রিয়ান এইবার মাইক নিয়ে সবার এটেনশন নিজের দিকে করে। সকলের এই আগ্রহ এইবার রিয়ানের দিকে গিয়ে স্থির হয়। সবাই কৌতূহলি দৃষ্টিতে রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে। এমনি কি আমিও।
রিয়ান একবার আমার দিকে তাকিয়ে মাইক ঠিক করে বলা শুরু করলো।
.
— আজ আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। সাথে অনেক বিশেষ ও বটে। কেন জানেন! আজ আমি আমার ভালবাসার মানুষকে পেতে চলেছি বলে। তাকে এতটা করে চেয়েছি যে তা মুখে প্রকাশ্য নয়। তাই হয়তো আজ সে আমার পাশে। আমার সাথে।
কিন্তু একটা কথা জানেন কি তাকে না কখনো ঠিক মতো প্রাপোস করা হয় নি। বলতে গেলে প্রাপোস এই করা হয় নি। পাগলা প্রেমিকের মতো তাকে কখনো সকলের সামনে স্পেশিয়াল ফিল করানো হয় নি। বলা হয় নি নিজের অনুভূতির কথা গুলো।
তাই আজ আমি সকলের সামনেই নিজের অনুভূতি গুলো প্রকাশ করতে চলেছি। আর ইউ গাইস রেডি!!
.
সবাই এইবার চেঁচিয়ে উঠে। আর আমি বিষ্ময়কর দুই নয়নে শুধু রিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছি। পায়ের নিচ থেকে যেন জমিন খসে পড়ছে।
রিয়ান যে সকলের সামনে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে চাচ্ছে তা আমার জন্য একদমই অবিশ্বাস্য কর। কেন না, রিয়ান কখনো কাউরো সামনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে না। যতই যাই হোক।
কিন্তু তাও কেন যেন মনের এক কোনে খুশির ফুলঝুরি ফুটে উঠছে।
.
.
তখনই রিয়ান আমার সামনে এসে আমার হাত আলতো করে ধরে আর তুলে দাড় করিয়ে দেয়। তারপর হাটু গেড়ে বসে আমার হাত ধরেই বলে।
.
— ❤তোমাকে নিয়ে আমার যত ভাবনা, কল্পনা।
অজস্র স্বপ্নের ভিড়ে দেখি শুধু তোমায়,
সমস্ত কল্পনা জুড়ে যে শুধুই তোমারই বসবাস। তুমি হাসলে বুঝি মনে হয়,
পুরিপূর্ণ হয়ে যায় এই অন্তরটা। ❤
❤জানি না ভালোবাসার আলাদা আলাদা নিয়ম আছে কিনা, তবে আমি কোন নিয়মে তোমাকে ভালবাসেছি তাও জানিনা।
শুধু এইতুকু জানি আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি ।❤
.
এতটুকু বলে রিয়ান থামে। তারপর নিজের পকেট থেকে একটা রিং বের করে আমার সামনে ধরে বলে।
.
— ❤অনুমতি দিবে কি! এই হাত ধরে সারাটা জীবন পারি দেওয়ার?
ভালবাসবে কি তুমিও আমার মতই? হবে কি আমার জীবনের আসক্তিময় ভালবাসা!❤
Will you be mine forever and ever?
.
এইবার আমার চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা অশ্রু বেয়ে পড়ে। কখনো ভাবি নি যে কেউ এতটা করে চাইবে আমায়। এতটা ভালবাসা দিয়ে হাত চাইবে আমার। সব কিছুই যেন আমার কাছে এক অমূল্যহীন স্বপ্নের মত।
চারদিকে শুধু একটাই ধ্বনি কম্পিত হচ্ছে আর তা হলো, ” Say yes! Say yes!”
.
আমি এইবার নিজেও হাটু গেড়ে রিয়ান মুখোমুখি হয়ে বসি। তার বলি,
.
— Yes, I will be your’s forever and ever.
.
আমি ইয়েস বলার সাথে সাথে রিয়ানের ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠে। সে আমার অনামিকা আঙুলে সেই রিংটি পড়িয়ে দেয়। আর সাথে সাথেই সকলেই করতালিতে মেতে উঠে। ফফটোগ্রাফাররা এই বিশেষ মূহুর্তকে হাত ছাড়া না করে শ খানেক ছবি তুলে ফেলে।
তখন আরিশা এসে আমার হাতে রিং দিয়ে যায়। আমি সেটা হাতে নিয়ে বলি,
.
— Now you say! Will you be mine forever and ever?
.
রিয়ান এইবার একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে বলে।
.
— I am already your’s.
.
আমি এইবার মুচকি হেসে রিয়ানের অনামিকা আঙুলে রিংটি পড়িয়ে দেয়।
আবার চারদিকে দ্বিতীয়বারের মত করতালিতে মেতে উঠে। আর ফটোগ্রাফাররাও ব্যস্ত হতে উঠে ছবি তুলতে।
.
.
এইবার আমরা দুইজনই এই দাড়িয়ে যাই। আরিশা এসে আমায় সাইডে নিয়ে যায় আর আমার কান্না মুছে দিয়ে মেকাপ ঠিক করে দেয়। ওয়াটারপ্রুফ মেকাপ হওয়ায় মেকাপ তেমন নষ্ট হয় নি।
তারপর আমি আবার স্টেজে রিয়ানের সাথে গিয়ে যোগ দেই। ফটোগ্রাফাররা এইবার আমাদের বিভিন্ন ভাবে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
.
.
সব শেষে রিংকি স্টেজে উঠে মাইক নিয়ে বলে।
.
— এটেনশন প্লিজ!! আজ আমি ড. রিয়ানের কাজ থেকে ছোট একটা আবদার করতে চাই। আশা করি তিনি আজ এমন বিশেষ দিনে আমায় মানা করবেন না।
.
— কি আবদার আগে তা তো শুনি। ( রিয়ান)
.
— আপনি প্লিজ আজ আমাদের সকলের সামনে গান গাইবেন। আপনার গানের গলা শুনার আমার বড্ড ইচ্ছে। প্লিজ মানা করবেন না। আজ এমন বিশেষ দিনে আমি আপনার দ্বিতীয় মাত্র কিউট ইনোসেন্ট মাসুম শালিকা আপনার কাছে রিকুয়েষ্ট করছি। প্লিজ আমার রিকুয়েষ্ট ফেলবেন না।
.
তখন সকলেই তাল মিলিয়ে বলতে থাকে তারাও রিয়ানের গান শুনতে চায়। তাই রিয়ান বাধ্য হয়ে স্টেজে উঠে আসে। তা দেখে রিংকির খুশি আর দেখে কে? সে চটজলদি একটা গিটার এনে রিয়ানের হাতে ধরিয়ে দেয় আর চেয়ারের ব্যবস্থা করে।
রিয়ান এইবার মাইক ঠিক করে চেয়ারে বসে। তারপর গিটার ঠিক মত ধরে বলে।
.
— This song is only for my love.
.
এই বলে গানে সুর ধরে।
.
.
❤❤
Dil Yeh Tere Bina
Maanta Hi Nahi
Kuch Bhi Tere Siwa
Maangta Hi Nahi
Tu Zaroori Sa Hai
Ab Toh Har Haal Mein
Iske Aage Koi
Raasta Hi Nahi
Aaa Tujhme Fanaah
Kar Doon Meri Zindagi
Iss Ishq Mein Marjawan
Kuch Bhi Kasam Se Karjawan
Hadh Se Bhi Guzarjawan
Kuch Bhi Kasam Se Karjawan
Oh, Ooo Oh…
❤❤
[ Most favourite song ]
.
.
গান শেষে সকলেই আবার করতালিতে মেতে উঠে। তখনই রিয়ানের নজর গেটের দিকে যায়। আর সে গিটার রেখেই বলে উঠে,
.
— বড় ফুপু!!
.
আমরা এইবার সবাই গেটের দিকে তাকাই। দেখি একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা। মধ্য বয়স্ক বললে ভুল হবে। খানিকটা ইয়াংই দেখছে।
রিয়ান দৌড়ে তার কাছে যায়। তাকে জড়িয়ে ধরে বলে।
.
— ইউ আর টু লেট!! এত লেট করলে কেন? সেই কখন থেকে ওয়েট করছি। (রিয়ান)
.
— কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য ফ্লাইট লেট করে টেক অফ করে। বাট তাও লেট এর জন্য সরি। (বড় ফুপু)
.
— ইট ইজ ওকে.
.
— বাই দ্যা ওয়ে হোয়ার ইজ দ্যা ব্রাইড?
.
— ওয়েট। রিয়ুপাখি কাম হিয়ার!!
.
রিয়ানের ডাক শুনে আমি সেই দিকে যাই। তারপর তার সামনে গিয়ে তাকে সালাম দেই। সে সালামের উত্তর নিয়ে বলে।
.
— মাশাল্লাহ রিয়ান। তোর বউ তো একদম চাঁদের টুকরা রে। ( বড় ফুপু)
.
— আই নো! বাই দ্যা ওয়ে ওই বাদরটা কথায়? আসে নি নাকি? (রিয়ান)
.
তখনই পিছন থেকে কেউ বলে উঠে।
— আ’ম হিয়ার ব্রো!!
.
রিয়ান আর বড় ফুপু এইবার পিছে তাকায়। আওয়াজটা বেশ পরিচিত লাগায় আমিও পিছে তাকাই। তারপর যাকে দেখি তাতে আমার হাত পা সমানে কাঁপতে শুরু করে। চোখ মুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যে কালো অতীতকে আমি বার বার পিছে ফেলে আসতে চাচ্ছি সে বার বার আমার সামনে এসে হাজির হচ্ছে। ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হতে এসেছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জায়গা দখল করে নিয়েছে। আমি এইবার অস্পষ্ট সুরে বলে উঠি।
.
— আআরিয়ান…