সিজন 1 অধ্যায় 26 রোমান্টিক সাসপেন্স #অভিমান #হুমকি রিয়ানা রহমান সাদাত খান রিয়ান

ভুল স্পর্শের কঠোর প্রতিদান

8 মিনিট পড়া 1,151 শব্দ
ভুল স্পর্শের কঠোর প্রতিদান

সেই ব্যক্তির হাত দুটো ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। আমি আর থাকতে না পেরে পিছে ঘুরেই সেই ব্যক্তির গালে কষিয়ে চড় মেরে দেই।

চড় খাওয়ার সাথে সাথে সে আমার থেকে দূরে সরে যায়। এইবার আমি তার চেহারার দিকে তাকাই। বাইরের কৃত্রিম আলোয় তার চেহারাটা আমার চোখের সামনে স্পষ্ট ভেসে আসে। সে আর কেউ নয় বরং রিয়ান। রিয়ানকে দেখে আমি অবাকের শেষ সীমায় পৌঁছে যাই।

অতীতের কথায় বিভোর হয়ে আমি বর্তমানকে সেই অতীতের সাথে গুলিয়ে ফেলেছিলাম। যার ফল স্বরুপ আমি রিয়ানকে থাপ্পড় দিয়ে বসি। রিয়ানের স্পর্শ চিনতে ভুল করি। এত বড় ভুল কিভাবে করলাম আমি? কিভাবে!

আমি এইবার আহত চোখে রিয়ানের দিকে তাকাই। রিয়ান গালে হাত দিয়ে অবাক চোখে আমায় দেখেই চলেছে। আমি রিয়ানের কাছে আসতে নিলে রিয়ান তার হাত সামনের দিকে তুলে আমায় থামিয়ে দেয়। তারপর ধরা কণ্ঠে বলে,

.

— এমনটা না করলেও পারতে। আগে বললেই পারতে আমার কাছে আশা তোমার পছন্দ নয়। আমি আর তোমার কাছে আসতাম না।

আমার বুঝা উচিৎ ছিল যে তুমি হয়তো আমাকে পুরোপুরিভাবে স্বামী হিসাবে মেনে নিতে পারো নি।

অবশ্য ভুলটা আমারই! আমার তোমার থেকে দূরত্ব বজিয়ে রাখা দরকার ছিল। তোমাকে স্পেশ দেওয়ার দরকার ছিল।

কিন্তু চিন্তা করো না, এখন থেকে আমি আর তোমার কাছে আসব না। যতদিন না তুমি বলবে।

.

এই বলে রিয়ান উল্টো পথে চলা শুরু করে। আমি এতক্ষণ মূর্তির ন্যায় দাড়িয়ে ছিলাম। রিয়ান আমায় এইভাবে ভুলটা বুঝবে বুঝতে পারি নি।

রিয়ানকে যেতে দেখে আমার হুস হয়। আমি দৌড়ে গিয়ে ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরি। আর বলতে থাকি।

.

— আপনি আমায় ভুল বুঝছেন রিয়ান। আমি আপনাকে চড় মারতে চাই নি। আমি বুঝি নি যে তা আপনি। যা হয়েছিল তা অনিচ্ছাকৃত। সরি রিয়ান! আ’ম রেলি ভেরি সরি।

আপনি আমার সব রিয়ান। সব! আপনার নিকট তো আমি কবেই নিজেকে সপে দিয়েছিলাম। স্বামী বলে তো সেইদিনই স্বীকৃতি দিয়েছিলাম যেইদিন আমি কবুল বলেছিলাম।

আজকে দেওয়া চড়টা আমি সত্যি আপনাকে দিতে চাই নি। আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাই নি।সরি রিয়ান! আ’ম সরি। আমি তো.. আমি তো..

.

আর বলতে পারলাম না। কাঁদতে কাঁদতে আমার হিচকি উঠে গিয়েছে। পারছিলাম না এইসব সহ্য করতে। রিয়ানের অভিমান যে আমি গ্রহণ করতে পারছিলাম না।

আমার কান্না শুনে রিয়ান সাথে সাথে ঘুরে দাড়ায়। তারপর আমার দুইগালে হাত রেখে আমার চোখের নোনা জল গুলো মুছে দেয়। আর উত্তেজিত কণ্ঠে বলতে থাকি।

.

— তুমি কান্না করছো কেন? তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না। প্লিজ ডোন্ট ক্রায়! তোমার কান্না আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।

.

— সরি রিয়ান, আ’ম সরি। আমি সত্যি আপনাকে চড়টা মারতে চাই নি। বিশ্বাস করেন! আমি ভেবেছিলাম অন্য কেউ তাই আমি চড়টা মেরে বসি।

.

— কার এত বড় সাহস আছে যে আমার জানের দিকে হাত দিবে শুনি! আমার জানের দিকে যদি কেউ হাতও বাড়ায় তাহলে তাকে আমি শেষ করে দিব।

তুমি আমার বুঝেছ! আমার আসক্তি! যা আমি ব্যতীত আর কাউরো নয়।

.

এই বলে আমার দুই চোখের পাতায় চুমু দেয়।

.

— তাও আ’ম সরি। অনিচ্ছাকৃত হলেও আমি আপনাকে অনেক বড় আঘাত করে বসেছি। সরি!

.

— ইট ইজ ওকে রিয়ুপাখি। আমি বুঝতে পেরেছি তুমি এইটা ইচ্ছাকৃত ভাবে করো না। সো ডোন্ট বি সরি। আর এমনেও আমাকে দেওয়া এই চড়ে কারণে তোমার চোখে পানি এসেছে। আমার ব্যবহারের জন্য তোমার চোখে পানি এসেছে। যার জন্য আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না। কখনো না!

.

— না আপনার কোন দোষ নেই। আপনি যা বুঝেছেন তাই বলেছেন। এতে আপনার কোন দোষ নেই। আমারই ভুল হয়েছে। আমি অন্য কেউ ভেবে আপনাকে চড়টা মেরে বসি।

.

— কিন্তু তুমি এত রাতে কাকে মনে করেছিলে যে তোমাকে স্পর্শ করার স্পর্ধা দেখাবে?

.

— ককেউ ননা মমানে.. তোতলিয়ে।

.

(মনে মনে– আপনাকে এখন আমি এইসব বলতে পারবো না। আমি চাই না আপনি আবার আমায় ভুল বুঝুন। তার উপর আপনাকে এই সত্যটা বলার সাহসও আমার নেই। আপনকে এই সত্যিটা জানানোর আগে আমার সাহস সংচয় করতে হবে। এইভাবেই আপনাকে আমি এই সত্যিটা বলতে পারবো না।)

.

— মানে কি? আর তুমি এইভাবে তোতলাচ্ছো কেন?

.

— না মানে আসলে, এত রাতে তো আর আপনার আশার কথা না। তাই ভেবেছিলাম অন্য কেউ হয়তো আমার সাথে অসভ্যতামি করছে।

.

— না এসে কি উপায় ছিল? সকাল থেকে আজ একবারও ফোন দাও নি আমায়। তারউপর আমি যখন ফোন দিলাম তুমি তুললে না। উল্টো মেসেজ করে বললে পরে ফোন দিবে। আর তো দিলেই না৷

তাই আমার আসতে হলো। যখন উঠছিলাম তখন তোমায় দেখলাম ছাদের দিকে যেতে। তাই তোমার পিছু পিছুই চলে আসলাম। আর এসেই তো এইসব হয়ে গেল।

.

— সরি!!

.

— হুহ! এতই যখন সরি বলছো তাহলে এখন আমার রাগ ভাঙতে ঘুষ চাই।

.

— আচ্ছা বলুন কি ঘুষ চাই আপনার?

.

— যে গালে মেরেছ তা অনেক ব্যথা করছে। তাই সেই গালে একটা কিস চাই। দুষ্টুমির ছলে।

.

রিয়ান জানে আমি এমন কখনো করবে না। কিন্তু রিয়ানকে আমি অবাক করে তার গালে কিস করে দেই। রিয়ান এইবার অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি মুচকি হেসে বলি,

.

— নেন দিয়ে দিলাম আপনার ঘুষ।

.

রিয়ান কিছু না বলে শুধু মুচকি হাসে। তারপর বলে,

.

–অবশ্য এইখানে আশার আরেকটা রিজন আছে।

.

— কি?

.

— তোমাকে কিছু জানানোর ছিল।

.

আমি এইবার কৌতূহলি চোখে তার দিকে তাকাই। সে আমার কৌতূহল বুঝতে পেরে বলে।

.

— Tomorrow is our engagement!

.

— আর ইউ সিরিয়াস? মানে কালকে? সত্যি!

.

— ইয়েস মাই লাভ। সত্যি! কালকে সকালেই তোমার ড্রেস, অর্নামেন্টস সব চলে আসবে। দুপুরে মেকাপ আর্টিস আসবে তোমাদেরকে সাজাতে। সন্ধ্যার দিকে একটা কার তোমায় আর আমার শালীদেরকে পিক করতে আসবে।

জায়গা আর বাকি ডিটেইলস আমি পরে ইনফর্ম করে দিব কেমন।

.

— হু। মুচকি হেসে।

.

আমায় কপালে একটা ভালবাসার এক স্পর্শ একে বলে,

— সবসময় যেন তোমায় এমনই খুশি দেখি বুঝলে। আর যেন তোমায় কাঁদতে না দেখি।

.

— হু।

.

— এখন চল। অনেক কাজ আছে কালকে।

.

আমি কিছু না বলে শুধু মাথা দুলাই।

.

.

??

.

ধারালো এক ছুরি হাতে নিয়ে বসে আছে রিয়ান। সামনেই রিয়ানার সেই ছবিটি।

.

— কিভাবে পারলাম আমি তোমায় কষ্ট দিতে? কিভাবে! আজ আমার জন্য তোমার চোখ দিয়ে পানি পড়েছে। তার মূল্য তো আমায় দিতেই হবে।

.

এই বলে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়ায় সে। হাতে থাকা সেই ধারালো ছুরিটা নিজের বুকের বা পাশে চালাতে শুরু করে। বুকের বা পাশে হার্ট সেপ এঁকে তার মধ্যে R+R লিখে সে।

রক্ত ঝড়ে পড়ছে সমানে। কিন্তু তার সেইদিকে খেয়াল নেই।

সে আয়নার মধ্যেই তাকিয়ে বলে।

.

— আজ এই প্রথমবার তোমার চোখে আমি ঘৃণা দেখি। তাও এমন তেমন নয় মাত্রাতিরিক্ত ঘৃণা। সাথে ছিল রাগ, ক্রোধ আর ভয়।

তোমার চোখ আজ অন্য কথা বলছিল। মনে হচ্ছিল কিছু একটা লুকাচ্ছো তুমি। কেন বার বার মনে হচ্ছে এই চড়ের পিছের রহস্য যেন অন্য কিছুই। কিন্তু তা কি?

.

.

??

.

মনের মধ্যে খুশির স্রোত বয়ে চলেছে। বিশ্বাসই হচ্ছে না কাল আমার এংগেইজমেন্ট। অতীতকে ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায়। নিজের বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু এই খুশিটা যেন আর থাকতে চাইলো না। খুশি চলে গিয়ে আবার নেমে আসলো সেই অন্ধকার।

বাইরে ঝুম বৃষ্টি। শীতল হাওয়া বয়েই চলেছে। হুট করে তখনই আমার মোবাইল টুং করে উঠলো। আমি মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি অপরিচিত নাম্বার থেকে একটি মেসেজ। মেসেজটি ওপেন করতেই আমার হাত পা কাঁপা শুরু হয়ে গেল। ভয় যেন আবার ঝেঁকে ঝরলো আমায়। মেসেজটিতে লিখা।

.

” I’m back, to make your life hell.I will never let you be happy.”

অধ্যায় 26 সমাপ্ত

আপনি এই অধ্যায়টি পড়া শেষ করেছেন। পরবর্তী পর্বে যান অথবা আপনার প্রতিক্রিয়া জানান!

মন্তব্যসমূহ

0

আলোচনায় যোগ দিন

মতামত জানাতে এবং পাঠকদের সাথে আলোচনায় অংশ নিতে লগইন করুন।

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

প্রথম মন্তব্যটি করে আলোচনা শুরু করুন!