.
— তোমার স্কিন এত সোফট কেন? আবার খোঁচা মেরে। ( সিয়াম)
.
— উফফ!! আপনি না অসহ্য! (আরিশা)
.
— এখন তো আরও অনেক কিছু হওয়া বাকি আছে জানেমান। চোখ টিপ দিয়ে।( সিয়াম)
.
— কেন যে আপনারে ভালবাসতে গেলাম? (আরিশা)
.
— আমাকে সোয়ামি করতে। দুষ্টু হাসি দিয়ে। ( সিয়াম)
.
— আপনি না অনেক বড় অসভ্য! (আরিশা)
.
— অনলি ফোর ইউ সুইটহার্ট। (সিয়াম)
.
.
?অন্যদিকে ?
.
আমি অন্য মনোষ্ক হয়ে বসে আছি। মনের মধ্যে এক অজানা ভয় ঢুকে গিয়েছে। রিয়ান কি আমার থেকে দূরে সরে যাবে? মাঝ পথেই হাতটা ছেড়ে দূরে ছুড়ে ফেলবে?
আরিয়ান না জানি এইবার কি করে। সে যে আমায় রিয়ানের সাথে ভালো ভাবে থাকতে দিবে না তা একদম নিশ্চিত। রিয়ানকেও আমি এখন কিছু বলতেও পারবো না। কেন না আরিয়ান তার ভাই।
সে হয়তো কখনোই আমার উপর বিশ্বাস করবে না। আর বিশ্বাস করলেও হয়তো আমাকেই দোষারোপ করবে। কেন আমার সাথে সবসময় এমন হয়? কেন!
আমার সাথে এমনটা না হলে কি পারতো না।
.
যখন আমি এইসব ভাবনায় বিভোর তখন হাতের উপর কাউরো স্পর্শ অনুভব করি। সাথে সাথে আমি চমকে উঠি। পাশে তাকাতেই দেখি রিয়ান। রিয়ান আমার হাতটা চেপে ধরে বলে।
.
— আর ইউ ফাইন রিয়ুপাখি? তোমাকে সেই কখন থেকে চিন্তিত লাগছে। সব ঠিক আছে তো। চিন্তিত কন্ঠে।
.
— না আমি ঠিক আছি। একটু ক্লান্ত লাগছে আরকি। হালকা হেসে।
.
— ওকে দ্যান। বাই দ্যা ওয়ে আই হ্যাভ আ সাপ্রাইস ফোর ইউ। কানের কাছে মুখ এনে লো ভয়েসে বলে।
.
— কি সাপ্রাইস? কৌতূহলি কন্ঠে।
.
— সময় আসলেই দেখতে পাবে। এখন চুপচাপ খাওয়া শুরু করো।
.
— হুহ!
.
.
??
.
.
খাওয়া দাওয়া শেষে আমি যখন ওয়াশরুম থেকে হাত ধুয়ে বের হতে যাব তখনই আমার চোখে কেউ কালো কাপড় বেধে দেয়। আর আমার মুখে হাত দিয়ে টেনে কোথাও নিয়ে যেতে থাকে। আমি হাত পা ছুড়াছুড়ি করতে থাকি। কিন্তু তার সাথে পেরে উঠতে পারছিলাম না। কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না! তখনই…