ধানমন্ডি লেকে বসে আছি। সাথে দুই বান্দরনি রিংকি আর আরিশা। আমি বসে বসে বাদাম চিবুচ্ছি আর ওদের কথা শুনছি। ওরা দুইজন রকির অকালে মৃত্যুর পিছের রহস্য ভেদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা যে শুধু মৃত্যুতে স্থির রয়েছে তা নয়। এর উপরে তারা রকির জিএফ, বয়স, কুকর্ম সব কিছুর খাতা এক সাথে খুলে বসে আছে। মানে চৌদ্দ গুষ্টি নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিয়েছে। (গার্লস ফেক্ট?)
যা মোটেও আমার পছন্দ হচ্ছে না। তাই এক বস্তা বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলাম।
.
রিয়ানাঃ যে মরসে তার খোঁজ না মাইয়াগো আর ঘুম নাই। ?
.
দুইজনেই আমার কথায় কিছুটা নড়েচড়ে বসে। আমি যে কি বুঝাতে চেয়েছি তা দুইজনে ঠিকই বুঝে গিয়েছে। আমি যে এদের এইসব কার্যালাপে অতিষ্ঠ ওরা আমার মুখখানা দেখেই বুঝতে পারছে। তাই কথাটা চেঞ্জ করার জন্য রিংকি বলে উঠে।
.
রিংকিঃ আব জানোস কালকে সেই মাপের একটা ক্রাশ খাইসি।?
.
রিয়ানাঃ বেশি ব্যথা পাইসোস নি??
.
রিংকিঃ ব্যথা পাবো কেন??
.
রিয়ানাঃ না মানে ক্রাশ = ভাঙা/ পিষা, তহ সেই হিসাবে ক্রাশ খাইসোস মানে আছার খেয়ে শরীরের কোন জায়গা ভাঙে গেছে নাইলে শিলপাডার মধ্যে পিষা খাইসো। ?
.
আরিশাঃ উহু। রিয়ানু বেবি, তুই আরেকটা মিনিং ভুলে গেছিস। ক্রাশ = বাশ। ?
.
এই শুনার সাথে সাথে আমি আর আরু হাসিতে মেতে উঠি। আর রিংকি গাল ফুলিয়ে বলে।
.
রিংকিঃ হা হা ভেরি ফানি। তোরা কোনদিনই বুঝবি না ক্রাশ মানে ভালবাসা। আর এমনেও এখন থেকে এইটাই আমার ওয়ান এন্ড অনলি ক্রাশ।
.
রিয়ানাঃ তা মনু এই লাস্ট লাস্ট করতে করতে তুমি এই পর্যন্ত কয়টা ভালবাসা খাইসো থুরি কয়টা ক্রাশ খাইসো??
.
আরিশাঃ তুই কারে কি জিজ্ঞাস করোস!! ওই যত না ভাত খায় তহ বাশ থুরি ক্রাশ খায়।
.
এই বলে দুইজন আবার হাসতে থাকি। আর রিংকি ওর ব্যাগ দিয়ে ধাম ধিরাম বারি বসিয়ে দেয়। আমরাও মাইর খেয়ে চুপ। লাইক ইনোসেন্ট চকলেট।
.
রিংকিঃ আমি সিরিয়াস এইবার। এইটাই আমার লাস্ট এন্ড ফাইনাল ক্রাশ। বিয়া করলে ওকেই করবো নাইলে চিরকুমার থাকুম।
.
রিয়ানাঃ It’s চিরকুমারি not চিরকুমার? তুই কবে এই জেন্ডার এর পার্থক্য বুঝবি।
.
রিংকিঃ ওই একই। শুরু ই-কার এ পার্থক্য। আর তোরা আমার ইমোশান বুঝ কথা ধরোস কেন??
.
আরিশাঃ আচ্ছা বুঝলাম বাট আগে এইটা বল তোর নিউ ব্রাশ থুরি ক্রাশ কে?
.
রিংকিঃ আবির আরহাম।
.
.
???
.
.
সামিঃ হোয়ার ইজ আবির?? আর একটু পর ওর কন্সার্ট আর ওই এখনো আসে নি?? ওকে নিয়ে যে আমি কি করবো??
.
হাইওয়ে তহ ফুল স্প্রীডে রেস বাইক চালাচ্ছে আবির। সাথে আছে আরও কয়েকজন জন। বাইক কোম্পেটেশন হচ্ছে তাদের মধ্যে। সকলের একটাই উদ্দেশ্য আবিরকে হারানোর কিন্তু কেউ আবিরের নাগালই পাচ্ছে না। ও সবার আগে। সকলেই তাকে হারানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেই চলেছে কিন্তু প্রত্যেক বার ফল বিফলে যাচ্ছে।
শেষে আবির রেস জিতে যায়। বাইককে রাউন্ড রাউন্ড ঘুরিয়ে ঠিক মাঝে বাইকটি থামায় সে। তারপর ফুল এটিটিউড নিয়ে নেমে আসে সে। হেলমেট খুলার সাথে সাথে তার সিল্কি চুল গুলো কপালে এসে পড়ে। পড়নে তার ব্ল্যাক টি-শার্ট আর ব্ল্যাক ডেনিম প্যান্ট। পায়ে ব্ল্যাক কেডস্।
আবির ফুল এটিটিউড নিয়ে সামনে আসে তারপর রিসাবের সামনে এসে বলে।
.
আবিরঃ আগেই বলেছিলাম এই আবিরকে আন্ডারটেস্টিমেট করিস না কিন্তু শুনলি না। এখন শুনি হারতে কেমন লাগলো তোর?? ভালো তহ?
.
রিসাবঃ আবিরর!!
.
আবিরঃ Don’t shout!! নেক্সট টাইম আমার সাথে লাগতে আসলে হাজার বার ভাববে।
সূর্য!!! সূর্য!!!
.
সূর্যঃ ইয়েস বস। হন্তদন্ত হয়ে সামনে এসে।
.
আবিরঃ What is the time?
.
সূর্যঃ ৪.৪৫ স্যার।
.
আবিরঃ গেট মাই কার।
.
সূর্যঃ ইয়েস স্যার।
.
.
সামিঃ উফফফ ৫ মিনিট পর কন্সার্ট আর আবির এখনো আসেনি। কি যে করি? সবাই এসে গেছে। হোয়ার ইজ হি ডেমেট।
.
তখনই পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠে।
.
— ” Mr. Sami I am here ”
.
সামি পিছন ঘুরেই দেখে আবির পকেটে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে। মুখে এক মন ভুলানো হাসি। সামি কিছু বলার আগেই আবির চোখ দিয়ে তাকে আসস্তি দেয় তারপর গিটার নিয়ে স্টেজে উঠে বসে। মাইক ঠিক করে বলে,
.
আবিরঃ হেই গাইস, আবার ফিরে এসেছি আপনাদের মাঝে। কেমন আছেন আপনারা?? নিশ্চয়ই আমার মত বিন্দাস।
.
বলার সাথে সাথে সবাই চিল্লিয়ে উঠে।
.
আবিরঃ ওকে দ্যান তাহলে আজকের কন্সার্ট শুরু করা যাক। আজকের গান আমার Broken heart ফ্যানদের জন্য।
.
এই বলে আবির গিটারে টিউন ধরলো।
.
.
“? স্মৃতির জোনাকি ছাড়া কিছু নেই
বুকের বা পাশে
আমার দুঃখ বাড়ে যে কোন ঋতুর পালটে যাওয়া বাতাসে
আলতো গায়ে মাখি, যত্নে তুলি রাখি
তোমার লেখা যত চিঠি আসে
জানলা খুলে রাখি
আসলে সবই ফাকি
তোমার নামে তুবও আলো আসে
স্মৃতির জোনাকি ছাড়া কিছু নেই
বুকের বা পাশে। ?” ( বাকিটা নিজের দ্বায়িত্বে শুনে নিবেন)
।
।
??
।
।
রিয়ানাঃ এইটা আবার কে??
.
আরিশাঃ আরেহ আবির একজন রকস্টার। বাংলাদেশের টপ সিংগারের মধ্যে একজন। শত শত মেয়ের ক্রাশ।
.
রিংকিঃ হু।। ওই আমার একমাত্র ক্রাশ প্লাস আমার হবু জামাই।?
.
আমি কিছু বলতে যাবে এর আগেই আমার ফোনের এলার্ম বেজে উঠে যার মানে এইটা টিউশনির টাইম। আমি তারাতাড়ি ফোনের এলার্ম অফ করে বলি।
.
রিয়ানাঃ আচ্ছা বাই। টিউশনির টাইম হয়ে গেছে।
এই বলে বাদামের প্যাকেট ব্যাগে রেখে দ্রুত পা চালিয়ে ওখান থেকে এসে পড়লাম। ওরা আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
।
।
??
।
[[ সকলের কাছে অনুরোধ নিচের লেখা গুলো অবশ্যই পড়বেন ]]
।
রাতের খাওয়ার পর বেলি ফুল গুলো নেড়ে চেড়ে দেখছি। কিছুটা শুকিয়ে গিয়েছে কিন্তু তাও ঘ্রাণ আসছে। এক হাতে ফুল গুলো দেখছি আর অন্য হাতে দিয়ে আজকের দেওয়া চিঠিটা পড়ছি। চিঠিটা যত বারই পড়ি না কেন মন আর ভরে না। যত বারই পড়ি এক আলাদা ভালো লাগা কাজ করে মনের মধ্যে।
.
রিয়ানাঃ কবে যে দেখা পাব এই চিঠি পেরকের। কেন সামনে আসে না সে? কেন তার ভালবাসা অপ্রকাশিত? সে কি বুঝে না তার অপেক্ষায় আছি আমি? কবে যে শেষ হবে আমার এই অপেক্ষার প্রহর?
এই বলেই এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে আমার মধ্য থেকে।
।
।
??
।
।
“?কাসাম কি কাসাম, হে কাসাম সে
হামকো পেয়ার হ্যয় সেফ তুমসে ?”
.
— ” রিয়ু পাখি খুব জলদি শেষ হতে চলেছে তোমার এই অপেক্ষা। অপেক্ষার শেষ প্রহরে চলে এসেছ তুমি। অপেক্ষার প্রহর পাড়িয়ে আসতে চলেছ প্রেমের প্রহরে।
খুব জলদি নিজের নজরবন্দি করবো তোমায়। তখন চাইলেও আমার থেকে ছাড়া পাবে না তুমি। ” এই বলে অট্টহাসিতে মেতে উঠে সে।
নিজের বা হাতে লিখা “রিয়ানা” নামটিতে সে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ায় আর সেই হাতটি ধরে বুকের বা পাশে আগলে ধরে।
।
।
?
।
আজ শক্রবার। মানে আমার ছুটির দিন। কিন্তু তাও আমি আজ ঘুম থেকে উঠেই সবার আগে দরজা খুলতে যাই। সেই চিঠি পেরকের ফুলময়ের দর্শনের জন্য। শক্রবার হোক আর যাই হোক আমার জন্য ফুল সবসময় বরাদ্ধ।
গেট খুলে পাশে তাকাতেই আমার মুখে হাসি ফুটে উঠে৷
কসমস ফুলের একটি তোরা। তারমধ্যে রাউন্ড সেপ চকলেট। আমি দ্রুত তা নিয়ে রুমে আসি। তারপর কার্ড খুঁজতে থাকি। অবশেষে পেয়েও যাই।
।
” ? অপেক্ষার শেষ প্রহরে
আছো যে তুমি।
শীঘ্রই আসতে চলেছ যে
আমার পিঞ্জারাতে।
আমার প্রেমময় প্রহরে? ”
।
।
আমি চিঠিটা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। কি বুঝাতে চেয়েছে সে??
এইটা কোন নতুন প্রহরের কথা বলছে সে? এই প্রহর কি আদো সুখময় নাকি কষ্টময়?