সিজন 1 অধ্যায় 7 ডার্ক রোম্যান্স মনস্তাত্ত্বিক #গোপন যত্ন #গভীর রাত রিয়ানা রহমান আবির আরহাম সাদাত খান রিয়ান

নিশীথ রাতের মায়াবী ঘ্রাণ

7 মিনিট পড়া 1,032 শব্দ
নিশীথ রাতের মায়াবী ঘ্রাণ

মি. খারুসকে এসাইনমেন্টটা দিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হই। বেশ রাত হয়ে গেছে। তাই গাড়ি পাওয়াটাও বেশ কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে আমার জন্য। রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটতে শুরু করি। ঠিক তখনই পিছন থেকে কেউ বলে উঠে।

— ” মিস রিয়ানা ”

আমি পিছে ঘুরে দেখি আবির নামের সেই ছেলেটি। সে গাড়ির পিছন সিটে বসে আমায় ডাকটা দিয়েছেম। আমি তার দিকে কিছুটা ভ্রু কুচকিয়ে তাকিয়ে বলি।

–” আপনি এখনো এইখানে!! যান নি?”

–” আপনার দেওয়া ঔষধ গুলা কিনতে এই সূর্য কিছু ঘরবড় করে ফেলেছিল। তাই ওইটা ঠিক করতেই টাইম লেগে যায়। ” স্মিত হেসে।

আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই সে বলে উঠে।

আবিরঃ বাসায় যাচ্ছেন বুঝি!!

আমি মাথা হেলিয়ে “হ্যাঁ” সূচক উত্তর দেই। সে স্মিত হেসে বলে।

আবিরঃ লিফট দিতে পারি কি?

রিয়ানাঃ নো থেংক্স। আমি যেতে পারবো।

আবিরঃ দেখুন আমার উদ্দেশ্য খারাপ না। আপনি আমার হেল্প করেছেন তাই আমিও আপনার হেল্প করতে চাচ্ছি। টাকা তহ নেন নি তহ লিফট এই নেন। প্লিজ না করবেন না।

আমি আশেপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম। রাস্তা ঘাট বেশ ফাঁকাই তার উপর শরীরটা আজ বেশ ক্লান্ত। হাঁটতেও ইচ্ছা করছে না। কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। একা এক পথে অচেনা এক মানুষকে বিশ্বাস করতেও মন সাই দিচ্ছে না। যখন আমি এইসব সাত পাঁচ ভাবছি তখনই আবির বলে উঠে।

আবিরঃ দেখুন আমি শুধু আমার ঋণ শোধ করতে চাচ্ছি। আমার মোটেও ঋনী হয়ে থাকতে ভালো লাগে না। তাই আপনাকে লিফট দিয়ে নিজের ঋণ শোধ করছি। আর এমনেও এই এলাকাতে এত রাতে গাড়ি পাওয়া মুশকিল তাই এত না ভেবে উঠে বসুন।

কথাটা আমার কাছে একবারে মন্দ লাগে নি। এখন গাড়ি না পেলে অবস্থা যে খারাপ হবে আমার তাই আমি রাজী হয়ে গেলাম। পিছনের সিটে চড়ে বসলাম। পাশের আবির আর সামনে তার পিএ সূর্য।

আমি উঠার পর গাড়িটা চলতে শুরু করে। গাড়ির মধ্যে এক পিনপিন নিরবতা। আজ অতিরিক্ত ক্লান্তির জন্য আমার মাথাটাও কেমন যেন ভনভন করেই চলেছে। পুরো রাস্তা আমি আর সে চুপই ছিলাম। আমি ক্লাতিতে চুপ ছিলাম আর সে হয়তো কথার ভান্ডার খুঁজে না পেয়ে। এক সময় মনের মধ্যে এক ইচ্ছা জাগে। জানতে ইচ্ছে করে এই অপরিচিত ব্যক্তির সম্পর্কে কিন্তু ক্লান্তির জন্য তা জিজ্ঞাস করতেই আলসেমি লাগছিল। তখন তহ শুধু নামটাই জানা হয়েছিল। নামটা কিছুটা চিনাচিনা লাগলেও আর চিনা হতে উঠে নি। আমিও আর আগ বাড়িয়ে চিনতে যাই নি।

আমি তাকে কিছু পেইনকিলার লিখে দিয়ে বেড়িয়ে এসেছিলাম। ভাবি নি আবার দেখা হবে সে যাই হোক থাক না কিছু মানুষ অপরিচিত। সব কিছু জানা থাকলে অজানা শব্দটাই হয়তো হারিয়ে যাবে।

আমাদের এলাকা আসতেই আমি তাকে গাড়িটা থামাতে বলি আর নেমে পড়ি। তাকে থেংকি ইউ জানিয়ে চলে আসি। সেও মুচকি হেসে চলে যায়।

??

বাসায় এসে কোনমতে ফ্রেশ না খেয়ে শুয়ে পরি। ক্লান্তির জন্য আজ চোখ দুটোতে সকল রাজ্যের ঘুম এক সাথে ভর করেছে তাই বেশ কিছুক্ষণের মধ্যেই পারি দেই ঘুমের রাজ্যে।

তাই তহ আজ উপলব্ধি করতে পারি নি যে কেউ তার গভীর দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই ব্যক্তি ধীর পায়ে আমার কাছে এগিয়ে আসে আর আমার পাশে বসে। আমার মাথায় ছোট এক ভালবাসার স্পর্শ একে পরম যত্নে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।

আমি ঘুমের ঘোরেই সেই চিরচেনা ঘ্রাণটি পাচ্ছি। কিন্তু তাও আমার প্রতিক্রিয়া নেই কেন জানি না আজ এই ঘ্রাণটি আমার ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছে কেউ আমায় আগলে রাখতেই এসেছে৷ ঘুমের ঘোরেই আমি তার হাতটি জরিয়ে ধরে শুয়ে পড়ি।

সে প্রথমে একটু হকচকিয়ে উঠলেও যখন বুঝতে পারি আমি ঘুমে এমন করেছি সে হেসে উঠে। সে সেভাবেই বসে থাকে আর আমায় এই আবছা অন্ধকারেই দেখতে থাকে। হয়তো সূর্যের প্রথম কিরনের সাথে রাত্রির অন্ধাকারের মত সেও অদৃশ্য হয়ে যাবে। আর সেই সাথে আমিও হয়তো তার উপস্থিটা উপলব্ধিও করতে পারবো না।

??

সকালের আড়মোড় ভেঙ্গে উঠে পড়ি। কেন জানি মনে হচ্ছে আজ অনেক দিন পড়ে এমন শান্তির ঘুম ঘুমিয়েছি। কেউ যেন ছিল আমায় কাল আগলে রাখার জন্য কিন্তু অতঃপর মনে পড়ে আমি অনাথ। আমাকে যে আগলে রাখার কেউ নেই। মাথায় বাবা-মার ছায়া না থাকলে বুঝা যায় জীবনটা কতটা নিষ্ঠুর, কতটা বিষোময়। এক মুঠো ভাতের জন্য লড়াই করতে হয় আমাদের। কিছু আশা করাই যে আমাদের জন্য বেকার। কথায় আছে অনাথদের ইচ্ছে বা আশা থাকতে নেই। কেন না তাদের সেই ইচ্ছা বা আশা পূরণ করার জন্য যে কেউ নেই।

এইসব ভেবেই এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িতে আসে ভিতর থেকে।

ফ্রেশ হয়ে এসে নাস্তা বানিয়ে খেয়ে নেই তারপর বেড়িয়ে পড়ি মেডিক্যালের উদ্দেশ্যে। কিন্তু যাওয়ার আগে একবার চারদিক চেক করে নেই। যদি ফুল পেরকের ফুলের দর্শন হয়। কিন্তু না, কিছুই ছিল না?। হাইরে আমার ফুটা আশা।

???

” তেরে ইস্ক নে কিয়া মুঝে ঘায়েল?

আব তেরে বিন একভি পাল লাগতাহে মুঝে সো সাল❤”

— ” এই প্রথম তুমি আমায় নিজ থেকে স্পর্শ করেছ রিয়ুপাখি৷ হোক না তা ঘুমের ঘোরে। তোমার এই স্পর্শে মনের মধ্যে এক অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে। ভেবেছিলাম তোমায় আরেকটু সময় দিব কিন্তু কালকের পর যে তা আমার জন্য দায় হয়ে উঠেছে। তাই আমি ঠিক করেছি তোমায় খুব জলদি নিজের কাছে নিয়ে আসবো। খুব জলদি মাই লাভ। তখন তুমিও সকলকে বলতে পারবে তোমার ইচ্ছা,আশা,আবদার পূরনের জন্য কেউ আছে। আছে তোমায় আগলে রাখার জন্য। ❤” এই বলে রিয়ানার ছবিতে এক কিস করে।

??

হসপিটালের ভিতরে তারাহুড়া করে ঢুকতে গিয়ে কাউরো সাথে ধারাম করে বারি খাই। আমি তাল না সামলাতে পেরে পড়ে যেতে নেই ভয়ে চোখ দুটো খিচে বন্ধ করে নেই। ঠিক তখনি কেউ আমার কোমড় জরিয়ে ধরে টান দেয় আমায়। আমি গিয়ে তার বুকের উপর পড়ি। ঘটনাটা খুব দ্রুত হওয়ার আমি কিছু বুঝে উঠতে পারি নি। যখন বুঝতে পারি তখন সাথে সাথে স্বরে আসি। মুখ তুলে তাকিয়ে দেখি মি. খারুস থুরি ড. রিয়ান।

তাকে দেখার সাথে সাথে কেন জানি রাগ উঠে যায়। হয়তো কালকের সেই গাধীর মত খাটনি করার জন্য। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই সে বেসুরা কাকের মত খেক খেক করে বলে উঠে।

–” Are you blind?? দেখে চলা ফেরা করতে পারো না।”

— ” এই একই কথা তহ আপনার উপরও লাঘু হয়। আর আপনি আমায় তুমি বলছেন কোন সাহসে?”

–” নিজের স্টুডেন্টকে কি এখন আমি আপনি বলে সম্বোধন করব নাকি?? ভুলে যেও আ’ম ইউর সিনিয়র এন্ড এলসো ইউর টিচার। সো আই হ্যভ দ্যা রাইট। আর হ্যাঁ আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবে। এই রকম থার্ড ক্লাস বিহেভিয়ার আমি সহ্য করবো না।”

–” কঁচু “?

— ” কি বললে??” চোখ গরম করে।

তা দেখে আমি কিছুটা চুপসে যাই। মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই গিলে খাবে। আমি আমতা আমতা করে বলি।

— ” কঁচু খাইসেন!! কঁচু!! খুব টেস্ট। ?”

অধ্যায় 7 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!