সিজন 1 অধ্যায় 37 ড্রামা সাসপেন্স #বিয়ের অনুষ্ঠান #আক্রমণ রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান আরিশা রিংকি

হলুদ সন্ধ্যার নৃত্যঝংকার

11 মিনিট পড়া 1,710 শব্দ
হলুদ সন্ধ্যার নৃত্যঝংকার

আজকে আমার আর রিয়ানের হলুদ সন্ধ্যা। চারদিকে কোলাহলপূর্ণ খুশির আমেজ। সকলের মুখেই মিষ্টি হাসি সাথে এক রাশ ব্যস্ততা। সকাল থেকেই বাসায় তোরঝোর লেগে পড়েছে।

রিংকি আর আরিশা বার নিচেদের ডান্স স্টেপ মনে করছে আর সাথে আমাকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। আর সাথে আমাদের খুনসুটি তো আছেই।

রিংকির আম্মু আর আরিশার আম্মু আমায় তো মাথায় তুলে রাখছে। কোন কাজই করতে দিচ্ছে না। এমনকি তারা নিজের হাতেই আমাকে খায়িয়ে দিচ্ছে। আমার সব কাজ তারা বেশ আলতো হাতেই করছে। রিংকি ও আরিশার বাবা দুইজনই একটু পর পর এসে দেখে যাচ্ছে আমি ঠিক আছি কিনা। আমার কিছু লাগবে কিনা। আমাকে এমন অনুভূতি করাচ্ছে যে আমি যেন তাদেরই মেয়ে। তাদের এত ভালবাসা পেয়ে যখন চোখটা অশ্রুতে ভরে আসে তখনই ওই দুই বান্দরনি সামনে এসে তা নিমিষে অদৃশ্য করে দেয় আর মুখের কোনে হাসি ফুটিয়ে তুলে। যদি কেউ আমাকে কখনো জিজ্ঞেস করতো যে আমার কাছে আসল বন্ধুর মানে কি? তখন আমি চোখ বন্ধ করে আরিশা আর রিংকির নাম নিয়ে নিতাম। সত্যিই তাদের মত বন্ধু বেশ দুর্লভ।

.

.

সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিমের দিকে। পাখিরা ছুটে চলেছে তাদের নীড়ের দিকে। সূর্য মামা ঘুমের দেশে তলিয়ে যেতেই জাগ্রত হয়ে উঠেছে অন্ধকার। এই অন্ধকারেই জ্বলে উঠেছে বাড়ির গায়ে লাগানো মরিচ বাতি গুলো। ঝলমল করে উঠেছে চারদিক।

কিছুক্ষণ আগেই মেকাপ আর্টিস্টরা সাজিয়ে চলে গিয়েছে। আমি রুমে বসে নিজের অর্নামেন্টসগুলো ঠিক করছি। তখনই নজর যায় আমার আয়নার দিকে। নিজেকে দেখে বিশ্বাসই হচ্ছে না এইটা আমি।

.

* পড়নে আমার লেমন কালার একটি লেহেঙ্গা। তার মধ্যে গোল্ডেন কালার জরি সুতা দিয়ে কারুকাজ করা। মুখে হেভি মেকাপ। ঠোঁটে হাল্কা মিষ্টি কালারের একটি লিপস্টিক। গোলায়, কানে ও মাথায় কাঁচা ফুলের অর্নামেন্টস। কাঁচা ফুলের গন্ধের চারদিক মো মো করছে। দুই হাতে আমার লেমন কালারের রেশমি চুড়ি। তার মাঝেই দুটো রাখি দোল খাচ্ছে। মেহেদিতে রাঙা দুইটি হাত। হাতের ও পায়ের উপরে সুন্দর করে আলতা লাগানো। নাকে একটা সরু নথ ঝুলানো। মাথায় ওরনা দেওয়া আর চুল গুলো এক পাশে খোঁপা করা ও সামনে দিয়ে কার্ল করা।

.

নিজেকে এমন রুপে দেখে বেশ লজ্জাই লাগছে। কেন জানি না। রিয়ানের কথা ভাবতেই যেন এই লজ্জাটা শত গুন বেড়ে যাচ্ছে। আমি চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি আর নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছি।

তখনই রিংকি আর আরিশা এসে হাজির হয় রুমে। আমি চোখ খুলে তাদের দিকে তাকাই। দুইজনই আজ কমলা কালারের লেহেঙ্গা পড়েছে।

.

* আরিশার মুখে হেভি মেকাপ। সাথে হাল্কা অর্নামেন্টস। চুল গুলো সামনে দিয়ে পাফ করে সাইড দিয়ে খোঁপা করেছে সে। কপালে ছোট একটা টিকলি।

.

* রিংকির মুখেও হেভি মেকাপ। সাথে হাল্কা অর্নামেন্টস। চুলগুলো সামনে দিয়ে পাফ করে পিছন দিয়ে স্ট্রেট করে ছেড়ে দিয়েছে। কপালে ছোট একটা টিকলি।

.

.

দুইজন আমার সামনে এসে বলে,

.

— তোকে আজ যা লাগছে না ইয়ার। একদম ফুলের রাজ্যের রাজকন্যা। (আরিশা)

.

— কিসি কি নাজার না লাগে। থু থু। হাত দিয়ে রিয়ানার মাথার পাশ দিয়ে ঘুরিয়ে আরিশার দিকে তাকিয়ে। (রিংকি)

.

আরিশা এইবার ছিটকে দাড়িয়ে রিংকির দিকে এইবার ওর দিকে তেড়ে এসে বলে।

.

— তোকে তো আমি!! (আরিশা)

.

— আরেহ বাবা ব্যাস! আজকের দিনে তো ঝগড়া বাদ দে।

.

— হুহ! (আরিশা)

.

— আজকে দেখিস ভাইয়া তোর উপর ফিদা হয়ে যাবে।(রিংকি)

.

( এই কয়েকদিনে আরিশা আর রিংকি রিয়ানকে ভাইয়া বলতে শুরু করেছে।)

.

— এখন তারাতারি চল, কার এসে পড়েছে। (আরিশা)

.

.

?

.

চারদিকে আলো ঝলমল করেই চলেছে। সোনালি রঙের মরিচ বাতি দিয়ে সাজানো। ঠিক মাঝখানে একটি স্টেজ বানানো। পিছনেই বিভিন্ন রঙের নেট কাপড় সাজানো। স্টেজের সামনে নাচের জন্য অনেক খানি খালি জায়গায় রাখা হয়েছে। সাইডে বড় বড় স্পিকারের বক্স।এর পরই সারি সারি চেয়ার। এক সাইডে হাল্কা নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সকল মেহমান এসে পড়েছে। থিম কালার কমলা বলে সকলেই সেই কালারটি এই পড়েছে।

ছেলেরা পড়েছে কমলা রঙের পাঞ্জাবি আর সাদা চুড়িদার। মেয়েরা কমলা রঙের লেহেঙ্গা, কামিজ পড়েছে।

রিয়ান সব কিছু ভালো ভাবে চেক করেই চলেছে। তখনই তার নজর যায় গেটের দিকে। সেই দিকে তাকিয়েই তার দৃষ্টি স্থির হয়ে যায়। রিয়ানা ধীর পায়ে হলরুমে প্রবেশ করছে। চোখে মুখে খুশির ঝলক। রিয়ান মুচকি হেসে রিয়ানার দিকে এগিয়ে যায়।

.

আমি মাথা তুলে সামনে তাকাতেই রিয়ানকে দেখতে পাই। সে আজ আমার সাথে মিলিয়ে লেমন কালারের একটা পাঞ্জাবি পড়েছে তার উপর গোল্ডেন কালারের একটি কুর্তি। ( আমি সিউর জানি না একে কি বলে। তাই ভুল হলে তা ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।)

সাথে সাদা চুড়িদার। চুল গুলো ব্রাশ করেছে।

আমি রিয়ানের দিকে মুচকি হেসে এগিয়ে যাই। রিয়ান আমাকে নিয়ে স্টেজের দিকে যায়। তারপর আমার একটু কাছে এসে ধীর কণ্ঠে বলে,

.

— আজ তোমার থেকে চোখ সরানোটা দায় সমান হয়ে উঠেছে আমার জন্য রিয়ুপাখি। যতই দেখছি মন আর ভরছে না। এত মোহনীয় কেন তুমি? কেন বার বার আমি তোমাতে আসক্ত হয়ে পড়ি?

.

— ভালবাসেন বলে তাই। মুচকি হেসে।

.

অতঃপর দুইজনেই স্টেজে গিয়ে বসি। সকলেই এইবার এসে কৌশল বিনিময় করতে থাকে।একটু পর ফোটোগ্রাফার এসে আমাদের সাইডে নিয়ে যায় ছবি তুলার জন্য।

.

.

?

.

— ওই ব্রিটিশ বান্দর! (রিংকি)

.

— জ্বি বলেন মিস বকবক। (ইশান)

.

— সব স্টেপ মনে আছে তো? স্টেপে যাতে কোন ভুল না হয়। ভুল হলে কিন্তু তোমার খবর আছে। ভেংচি কেটে।

.

— অহহ হ্যালো! ইশান যে কাজ করে তা একদম পার্ফেক্টলি করে। ভাব নিয়ে।

.

— রিংকিও যা করে তা একদম পার্ফেক্টলি করে। হুহ!

.

— যানা আছে কত পার্ফেক্টলি করো! আড়চোখে তাকিয়ে।

.

— কি বললা!! একটু চেঁচিয়ে।

.

— নাথিং! বাই দ্যা ওয়ে তোমার থেকে আমি কিন্তু কিছু পাই।

.

— কি পাও? সন্দেহ দৃষ্টিতে ইশানের দিকে তাকিয়ে।

.

— আমার ইয়ারফোন! কালকে কিন্তু তুমি ভুলে ওইটা নিয়ে গিয়েছিলে।

.

— উপস সরি! একদম ভুলে গিয়েছিলাম। আচ্ছা পরের বার নিয়ে আসবো নে।

.

— হু!

.

[ এই কয়েকদিনে দুইজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায় যার জন্য এখন তারা “তুমি” করে কথা বলে। ]

.

.

?

.

— সিয়াম হাতটা ছাড়ুন না প্লিজ! সবাই আছে এইখানে কেউ দেখে ফেলবে! অসহায় ভাবে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে। (আরিশা)

.

— উহু! আগে আমি আমার চাওয়া জিনিসটা চাই। ওইটা না পাওয়া পর্যন্ত নো ছাড়াছাড়ি। (সিয়াম)

.

— আপনি কি জানেন? আপনি কতটা অসভ্য?

.

— শুধুই তোমার জন্য প্রিয়। চোখ টিপ দিয়ে।

.

— হুহ! অসহ্য।

.

— আই নো। এখন আমার জিনিসটা দাও। তা না হলে আমার থেকে ছাড়া পাবে না।

.

আরিশা এইবার না পেরে সিয়ামের গালে কিস করে। সিয়াম এইবার ওর হাত ছেড়ে দেয় আরিশা ছাড়া পেতে দৌড়ে চলে যায়। সিয়াম সেই দিকে তাকিয়ে হেসে দেয়।

.

.

?

.

— এটেনশন এভরি ওয়ান! সকলের অনেক বরিং লাগছে তাই না? কিন্তু এই বরিংনেসটা আর থাকবে না।

হলুদে এসেছেন আর নাচ গান হবে না এমন কিভাবে হয়? এখনই শুরু হতে চলেছে আমাদের নাচ ও গানের পর্ব। প্রথমেই হবে গ্রুপ ডান্স। So let’s get started!! (ইশান)

.

সকলেই এইবার করতালিতে মেতে উঠে। এইবার একে একে সকলেই এসে পড়ে। আর নিজের জায়গা নিয়ে নেয়। নিলা+ হিমেল , রিনা + সিয়াম, মাইশা + জ্যাক, শুভ+ দোলন, আরিশা+ ড. সিয়াম, রিংকি+ ইশান। এদের সকলের সামনে গিয়ে দাড়ায় রিয়ান আর রিয়ানা। এইবার স্পিকারে এইবার গান বাজতে শুরু করে।

.

.

?

Ho avi gayi Raat…

Ane bhulo badhi Baat….

Prem niya mausom che…

Aabh aao mere pass..

Reh jao mere saath….

Prem niya mausom che…(২×)

.

রিয়ান রিয়নাকে পেছন দিয়ে ঘুরে এসে ওকে জড়িয়ে ধরে, সাথে সাথে বাকিরাও।

.

.

Mil jaye mujhko aagar saath tera

To bhulu main sara jahaan….

Chogada tara… Chabila tara…

Rangila tara Rang bher juwe tari vaat re…

Ho Chogada tara… Chabila tara…

Rangila tara Rang bher juwe tari vaat re…

.

রিয়ানা রিয়ানের দু কাধে হাত রেখে স্টেপ করলো। তখনই গান চেঞ্জ হয়ে যায়। আর ওরা এইবার জায়গা চেঞ্জ করে।

.

.

Munda thoda.. offbeat hai

Par kudiya de naal.. bohat sweet hai (x2)

.

রিয়ানা রিয়ানের গাল টেনে উল্টো ঘুরে স্টেপ করে। বাকিরাও একই ভাবে করে।

.

Dhongi sa ye bada dheeth hai

Viral hogya ye Tweet

Par phool wool karne mein cool

Tu badi tezz katari hai

Shagan teri ki, lagan teri ki

Humne kardi taiyari hai

Nachde ne saare ral-mil ke

Aaj hil-dul ke

Le saare ke saare nazare (x2)

.

রিয়ান এইবার রিয়ানাকে ঘুরিয়ে স্টেপ করতে থাকে। তখন আবার গান চেঞ্জ হয়ে যায় আর বাকিরা সাইডে সরে চলে যায়। আর রিয়ানা ও রিয়ান একা রয়ে যায়। রিয়ান এইবার রিয়ানার কোমরে হাত রাখে আর রিয়ানা রিয়ানের কাধে হাত রাখে।

.

.

Kehte Hain Khuda Ne Iss Jahan Mein Sabhi Ke Liye

Kisi Na Kisi Ko Hai Banaya Har Kisi Ke liye

Tera Milna Hai Uss Rab Ka Ishaara Maanu

Mujhko Banaya Tere Jaise Hi Kisi Ke Liye

Kehte Hain Khuda Ne Iss Jahan Mein Sabhi Ke Liye (২×)

.

রিয়ান রিয়ানাকে ঘুরিয়ে নিজের পিঠের সাথে ঠেকালো আর স্টেপ করলো।

.

Kuch Toh Hai Tujhse Raabta

Kuch Toh Hai Tujhse Raabta

Kaise Hum Jaane Hume Kya pata

.

রিয়ান এইবার রিয়ানার মিডল ফিঙ্গার ধরে ওকে ঘুড়ায় তারপরে ওর কোমর জড়িয়ে উপরের দিকে তুলল।

.

এইবার সকলেই করোতালিতে মেতে উঠে। রিয়ান রিয়ানাকে নামিয়ে দেয় তারপর তারা সাইডে চলে আসে।

এরপর আরিশা, রিংকি আর রিয়ানা ডান্সফ্লোরে আসে। তিনজনই কালো চশমা পড়া থাকে। তারপর গান বাজতে শুরু করে।

.

.

Hoga Handsome Sona Sabse

Mere Dil Ko Gaya Lekar

Meri Neend Churali Usne

Aur Khwaab Gaya Dekar

Hoga Handsome Sona Sabse

Mere Dil Ko Gaya Lekar

Meri Neend Churali Usne

Aur Khwaab Gaya Dekar

.

হাত গুলো একসাথে করে ঘুমের ভানের মত করে এই পাশ আর ওইপাশ করে স্টেপ করে।

.

Ab Yeh Naina Bole Yaar

Bole Yahi Lagataar

Koi Chahein Kitna Roke

Karoongi Pyaar

.

রিয়ানের দিকে কিসের মত ইশারা করে।

.

Mere Saiyaan Superstar

Mere Saiyaan Superstar

Main Fan Huyi Unki

O Mere Saiyaan Superstar ( ২×)

.

গান শেষ হতেই সকলে করতালিতে আবার মেতে উঠে। রিয়ান তো একদম হা হয়ে রিয়ানার দিকে তাকিয়ে থাকে। রিয়ান কখনো রিয়ানাকে এমন লুকে দেখে নি। আর ও যে এত ভালো নাচতেও পারে তাও ওর জানা ছিল না। রিয়ান তো এইবার পুরা ফিদা।।

অন্য দিকে সিয়াম আর ইশানও হা হয়ে আছে। সিয়াম তো আরিশাকে দেখে আর ইশান রিংকিকে দেখে। কেন জানি ইশানের রিংকির দিক থেকে চোখই সরছে না।

.

.

?

.

নাচের পর্ব শেষে সকলেই খাবারের জন্য বসে পড়ে। নাচের সময় আমার ওরনাটা কিছুটা সরে যায়। তাই আমি আরিশাকে বলে ওয়াসরুমের দিকে চলে আসি।

সকলে যেহেতু খাওয়াতে ব্যস্ত তাই ওয়াশরুমটা তখন একদম ফাঁকা ছিল। আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে ওরনা ঠিক করছি। তখন আয়নায় আবছার মত দেখলাম কালো কিছু একটা দ্রুত গতিতে আমার পিছন দিয়ে গেল। আমি পিছে তাকাতেই দেখি কেউ নেই।

আমি মনের ভুল মনে করে আবার ওরনা ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তখন কানে কিছু পড়ার শব্দ কানে আসতেই আমি পিছনে ঘুরি। তখন দেখি কেউ একটা লোহার রড নিয়ে আমার দিকে আঘাত করতে চলেছে। আমি সাথে সাথে এক চিৎকার দিয়ে ভয়ে হাত সামনে নিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলি।

অধ্যায় 37 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!