সিজন 1 অধ্যায় 6 ড্রামা মেডিকেল #বিপদ #অফিস রোম্যান্স রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান আবির আরহাম

কঠোর শিক্ষকের কঠিন পরীক্ষা

9 মিনিট পড়া 1,433 শব্দ
কঠোর শিক্ষকের কঠিন পরীক্ষা

রিয়ানাঃ আপনার গাড়ি কই?? বেঁচে দিসেন নাকি??

.

সাদাতঃ নষ্ট হয়ে গেছে তাই ফেলে দিসি। বিরক্তিকর একটা ভাব নিয়ে।

.

রিয়ানাঃ নষ্ট বলে ফেলে দিবেন?? টিস্যু পাইসেন নি? জানেন একটা গাড়ি কিনতে কত টাকা লাগে। ওই টাকা দিয়ে হয়তো হাজার মানুষের এক বেলার ভাতও খেতে পারতো। কিন্তু আপনি তহ সেই টাকা দিয়ে গাড়ি কিনসেন! কিনসেন তহ কিনসেন আবার ফালাইয়া ও দিসেন। কত অপচয়ী আপনি। আপনার নামে অপচয়ী মামলা করা উচিৎ।

আমি আর কিছু বলতে যাব তার আগেই ওই ছেলেটা দুইহাত সামনে এনে রিকুয়েষ্ট করে বলে।

.

সাদাতঃ প্লিজ স্টোপ যান!! আমার কানের পর্দা ফেটে গেল। অনেক বড় ভুল করেছি আপনাকে এই কথা বলে তা আমি বুঝেছি আর বুঝাতে হবে না। ?

.

রিয়ানাঃ হুহ। বলে চুপ করে থাকি।

অতঃপর হসপিটালে এসে পড়ি। আমি তারাতারি ব্যাগ থেকে টাকা বের করে তার হাতে ধরিয়ে বেড়িয়ে আসি। সে হয়তো কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু তাতে আমার কি।। আমি দৌড়ে চলে যাই হসপিটালে।

এইদিকে,

.

সাদাতঃ Such a Childish person. মাথার সব নার্ভ নাড়িয়ে দিসে এই মেয়েটা। Uff irritating.

???

হসপিটালের ভিতরে গিয়ে আমি আগে রিংকি আর আরিশাকে খুঁজি। একসময় পেয়েও যাই। ওদের কাছে গিয়ে বসে আমি চারদিক তাকিয়ে দেখি সব মেয়েরা রংসং লাগিয়ে করে দাড়িয়ে আছে। মুখে বস্তা বস্তা মেকাপ। তা দেখে আমার কিছুটা সন্দেহ হয়। আমি আরিশাকে জিজ্ঞাসা করি।

.

রিয়ানাঃ ওই এই মাইয়ারা শাকচুন্নির মত সেজে এসেছে কেন রে??

.

আরিশাঃ ড. রিয়ানকে ইম্প্রেস করার জন্য।

.

রিয়ানাঃ বুইড়া মানুষকে ইম্প্রেস করার জন্য এত কিছু?? এরা কি স্যারের সাথে পরকিয়া করবো নি??

.

রিংকিঃ কি যাতা বলছিস তুই?? বুইড়া বেটা,পরকিয়া মানে?? কার কথা বলছিস??

.

রিয়ানাঃ আর কার ড. রিয়ানের।

.

আরিশাঃ তোরে কে বলসে যে ড. রিয়ান বুইড়া বেটা??

.

রিয়ানাঃ কেউ না।

.

রিংকিঃ দ্যান তুই জানলি কেমনে সে বুইড়া?

.

রিয়ানাঃ আরেহ আমি শুনেছি তিনি নাকি অনেক নাম করা একজন কার্ডিওলজিস্ট। তিনি এই পর্যন্ত যতটি সার্জারী করেছে তার ৯০% এই সাকসেস ফুল ছিল। তার মানে তহ তার experience অনেক হইবো আর তার সাথে বয়সও। কেন না বুইড়া ডাক্তারগোই সার্জারী এত পার্ফেক্ট হয়। তহ সেই হিসাবে সে বুড়োই?

.

এই শুনার সাথে সাথে রিংকি আর আরিশা মাথায় হাত দিয়ে বসে। এই সব থিংকিং রিয়ানাকে দিয়েই সম্ভব। ঠিক তখনই পিছন থেকে কেউ বলে উঠে।

.

— ” Hello everyone. আপনাদের সকলকে আমাদের এই হসপিটালে স্বাগতম। তহ আগে পরিচয়টা দিতে ফেলি।

আমি হচ্ছি ড. সিয়াম মাহমুদ আর এনি হচ্ছে ড. সাদাত খান রিয়ান। আপনারা এর আন্ডারেই কাজ করবেন। আগেই বলে দিচ্ছি আমাদের রুলস অনেক strict. তাই কোন টাইপের ফাঁকি বাজি চলবে না।

তা এখন আপনাদের সকলের ফরম চেক করছি তারপর একেকজনকে ডাকা হবে আর একেক জনকে একেক এসাইনমেন্ট দেওয়া হবে। সেগুলাই আজ আপনারা এইখানে বসে করবেন। এসাইনমেন্ট শেষে আমাদের কাছে একটা তা জমা দিয়ে বাসায় চলে যাবেন। মাইন্ড ইট কেউ এসাইনমেন্ট শেষ না করে কোথাও যেতে পারবেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই একেক করে সবাইকে ডাকা হবে। ” বলে তারা রুমে চলে যান।

সবাই ড. রিয়ানকে দেখে খুশি হলেও এসাইনমেন্টের কথা শুনে চুপসে যায়। প্রথম দিনেই কাজ কার ভালো লাগবে।

কিন্তু আমার সমস্যা তহ অন্য জায়গায়।কেন না এই ড. রিয়ানই হচ্ছে ওই গাড়িওয়ালা খারুস বেটা।

.

রিয়ানাঃ এইটা কেমনে সম্ভব??

.

রিংকিঃ এইটাই সাইন্স মাই ডিয়ার।

.

রিয়ানাঃ মানে??

.

আরিশাঃ আরেহ গাধী নিউজ যখন শুনেই ছিলি তাইলে ভালো মত শুনতি। ড. রিয়ান ইজ দ্যা মোস্ট ইয়োংগেস্ট পার্ফেক্ট কার্ডিওলজিস্ট ইন বাংলাদেশ। তিনি ৩০ বছর বয়সেই অপেন হার্ট সার্জারী করে যা সাকসেসফুলও হয়। সেই থেকে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে যার ফল স্বরুপ তিনি এত নাম খেতি অর্জন করে।

.

রিয়ানাঃ আগে বললি না কেন?

.

রিংকিঃ আমরা কি জানতাম নাকি তুই এমন খাটাইশা মার্কা ভাবনা নিয়ে বসে আছোস।

.

আরিশাঃ কাহিনি কি তুই এত ভয় পাইতাসোস কেন?

.

রিয়ানাঃ এইটা ওই ছেলে!!

তারপর ওদের কালকের ঘটনা থেকে শুরু করে সব খুলে বলি। সব শুনে দুইজন মাথা হাত দিয়ে বসে আর বলে।

” আব তেরা কেয়া হোগা রিয়ানু বেবি। আব তু গেয়া ”

??

ড. রিয়ানের সামনে বসে আছি। চোখে মুখে ভয় স্পষ্ট আমার। ড. রিয়ান আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আমার ফরমটা হাতে নিলেন। তারপর বলতে শুরু করলেন।

.

রিয়ানঃ মিস রিয়ানা রাইট!

.

রিয়ানাঃ জ্বী।

.

রিয়ানঃ Much bright student but you have no manners.

.

আমি দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা সহ্য করে বসে রইলাম। সে আবার বললো।

.

রিয়ানঃ সে যাই হোক, হিয়ার ইজ ইউর এসাইনমেন্ট টপিক। এক মুচকি হাসি হেসে।

.

আমি চুপচাপ তা হাতে নিয়ে দেখতে লাগি। টপিকটা দেখেই আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠে।

“Heart Failure and Pulmonary Hypertension”

.

আমার কাছে কার্ডিওলজিতে এইটাই সবচেয়ে কঠিন লাগে আর সবচেয়ে ভয়ংকর। আর এই খারুস বেটা আমায় এইটা দিল।

এই এসাইনমেন্ট করতে করতে আমার এই জনম পার হয়ে যাবে তাও এসাইনমেন্ট শেষ হবে না।

আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই বলে সে বলে উঠে।

রিয়ানঃ You may can leave now. Mr. Himel come in.

.

আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। বাদ্ধ হয়ে বেড়িয়ে আসলাম। জানি বদমাইশ বেটা আমাকে ইচ্ছা করে এত কঠিন জিনিস দিসে। আমি মনের মধ্যে একগাদা দুঃখ আর কষ্ট নিয়ে এসাইনমেন্ট করা শুরু করি।

???

রাত ৯ টা বাজে।

সবাই সবার এসাইনমেন্ট শেষ করে আর আগেই চলে গেছে শুধু আমিই বাকি। আরেকটু রয়ে গেছে। এতটুকু করলেই আমার কাজ শেষ।

কিন্তু যতই ভাবছি এইতো আরেকটু হলেই ইতি ততই হাতের স্পীড কমে আসছে। হাতটা যেন চলছে না। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে আমার এসাইনমেন্ট শেষ হয়।

আমি এক শান্তিময় শ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাই ড. রিয়ানের কেবিনে। কিন্তু বেটা খারুস কেবিনে নাই। আজকে নাকি হসপিটালে সকল ডাক্তারদের সাথে তার বোর্ড মিটিং আছে তাই সে সেখানেই গিয়েছে। শুনেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। আজকেই মিটিংটা পড়তে হলো?? একে তহ এমন কামলার মত খাটাইসে আবার এখন উঠাও। অসহ্য!! ঘোর অসহ্য!!

হসপিটালের এক সাইডে বসে আছি। উদ্দেশ্য ড. রিয়ানকে এসাইনমেন্টটা জমা দেওয়া। এই সময় না বড্ড বাজে জিনিস। যখন বলি ধীর গতে চল তখন চোখের পলকে ছুটে চলে। আর যখন বলি দ্রুত চল তখন একদম কচ্ছপের ন্যায় চলে।

অপেক্ষা করেই চলেছি এমন সময় একজন ছিমছাম টাইপ লোক হন্তদন্ত হয়ে হসপিটালে ঢুকে। ডাক্তার আর সিস্টারকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু কাউকে পাচ্ছে না।

বেশির ভাগ সিস্টারের ডিউটি শেষ বলে তারা চলে গেছে আর যারা আছে তারা একেক কাজে ব্যস্ত। আর বাকি ডাক্তাররা মিটিংয়ে।

লোকটি বেশ চিন্তিত। পড়নের শার্টের এক কোনে হাল্কা রক্ত। তা দেখে আমি তার কাছে যাই আর আগ বাড়িয়ে বলি।

.

রিয়ানাঃ আপনি কি কিছু খুঁজছেন??

.

লোকটিঃ আব হ্যাঁ! আমার বস কার এক্সিডেন্ট করেছে যার ফল স্বরুপ অনেক ব্যথাও পেয়েছে। হাত আর মাথা থেকে ব্লিডিং হচ্ছে কিন্তু সে হসপিটালে আসতে নারাজ। তাই আমি এইখানে ডাক্তার বা নার্সকে নিতে এসেছি বাইরেই গাড়ি দাড় করানো। কিন্তু কেউ যেতে যাচ্ছে না প্লাস কোন ডাক্তারও নেই।

.

এই বলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে আমার দিকে ভালো মত তাকালো। গায়ে আমার সাদা এপরোন। তিনি হয়তো কিছুটা আন্তাজ করতে পেরে আমায় বলে।

.

–” আপনি তহ মেবি মেডিক্যালেরই স্টুডেন্ট। আপনি প্লিজ আমায় একটু হেল্প করবেন। প্লিজ মানা করবেন না”

আমি চারদিক চোখ বুলিয়ে দেখি তেমন কেউ নেই। আর ডাক্তারদের মিটিংও কখন শেষ হয় কে জানে। তাই সব চিন্তা করে আমি বললাম।

.

রিয়ানাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি একটু দাড়া আমি ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসছি।

.

— ” জ্বী ঠিক আছে। ”

??

[ নিচের কথা গুলো পড়ে নিবেন]

গাড়িতে এসে দেখি আমার বয়সী একছেলে সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। হাত আর মাথার এইদিক দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। আমি দিয়ে তার পাশে বসে আমার কাজ শুরু করি। হ্যক্সিসোল লাগানোর সাথে সাথে সে লাফিয়ে উঠে। বুঝতে পারি তার জ্বলছে। সে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিছন থেকে সেই লোকটি বলে উঠে।

— ” বস, চিন্তার বিষয় নেই তিনি আপনার ট্রিটমেন্ট করতেই এসেছে। ”

সে কিছু না বলে চুপ করে বসে থাকে। আমি আবার হ্যক্সিসোল লাগাতেই ব্যথায় কিছুটা কুঁড়িয়ে উঠে। আমি হেসে বলি।

— ” ছেলে হয় এতটুকু ব্যথা সহ্য হচ্ছে না। তা কেউ যদি আপনায় মেরে ভূত বানিয়ে দিয়ে যায় তাহলে তহ সত্যি আপনি ভূত হয়ে আল্লাহ এর প্রিয় হয়ে যাবেন।” বলে হেসে উঠি।

সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলে।

–” জ্বী না। মোটেও তেমন কিছু না। আমি তহ এমনেই কেঁপে উঠেছিলাম ”

— ” থাক থাক মিথ্যা বলতে হবে না।

বুঝি বুঝি। জ্বালা করছে কিন্তু বলবেন না। ”

— ” আপনি যা বুঝছেন তা নয়। আমার মোটে জ্বালা করছে না।”

— ” তাই নাকি!” বলে একটু হ্যক্সিসোল ঘাতে চেঁপে ধরলাম। সে আবার ব্যথায় কুকড়িয়ে উঠে।

–” হলো তহ মিথ্যাটা ফাঁস হয়ে। আর এমনেও হ্যক্সিসোলে এমন জ্বালা করবেই। এইটি ঘা এর জন্য উপকারি হলেও জ্বালা করে অনেক বেশি। ”

— “হু”

কথা বলতে বলতেই আমি মাথায় আর হাত বেন্ডেজ করে দেই। তারপর বলি।

–” নেন হয়ে গেছে ”

— ” থেংকি ইউ, তা আপনি কি নার্স নাকি ডাক্তার? ”

— ” আপাতত কোনটাই না আমি একজন স্টুডেন্ট। এই হসপিটালে ইন্টারসিপ করতে এসেছি ”

— ” অহহ!! তা আপনার নাম? ”

— “রিয়ানা আপনার??”

— ” আবির আরহাম”

অধ্যায় 6 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!