রকিঃ হেই বেবস। লুকিং সো মাচ হট।
.
কথাটা শুনার সাথে সাথে মেজাজ বিগরে যায় আমার।
রিয়ানাঃ মাইন্ড ইউর লেংগুয়েজ রকি। চোখ গরম করে।
.
রকিঃ হাইইই,, তোমার এই লুকে তহ আমি ফিদা। বা হাত বুকে রেখে ফিদা হওয়ার এক্টিং করে।
.
রিয়ানাঃ জাস্ট স্টোপ ইউর ড্রামা এন্ড গেট লোস্ট ফ্রোম হিয়ার। চেঁচিয়ে।
.
রকিঃ উফহো বেবস। এত ভাব দেখানোর কি আছে হ্যাঁ?? আই নো ইউ লাইক মি!! অবশ্য যদি লাইক নাও করো দ্যান প্রবলেম নেই একদিনের জন্য আমার হলেই হবে। বিশ্রি হাসি দিয়ে।
.
আমি কিছু না বলে টেবিলের উপর থাকা পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে রকির উপর ছুঁড়ে মারি। আরিশা, রিংকি আর কেন্টিনের উপস্থিত সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। আমি আরও দ্বিগুণ চেঁচিয়ে বলি।
.
রিয়ানাঃ তোর সাহস কিভাবে হলো আমাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার। নিজের এত চাহিদা থাকলে ওইসব জায়গায় যা না এখানে কেন এসেছিস। যতসব। ফার্দার মোর তোকে যদি আমার আশে পাশেও দেখি না তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।
.
[[[ এই বলে যেই না যেতে নেই তখন রকি আমার হাত ধরে বসে। আমি এক ঝাটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নেই। কিছু বলতে যাব তার আগেই আরিশা আমার হাত ধরে থামিয়ে দেয়। কোন ফাঁকে রিংকি গিয়ে জানি একজন প্রফেসরকে নিয়ে আসে। প্রফেসরের বুঝতে দেরি নেই এইখানে কোন গন্ডগোল হয়েছে।
তিনি যখন সব ঘটনা জানতে চাইলেন তখন আমি তাকে সব খুলে বললাম। তিনি কিছু না বলে আমাদের পাঠিয়ে দিলেন আর রকিকে একটা ওয়ার্নিং দিয়ে ছেড়ে দিলেন।
রকি হচ্ছে প্লে বয় টাইপের ছেলে। ওর বাবা ঢাকার একজন নাম করা সার্জেনের। ডা. আজিজ তার নাম। এই মেডিক্যালেও তিনি মাসে ১ বার ক্লাস নেন। সেই হিসাবে রকি এইখানে কিছুটা দাদাগিরি দেখায়। আর কেউ কিছু বলতেও পারে না। ]]]]
.
.
সবার যাওয়ার পরে রকি রাগে ফুসছে। নিজের হাত মুষ্টি বদ্ধ করে বলতে থাকে।
.
রকিঃ ইউ হ্যাভ টু পে ফোর দিস।
এই বলে পাশের চেয়ারে জোরে এক লাথি দেয়। আর গটগট করে চলে যায়।
.
.
??
.
.
আরিশাঃ তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস। কার সাথে পাংগা নিলি তুই?? Do you have any idea??
.
রিংকিঃ রিয়ানু বইন আমার। কি করলি তুই এইটা!! ওই তহ এখন তোর লাইফ হেল করে ছাড়ব।
.
রিয়ানাঃ তুই দেখিস নি কত বাজে ভাবে কথা বলছিল ও!! আমি সব সহ্য করলেও নিজের আত্মসম্মান নিয়ে কোন কম্প্রোমাইজ করবো না।
.
রিংকিঃ আই নো ইয়ার বাট হি ইজ পাওয়ারফুল। আর তুই..
.
রিয়ানাঃ দূর্বল আর অনাথ তাই তহ।
.
রিংকিঃ আমি তা মিন করে নি।
.
আরিশাঃ দেখ রিয়ানু ভুল বুঝিস না। রিনকু তা মিন করি নি। দেখ তুই একা থাকোস। আমেনা আন্টিও ২ বছর আগে মারা গেছে। এখন তোর রক্ষা করার মত কেউ নেই। তোকে নিজের রক্ষা নিজের করতে হবে কিন্তু এইসব মানুষদের সাথে তুই একা পারবি না তাই বলছি একটু সাবধানে থাক। এইসব ঝামেলায় না জরা।
.
রিংকিঃ হ্যাঁ ইয়ার। আমার সবসময় তোর ভালো চাই। তাই তোকে এইসব থেকে দূরে থাকতে বলি।
.
রিয়ানাঃ হু।
আমি আর কিছু না বলে উঠে চলে আসি। ভালো লাগছে না আর। আজ নিজের আপন বলতে কেউ নেই বলে প্রতিবাদ করাও দোষের।
ঠিকই বলে সবাই, যার কেউ নেই তার কিছুই নেই। কোন অধিকার নেই তাদের। তাদের জীবন কাটাতে হয় ভয় আর আশংকার মধ্যে। পদে পদে সাবধানে চলতে হয় যেন কোন বিপদ না আসে তাদের। বিপদ আসলে বাঁচাবে কে তাদের??
.
.
?
.
.
বাসায় এসে আমি রুমের দরজা আটকিয়ে দেই তারপর নিজের ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলে নিচে বসে খাটের উপর মাথা রাখি। নয়ন দুটিতে অশ্রুর বন্যা জমে থাকাতে ভার হয়ে এসেছে। বাধ ভেংগে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে। অবশেষে সেই বাধ ভেংগে বেড়িয়ে আসে বন্যা আর ভাসিয়ে দেয় আমার গাল দুটি।
–” আজ নিজের বাবা মা নেই বলে সবাই আমাকেই মাথা নিচু করে চলতে বলছে। অন্যায়কে মেনে নিতে বলছে। কেন!! কেন!!
কেন এত ভয়ে ভয়ে থাকবো আমি কেন!!”
.
আমি কিছুনা বলে চুপচাপ মাথা নিচু বসে থাকি।
.
.
???
.
.
— ” হাও ডেয়ার হি। আমার জানের দিকে নজর দেওয়ার সাহস পায় কিভাবে সে?? বড্ড ভুল করেছিস আমার জানের দিকে কুনজর দিয়ে। তাকে বাজে প্রস্তাব দিয়ে। তাকে কাঁদিয়ে ঠিক করিস নি তুই!!! এর শাস্তি তোকে পেতেই হবে। তাও খুব ভয়ংকর শাস্তি ”
.
এই বলে টেবিল থেকে গ্লাস উঠিয়ে দেয়ালে স্বজোরে আছার মারে। তারপর নিচ থেকে একটি কাঁচের টুকরো উঠিয়ে নিজের হাতের চেপে ধরে, সাথে সাথে রক্ত বেড়িয়ে আসে।
.
— ” খুব জলদিই তোমার এই কষ্টের দাম একজনকে দিতে হবে। ”
.
.
???
.
.
পরেরদিন,
আমি মেডিক্যালের জন্য রেডি হয়ে বেড়িয়ে আসতেই দরজার সামনে একটি বেলি ফুলের ঝুড়ি দেখতে পাই। ঝুড়িটি হাতে নিয়ে ফুলের ঘ্রাণ নিতে থাকি। একদম মন ভালো করার মত জিনিস এইটি। যখন ফুলের ঘ্রাণ নিতে থাকি তখন চোখে পড়ে একটি কোনে থাকা কার্ডটির দিকে।
হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করি।
.
” ?হাসিতে তুমি
কান্নাতে তুমি
আলোতে তুমি
আধারেও তুমি
শত তুমিতেই
আমার তুমি? ”
.
.
পরার সাথে সাথে মুখে এক রাশ হাসি ফুটে উঠে আমার। এইসবই এখন আমার এখন অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। কে পাঠায় তা আমার জানা না হলেও আমার জন্য তার অসীম ভালবাসা ঠিকই বুঝতে পারি। অনেকবার তাকে খুঁজার চেষ্টা করেছি কিন্তু প্রতিবারই এর ফল শূন্য তাই এইবার ফ
হাল ছেড়ে দিয়েছি। থাকুক না কিছু ভালবাসা অপ্রকাশিত।
ফুল গুলো ভিতরে রেখে বেড়িয়ে পড়ি মেডিক্যালের উদ্দেশ্যে।
.
.
মেডিক্যালে এসে দেখি আরিশা আর রিংকি মুখ ফ্যাকাশে করে বসে আছে। আমি তাদের কাছে গিয়ে বসে জানতে চাই কি হয়েছে। তারা আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
.
রিংকিঃ তুই আজকের টিভি নিউস বা পেপার পড়োস নাই??
.
রিয়ানাঃ আমি আবার এইসব কবে থেকে দেখা বা পড়া শুরু করলাম??
.
আরিশাঃ তার মানে তুই কিছুই জানোস না??
.
রিংকিঃ এইটাই যে কাল রাতে রকি মারা গিয়েছে!!
.
রিয়ানাঃ মানে!! কিভাবে??
.
আরিশাঃ রাতে নাইট ক্লাব থেকে ফিরার সময় কে জানি ওর গাড়ি ধাক্কা দেয় আর গাড়িটি খাঁদে পড়ে ব্লাস্ট হয়ে যায় আর ও অন দ্যা স্পোট মারা যায়।
.
রিংকিঃ পুরো বডি জলসে গেছে। চিনাও বহুত মুশকিল। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো ওর ডান হাত টা পুরো উদাও। মানে লাশের মধ্যে ডান হাত ছিল না সাথে চোখ আর জিহ্বা ও।
.
রিয়ানাঃ পাগল হয়ে গিয়েছিস?? কিসব বলছিস। এইসব থাকবে না কেন??
.
আরিশাঃ ওই রিংকির বাচ্চা উদাও কোস কে?? টিভিতে শুনোস নি কি বলেছে। গাড়িটা ব্লাস্ট হওয়ার কারণে ওর শরীরটাও ছিটকে পড়েছিল। যার ফলে হাত পা ছুটে গিয়েছিল আর হয়তো এইখানে সেখানে পড়ে গিয়েছিল। আর এমনে শরীরের অনেক অঙ্গই তহ আল্গা হয়ে ঝুলে ছিল।
.
রিয়ানাঃ ব্যাসসসস!! চুপ কর তোরা। শুনতেই তহ গাঁয়ের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে।
.
রিংকিঃ হু।
.
আরিশাঃ আচ্ছা চল ক্লাসের টাইম হচ্ছে।
.
.
??
.
.
— ” আসল সত্য তহ কেউ জানে না রিয়ুপাখি। শুধু আমি জানি। তুমি শুনবে আসল সত্যিটা। আচ্ছা ঠিক আছে বলি। হ্যাঁ আমিই ওর এই অবস্থা করেছি। হ্যাঁ আমি!!! তোমার দিকে নজর দেওয়ার জন্য ওকে খুব ভয়ংকর শাস্তি দিয়েছি।
কাল রাতে ওকে অজ্ঞান করে এইখানে এনেছি তারপর ওকে বেঁধে জাগিয়েছি। একটু একটু করে কষ্ট দিয়ে তারপর মেরেছি আমি তাকে। প্রথমে ও যে হাত দিয়ে তোমায় ধরেছিল তা কাটি। তারপর ও তোমায় যে জিহ্বা দিয়ে ওইসব বলেছিল তা কাটি। তারপর ওর চোখ দুটো উবড়ে ফেলি। সারা শরীর ক্ষত বিক্ষত করে ফেলি। এরপর এই এক্সিডেন্টে নাটক সাজিয়ে ওর গাড়ি ব্লাস্ট করিয়ে দেই।
তোমার দিকে তাকানোর ফল মৃত্যু ব্যতিত কিছু নয়। যে তোমার দিকে হাত বাড়াবে তাকে আমি শেষ করে দিব। কেন না তুমি আমার। আমার আসক্তি তুমি। ” এই বলে সে পৈচাশিক হাসিতে মেটে উঠে।