আমি আর আবির সামনে কিছুদূর যেতেই কেউ আমায় ডেকে উঠে। আমি পিছে ফিরে তাকিয়ে মি খারুস। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই আবির বলে উঠে।
.
–” রিয়ান!!”
.
কথাটা মৃদু ভাবে বললেও আমার কান পর্যন্ত পৌঁছায়। আমি ভ্রু কুচকিয়ে আবিরের দিকে একবার তাকিয়ে আবার মি. খারুসের দিকে তাকালাম। বুঝার চেষ্টা করি দুইজন কি আদো চেনা নাকি?
এর মধ্যে মি খারুস মানে ড. রিয়ান আমার সামনে আসে। তারপর একটু বিরক্তিকর গলায় বলে।
.
রিয়ানঃ এত কেয়ারলেস কেন তুমি??এসাইনমেন্ট করেছ ভালো কথা নাম আর আইডি কার্ড এর নাম্বার কে লিখবে??
.
রিয়ানাঃ উপস!! ভুলে গেসি। সরি।
.
রিয়ানঃ জাস্ট রিডিকুলাস!! এই নাও ধরো আর সব কিছু পূরণ করে দ্যান জমা দাও! এই বলে হাতে এসাইনমেন্টটা ধরিয়ে দিয়ে পিছে ফিরে যেতে নিলে আবিরের ডাকে দাড়িয়ে যায়।
.
আবিরঃ কেমন আছো রিয়ান?? উপস সরি ড. সাদাত খান রিয়ান।
.
রিয়ান আবিরের কথা ঘুরে দাড়ায় আর তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আবিরের উপর নিক্ষেপ করে। বুঝার চেষ্টা করে সে কে? অতঃপর চিনতে পেরে মুখের মধ্যে গম্ভীরতা ছড়িয়ে পড়ে। চোখ মুখ পাল্টে যায়। কিন্তু তাও অনাইচ্ছা সত্তেও মুখে এক হাসি ফুটিয়ে তুলে আর বলে।
.
রিয়ানঃ আ’ম এবসুলুটলি ফাইন মি. আবির আরহাম। তা অনেক দিন পর সাক্ষাৎ হলো আমাদের।
.
আবিরঃ Yeah. After a age!
.
রিয়ানঃ তা এইখান কেন? আমাকে খোঁজ করছিলে বুঝি? নাকি আবার..
.
আবিরঃ তেমন কিছুই নয়। জাস্ট কালকে একটা মাইনোর এক্সিডেন্ট হয়েছিল তাই আজকে একটু পরিক্ষা করাতে আসলাম সব ঠিক আছে কিনা! ইউ নো না আমার ফিট থাকা কতটা প্রয়োজন?
.
রিয়ানঃ ইয়াহ বাট দেখে শুনে গাড়ি চালানো ভালো। তা না হলে কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না। By the way it was nice to meet you again.
.
আবিরঃ Same here. বলে হাত বাড়িয়ে দেয়।
.
রিয়ান না চাওয়া সত্তেও হাত আগে বাড়ালো। দুইজন হ্যান্ডশেক করতে গিয়ে দুইজনই দুইজনের হাত জোরে চেপে ধরে আর চোয়াল শক্ত করে ফেলে। চোখ মুখে এক আলাদা রাগ আর ক্ষোভ৷ কিছু সময় পর তারা হাত ছেড়ে দেয় তখন রিয়ান বলে উঠে।
.
রিয়ানঃ মিস রিয়ানা এসাইনমেন্টটা ঠিক করে আমার কেবিনে দিয়ে আসবেন। আমার এখন ওটিতে যেতে হবে সো এক্সকিউজ মি! বলে তিনি চলে যায়।
.
আমি এতক্ষন হাবলার মত দুইজনের কথা বার্তা শুনছিলাম আর ভাবছিলাম এরা কি বাই এনি চান্স ফ্রেন্ড নাকি চিনা পরিচিত নাকি রিলেটিভ?? যখন আমি এইসবের হিসাব কষছিলাম তখন মি খারুসের কথায় বাস্তবে ফিরে আসি। আর তার যাওয়ার দিকে চেয়ে থাকি। তখন আবার আবির বলে উঠে।
.
আবিরঃ এই মিস কোথায় হারিয়ে গেলেন?
.
রিয়ানাঃ অহহ না কোথাও না!! আচ্ছা আপনারা দুইজন কি দুইজনকে চিনেন?? আপনারা কি বন্ধু??
.
আবিরঃ হ্যাঁ চিনি। একটু ভালো করেই চিনি কিন্তু আমরা বন্ধু না। আমরা যে কি তা আমরাও জানি না। শেষে কথাটা আস্তেই বললো সে। যার ফলে আমি কথা অস্পষ্ট শুনতে পাই। তাই জিজ্ঞেস করি।
.
রিয়ানাঃ মানে?
.
আবিরঃ তেমন কিছু! That is a long story. বাদ দেন এইসব আমাকে রুমটা দেখিয়ে দেন প্লিজ। আমাত লেট হচ্ছে।
.
রিয়ানাঃ আব হ্যাঁ চলুন। বলেই হাটা ধরলাম।
.
.
??
.
লাঞ্চ টাইমে কেন্টিনে বসে আছি। সাথে রিংকি আর আরিশাও আছে। তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেই যাচ্ছি। আসলে বন্ধুত্ব এমন এই হয়। এই ঝগড়া এই মিল। আর এমনেও আমাদের মধ্যে মান অভিমান বেশিক্ষন থাকে না।
তখন মি. আবিরকে এক্সামিনেশন রুম দেখিয়ে আমি চলে আসি। এসাইনমেন্টটা ঠিকঠাক করে মি. খারুসকে দিয়ে আসি আর এসেই মেতে উঠি এই দুই বান্দরনীদের সাথে।
.
রিংকিঃ রিয়ানু আজ না আমার ক্রাশ লাইভে আসছে ওর ফ্যানদের সাথে আড্ডা দিতে। ইশ ভাবতেই খুশিতে Disco dance দিতে ইচ্ছা করতাসে।
.
রিয়ানাঃ মি খারুস থুরি ড. রিয়ান গান কবে থেকে গাওয়া শুরু করলো রে?? তাও আবার লাইভে!! আর ফ্যানের পাইলো কই? কনফিউজড হয়ে।
.
রিংকিঃ তুই ড. রিয়ান রে কই থেকে আনলি?? আর সেই বা কোন দুঃখে গান গাইতে যাইব??
.
রিয়ানাঃ ওইদিন না তুই বললি তোর ক্রাশ ড. রিয়ান। তহ তোর ক্রাশ গান গাইবো মানে ড. রিয়ান গান গাইবো।
.
আরিশাঃ আরেহ গাধী ওই আবিরের কথা বলতাসে। দ্যা রকস্টার আবির আরহামের।
.
রিয়ানাঃ নামটা এত চিনা চিনা কেন রে ভাই??
.
রিংকিঃ ওর এত ফ্যান ফলোয়ার, এত বড় সেলেব্রিটি নাম তহ শুনারই কথা। আর আমিও তহ একদিন ওর কথা বললাম না। তাই হয়তো চিনা চিনা লাগছে।
.
রিয়ানাঃ আচ্ছা ওই এক্সিডেন্ট করা পোলা মানে আবিরের ফুল নাম জানি কি ছিল?? উফফ মনে পড়ে না কেন? আবির আয়রন ছিল নাকি আয়ডিন? উফফ রিয়ানা তোর মাথা গেসে!! এইটি কাউরো নাম হয়নি। মেডিক্যাল তোরে আধপাগল বানাইয়া দিসে বইন। ধুর!! মনে মনে।
.
রিংকি আমার কাধে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে বলে।
রিংকিঃ কিরে কই হারাইয়া গেলি??
.
রিংকির ধাক্কায় ধ্যান ফিরে আমার। আমি স্মিত হেসে বলি।
.
রিয়ানাঃ আব কোথাও না।
.
আরিশাঃ আরেহ রিংকু আবিরের লাইভ কয়টায় রে??
.
রিংকিঃ ৩ টাই।
.
আরিশাঃ এখন তহ ২. ৫৮ বাজে মানে আর ২ মিনিট পর!!
.
রিংকিঃ আহ আল্লাহ এত তারাতারি এত বেজে গেল। ওর লাইভ শুরু হয়ে যাবে তহ!! কই আমার মোবাইল কই??
.
রিংকি তারাতারি তার মোবাইল খুঁজতে থাকে তারপর মোবাইল বের করে ফেসবুকে আবিরের ফ্যান পেজে যায়। এখনো লাইভ শুরু হয়নি।
.
রিংকিঃ যাহ এখনো লাইভ শুরু হয়নি। তা আজ কিন্তু তোদের কেউ আমার সাথে ওর লাইভ দেখতে হবে ওকে। আমি কোন কথা শুনবো আমি!!
.
আমরা আর কিছু বলতে পারলাম না রাজি হয়ে গেলাম। ৫ মিনিট পর লাইভ শুরু হয়। আমিও দেখতে থাকি। কিন্তু যা দেখি তাতে আমার মুখ ইয়ায়া বড় হা হয়ে যায়।
কেন না এই আবিরই ওই আবির। তার মানে সে একজন রকস্টার প্লাস সেলিব্রিটি। বাট তাতে আমার কি!! হুহ!!
এইসব ভাবা শেষে আবার লাইভে মনোযোগ দিলাম।
.
— ” হেই গাইস হোয়াটস আপ? আশা করি ভালো আছেন।।”
.
সাথে সাথে দেখি হাজার কমেন্ট। রিংকিও কমেন্ট করছে। আমি কয়েকটা কমেন্ট দেখলাম। আমি কয়েকটা কমেন্ট দেখলাম, মেক্সিমাম সবার কুয়েশ্চন আবিরের মাথায় বেন্ডেজ কেন??
.
–” রিলেক্স গাইস আমার কিছু হয়নি। কালকে জাস্ট মাইনোর একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল নাথিং এলস্। ঠিক টাইমে একজন এসে আমায় হেল্প করে যার জন্য now i am absolutely fine.”
.
বলার সাথে সাথে কান্নার ইমুজিতে ভরে গেল কমেন্ট বক্স। এ কি এইখানে দেখি রিংকি একবারে কান্নায় শুরু করে দিসে। বুঝলাম কাহিনি।
তারপর দেখি সকলেই লিখছে ” Get well soon”. সেলেব্রিটি বলে এত কেয়ার আর এত ভালবাসা?? ভাবা যায়!!!
.
— ” Thanks a lot guys for all of your well wishes. আমার প্রতি আপনাদের এত ভালবাসা দেখে আমি মুগ্ধ। আমার মত এত ছোট গায়ককে এত ভালবাসা দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ৷ তা চলুন আড্ডা শুরু করা যাক।”
.
এইভাবে অনেকক্ষণ আড্ডা চলার পর সকলেই আবিরকে গান গাওয়ার জন্য রিকুয়েষ্ট করে। তখন বাধ্য হয়ে সে রাজি হয় আর গিটার নিয়ে এসে বসে।
.
— ” আজকের গানটি.. উহু! বলবো না। আজ শুধু গানটা ফিল করেন সবাই।” এই গান গাওয়া শুরু করলো।
.
” ?Hua hai aaj pehli baar
Joh aaise muskuraya hoon
Tumhe dekha toh jaana yeh
Ke kyun duniya mein aaya hoon.?”
.
[ বাকিটা নিজ দ্বায়িত্বে শুনে নিবেন]
.
আমি মন দিয়ে গানটা শুনছিলাম। সত্যি তার গলার আওয়াজ ইজ জাস্ট ওয়াম। গান শেষে একটু কথা বলে সে লাইভ শেষ করে।
।
।
??
।
।
টিউশন শেষ করে বাসায় ফিরছি। কালকে দেরি হয়ে যাওয়ার জন্য যেতে পারি নি। তাই আজকে একটু বেশি টাইম পড়িয়ে আসতে হয়েছে আমার। সব দোষ ওই মি. খারুস বেটার। তার জন্য আমার মত বাচ্চা মাইয়াকে কত কষ্ট করতে আজকে। আল্লাহ এই অবিচার সইতো না আমি জানি।
এইসব বলতে বলতে বাসায় এসে পড়ি আর এসে যা দেখি তাতে আমি ৮২০ ভোল্টেজের ঝাটকা খাই। কেন না সামনে….
[ বলুম না? আজকের পর্বেই সব জানবেন নাকি? পরের পার্টের জন্যও কিছু রাখেন?]