সিজন 1 অধ্যায় 16 ডার্ক রোম্যান্স রোমান্টিক #অধিকার #পজেসিভ নায়ক রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান আবির আরহাম

অধিকারবোধের চরম শাসন

10 মিনিট পড়া 1,565 শব্দ
অধিকারবোধের চরম শাসন

রিয়ান সামনে তাকিয়ে দেখে আবির রিয়ানার পা তার কোলে নিয়ে মালিশ করে দিচ্ছে আর রিয়ানা চোখ বন্ধ করে আবিরের হাত খিঁচে ধরে আছে। যা রিয়ানের মোটেও সহ্য হচ্ছে না। সে পারছে না আবিরকে জিন্দা কবর দিতে। রিয়ান রাগে ফুসতে ফুসতে ওদের দিকে এগিয়ে যায়।

.

এইদিকে,

যখন আমি ক্যাম্পের দিকে আসছিলাম তখন কোন এক গর্তের সাথে পা বেজে আমি পড়ে যাই। যখন উঠতে নেই তখন ব্যথায় কুকড়িয়ে উঠি। বুঝতে পারি পা টা মচকে গিয়েছে। উঠে দাড়াতে পারছিলাম না অসহ্যনীয় ব্যথা অনুভব করছিলাম পায়ে। তাই সেখানেই পা টা ধরে বসেছিলাম।

হুট করেই কোথ থেকে আবির হলো কে জানে। আমার এই অবস্থা দেখে সে অস্থির হয়ে পড়ে। আমাকে ধরে উঠানোর চেষ্টা করে কিন্তু আমি কিছুতেই উঠতে পারছিলাম না বার বার ব্যথায় কুকড়িয়ে উঠছিলাম। তাই সে আমার পায়ে হাল্কা মালিশ করে দিচ্ছিল যাতে ব্যথাটা কমে যায়। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ওর হাতটা খিঁচে ধরে বসে থাকি।। এমন সময় কানে সেই চিরচেনা কণ্ঠটি আসতেই ঝটপট চোখ খুলে সামনে তাকাই। তাকিয়ে দেখি রিয়ান আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর রাগী কন্ঠে বলছে।

.

রিয়ানঃ এইখানে কি হচ্ছে?? এইভাবে এইখানে বসে আছো কেন?

.

আবিরঃ অহহহ ড. রিয়ান আপনি এইখানে!!! দাঁতে দাঁত চেপে।

.

রিয়ানঃ দ্যাট ইজ নান অফ ইউর বিজন্যাস! রিয়ানা কি হয়েছে তোমার?? এইখানে এইভাবে বসে আছো কেন?? চোয়াল শক্ত করে।

.

রিয়ানাঃ পড়ে গিয়ে পা মচকে গিয়েছে তাই হাটতে না পেরে এইখানে বসে আছি। আবির এইখান দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল আমায় দেখে আমার হেল্প করতে আসে। মাথা নিচু করে।

.

রিয়ানঃ এইভাবে বুঝি হেল্প হয়?? ক্যাম্পে না এসে এইখানে বসে থেকে??

.

রিয়ানাঃ আমি তো হাটতেই পারছি না ক্যাম্প পর্যন্ত যাব কিভাবে?? উঠে দাড়াতেও পারছি না।

.

রিয়ানঃ তাই নাকি??

.

আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই আবির বলে উঠে।

.

আবিরঃ ইটস ওকে রিয়ু!! তুমি এত চিন্তা করো না আমি তোমায় ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছি।

এই বলে আবির উঠে দাড়াতে নেয় কিন্তু এরই মধ্যেই কিছু বুঝে উঠার আগেই হুট করেই রিয়ান আমায় কোলে তুলে নিয়ে হাটা শুরু করে। তাল সামলাতে না পেরে তার গলা জরিয়ে ধরি। সে একবার আমার দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে সামনে তাকায়। কিছু দূর গিয়ে একটু থেমে ঘাড় ঘুরিয়ে আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে।

.

রিয়ানঃ আমার স্টুডেন্টদের নিয়ে তোর এত মাথা না ঘামালেও চলবে!! বিশেষ করে রিয়ানার বেপারে তহ একদমই না। ওর জন্য আমি আছি!! এই বলে আবার হাটা শুরু করে।

আর আবির রাগে ফুসতে থাকে। মাটিতে জোরে একটা বারি দিয়ে রাগ সংযত করার চেষ্টা করে।

.

আমি তহ অবাক চোখে রিয়ানকেই দেখে চলেছি। কি বললো সে মাত্র!! আমার জন্য সে আছে!! আমাকে এমন তাকিয়ে থাকতে দেখে রিয়ান বলে উঠে।

.

— আমাকে দেখার আরও অনেক সুযোগ পাবে, আজই দেখে শেষ করার দরকার নেই। আড় চোখে একবার আমার দিকে তাকিয়ে।

.

আমি লজ্জায় চোখ ঘুরিয়ে নেই। ইশশ!! কি লজ্জা!! নিশ্চয়ই রিয়ান এখন আমায় বেহাইয়া টাইপ মেয়ে ভাবছে।। উফফফ!! কেন যে তাকাতে গেলাম!! তখনই রিয়ান বলে উঠে।

.

— তাকিয়ে কোন গুনাহ করো নি যে নিজেকে এত কিছু বলতে হবে। আর তার উপর আমার মত এত হ্যান্ডসাম ছেলে সামনে থাকলে চোখ আপনা আপনি আমার দিকে চলে আসবে এইটা স্বাভাবিক।

.

— এহহ!! আসছে একবারে হ্যান্ডস্যাম!! আমার বয়ে গিয়েছে আপনাকে দেখার জন্য হুহ!! আস্ত একটা খারুস! ভেংচি কেটে।

.

— শেষে কি বললে আমায়??? চোখ গরম করে।

.

— আব বলতাসিলাম যে, আস্ত একটা খরগোশ দেখেছেন কখনো?? অনেক কিউট না!!

.

— হুহ!!

.

.

ক্যাম্পে নিয়ে আসতেই সকল মেয়েরা আমাদের দিকে হ্যাঁ করে তাকিয়ে আছে।। অনেক মেয়েরা তহ রেগে মেগে শেষ। আমার নিজেরই কেমন জানি লাগছিল। রিয়ান আমায় চেয়ারে বসিয়ে পাটা দেখতে থাকে। পাশেই ছেলে মেয়েরা বলাবলি করতে থাকে তা দেখে ড. রিয়ান কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে আর সকলকে উদ্দেশ্য করে বলে,

— এইখানে কি কোন মুভির শুটিং হচ্ছে যে এইভাবে সবাই তাকিয়ে আছো?? নিজের কাজ ফেলে এইখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি দেখছো??Go back to your work!!! Right nowwwww!!!!

.

সকলেই তার চেঁচানোতে কেঁপে উঠে আর যে যার কাজে চলে যায়। মূহুর্তের মধ্যেই জায়গায়টা পুরো খালি হয়ে যায়। রিয়ান কিছুটা শান্ত হয়ে আমার পা আবার দেখতে থাকে। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে,

.

— ইউ আর জাস্ট ইম্পসিবল!! খালি বাচ্চাদের মত এইদিন সেইদিক চলে যাও আর ব্যথা পেয়ে আসো। তাও আবার সেই মাপের ব্যথা পাও।। আচ্ছা বলি কি তুমি এমন বাচ্চা মানুষ হয়ে মেডিক্যালে কিভাবে চান্স পেলে?? চিটিং করে!!

.

কথাটা শুনে রাগে শরীর কাপতে থাকে।। আমাকে বলে নাকি আমি চিটিং করে চান্স পেয়েছিইইই!!! আমি তেরে গিয়ে বলি।

.

— একদম বাজে বকবেন না। আপনি আমায় চিনেন!! আমি মোটেও… “আহহহ” বলে রিয়ানের কাধটা চেপে ধরি।

আমার কথার মাঝেই রিয়ান আমার পা টা একটু ঘুরিয়ে মোচর দেয়। আমি অগ্নি দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। রিয়ান একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।

.

— তোমার পা ঠিক হয়ে গিয়েছ কিন্তু পুরোপুরি না। একদিন বেডরেস্টে থাকতে হবে।

.

— হু। বলে মুখ ঘুরিয়ে নেই।

.

— রিয়ুপাখি!! অনেকটা মিষ্টি কন্ঠে।

.

আমি সাথে সাথে তার দিকে ফিরে তাকাই। অবাক চোখে তাকে দেখতে থাকি। তিনি কখনো আমাকে রিয়ানা বাদে অন্য কোন নামে ডাকে নি। তাহলে আজ কি হলো!! সে তার দুটো আমার হাতের উপর রেখে বলে।

.

— রিয়ু আজ তোমার থেকে কিছু চাইবো!! দিবে কি? করুন কন্ঠে।

.

আমি কি বলবো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে রিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছি। আজ আমি তার কন্ঠে এক আলাদাই টান অনুভব করছি। তার সাথে কোন এক মিশ্রিত অনুভূতি আমায় বার বার ছুঁয়ে দিচ্ছে। অতঃপর মাথা দুলিয়ে “হ্যাঁ” সূচক উত্তর দিলাম।

.

— তুমি আর আবিরের সাথে মতো মিশবে না। ওর সাথে কোন ধরনের কথা বলবে না। ওর সাথে কোন বন্ধুত্ব রাখবে না তুমি।

.

আমি অবাক হয়ে বলি,

— এইসব কি বলছেন আপনি!! পাগল হলেন নাকি?? আবিরের সাথে কেন কথা বলা অফফ করবো কি করেছে ও??

.

— হুসসস। কোন কথা না!! আমি যা বলেছি ঠিক তাই করবে তা না হলে এর ফল অনেক খারাপ হবে। আমি চাই না এমন কিছু হোক তাই আগেই তোমায় সাবধান করছি।

.

— আপনি আমার কে হন যে আমি আপনার কথা গুলো শুনবো?? কেন আমার লাইফে এত ইন্টারফেয়ার করছেন?? কেন?? কিসের অধিকারে এইসব বলছেন আমায় আপনি।

.

অধিকারের কথা শুনে সে কিছুটা রেগে যায় তাই সে কিছুটা চেঁচিয়ে বলে,

— তোমাকে আমার কথা শুনতেই হবে!! আর তোমার লাইফে আমি ইন্টাফেয়ার করবোই তা তোমার ভালো লাগুক আর নাই লাগুক। Because I lo….

.

— Because you.. ভ্রু কুচকিয়ে।

.

— nothing!! শুধু এতটুকু যেনে রাখো তুমি যদি আবিরের সাথে আর কথা বলো তাহলে তোমার জন্য অনেক খারাপ হবে!!

.

আমি তার দিকে সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। তারপর বলি।

.

— কেমন হবে??

.

বলার সাথে সাথে রিয়ান আমার গালে টুপ করে কিস করে বসলো। আমি চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। সে মুচকি হেসে বলে।

.

— এইটা শুধু ট্রাইলার ম্যাম!! তা বাকিটা আপনি বুঝে নিনেন। লো ভয়েসে।

.

আমি পিটিপিটি করে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর কিছু না বলে উঠে দাড়াই আর ধীর পায়ে নিজের তাবুর দিকে অগ্রসর হই। আর রিয়ান আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।

.

.

??

.

.

রাতে সবাই বনফাইরের সামনে বসে আছি। আজকে সবাই আড্ডা দিবে বলে ঠিক করেছে। তাই সকলেই গোল হয়ে বসে আছি। আজ সকলেই গানের আসর জমিয়েছি। এর মধ্যে রিয়ানও আজ উপস্থিত। রিয়ান আমার পাশেই বসে আছে। আমি বার বার আড়চোখে তাকে দেখছি। সকালের কথা ভাবতেই গায়ে এক শিহরণ তৈরি হচ্ছে। সকাল থেকে বার বার এই একটা কথায় মাথায় ঘুরছে!!

” সকালে রিয়ান এইটা কি করলো?? কেমনে করলো??”

বার বার খালি এই কথাটাই মাথায় ঘুরছিল। নিজেকে যতটা পারছি তার সামনে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করে চলেছি। কিছুতেই তাকে বুঝাতে চাচ্ছি না যে সকালের বিষয়টা আমার উপর ইফেক্ট করেছে। তাই বেশ স্বাভাবিকভাবেই বসে আছি।

আমাদের ব্যাচেরই একজন গিটার বাজাচ্ছে আর অনেকই গান গাইছে। ঠিক তখনই আবির এসে হাজির। সবাই তহ ওকে দেখে হৈ-হুল্লোড় করা শুরু করে দেয়। অতঃপর আবিরও আমাদের আড্ডায় অংশগ্রহণ করে। আমার বিপরীত পাশেই আবির বসে।

আমি একবার আবিরের তাকাচ্ছি আরেকবার রিয়ানের দিকে। আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে থাকি।

সকলেই গান গাইছে একেক করে।। আবিরও গান গিয়েছে। রিয়ানকে বলার কেউ সাহস পায় নি তাও একবার বলা হয়েছিল সে গান গায় নি।তাই কেউ আর জোরও করে নি। সবার গান শেষ হলে সকলেই আমায় গান গাইতে বলে। আমি না না করলেও শেষে গান গাই।

.

.

“? তোমার নামের রোদ্দুরে

আমি ডুবেছি সমুদ্দুরে

জানি না যাব কতদূরে এখনও (২×)

আমার পোড়া কপালে

আর আমার সন্ধ্যে সকালে

তুমি কেন এলে জানি না এখনও

ফন্দি আঁটে মন পালাবার

বন্দি আছে কাছে সে তোমার

যদি সত্যি জানতে চাও

তোমাকে চাই, তোমাকে চাই

যদি মিথ্যে মানতে চাও

তোমাকেই চাই(২×) ?”

.

.

গান শেষে সকলেই করতালিতে মেতে উঠে। আমি আড়চোখে রিয়ানের দিকে তাকাই। রিয়ান এতক্ষণ আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। চোখে চোখ পড়তেই চোখ সরিয়ে নেই আমরা দুইজন। এইদিকে এইসব দেখে আবির রাগে ফুসছে। আবির মাঝেই উঠে বলে তার দরকারী কাজ আছে তাই সে চলে যায়।

আমি কিছুক্ষণ আবিরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকি৷ অতঃপর এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে ভিতর থেকে।

.

.

??

.

.

রুমের সব কিছু এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে আছে। রুমের বেশির ভাগ জিনিসই ভাঙা। আবির সোফায় বসে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে বসে আছে। চোখ একদম লাল হয়ে আছে। হাতের পাশে থাকা ফ্লাওয়ার ভাসটা দূরে ছুঁড়ে মারে আর চিল্লিয়ে বলতে থাকে।

.

— নো রিয়ান নো!! আমি কোন মতেই আমার রিয়ানাকে তোর হতে দিব না!! কখনো না!! এই প্রথম কাউকে এতটা ভালবাসেছি!! এত সহজে নিজের ভালবাসাকে হারতে দিব না। ছোট থেকেই আমি যা চেয়েছি তা তুই কেড়ে নিয়েছিস। কিন্তু এইবার আর তা হতে দিব না। রিয়ানাকে পেতে যদি আমায় তোর খুনও করতে হয় তাহলে আমি পিছ পা হবো না। রাগে ফুসতে ফুসতে।

.

?

.

আড্ডা শেষে সকলেই যে যার রুমে চলে যাই। আমার ভালো লাগছিল না বলে আমি সেই টিলার দিকে চলে যাই। আকাশে আজ সাদা সাদা মেঘের ভেলা। তার মধ্যেই চলছে অজস্র তারার লুকোচুরির খেলা। বাইরে বেশ বাতাস বইছে। শীতল এক পরিবেশ। আমি ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছি ঠিক এমন সময়…

অধ্যায় 16 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!